প্রযুক্তিবিদ্যুৎ না থাকলে ফ্রিজ কতক্ষণ ঠান্ডা থাকে
বিদ্যুৎ না থাকলে ফ্রিজ কতক্ষণ ঠান্ডা থাকে
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকালে কি ফ্রিজের খাবার ফেলে দিতে হয়?
গ্রীষ্মের এক ঝড়ের দিনের কথা ভাবুন। বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। হঠাৎ একসময় পুরোপুরি চলে গেল। পুরো বাড়ি নিস্তব্ধ। আপনি হয়তো কোনো কাজে ব্যস্ত, ঘুমাচ
বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকলে একটি ফ্রিজে রাখা খাবার চার ঘণ্টা পর্যন্ত নিরাপদ থাকতে পারে। অন্যদিকে, একটি ফ্রিজারে হিমায়িত খাবার প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত জমাট অবস্থায় থাকে। এই দুটি যন্ত্র একই অংশ হলেও বিদ্যুৎ না থাকলে তাদের খাদ্য সংরক্ষণের সময়সীমায় পার্থক্য দেখা যায়।
বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে ফ্রিজের ভেতরে তাপ শোষণ করে বাইরে বের করে দেওয়ার প্রক্রিয়া থেমে যায়। কম্প্রেসর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ফ্রিজ তখন আর সক্রিয়ভাবে ঠান্ডা করতে পারে না। এ অবস্থায় ফ্রিজ একটি বড় তাপ-নিরোধক বাক্সের মতো কাজ করে, যা অনেকটা পিকনিক কুলারের অনুরূপ।
ঘরের তুলনামূলক উষ্ণ পরিবেশ থেকে তাপ ধীরে ধীরে ফ্রিজের দেয়াল ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করতে থাকে। এর ফলে ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পায়। ফ্রিজের দেয়াল কয়েক সেন্টিমিটার পুরু ক্লোজড-সেল পলিইউরেথেন ফোম দিয়ে তৈরি থাকে, যা একটি ভালো তাপ-নিরোধক হিসেবে কাজ করে।
এই তাপ-নিরোধক ক্ষমতা বাইরের তাপকে ভেতরে প্রবেশের গতি কমিয়ে দেয়, তবে তাপের প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে আটকানো যায় না। তাপ প্রবাহের হার দেয়ালের তাপ পরিবাহিতা, ফ্রিজের পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল এবং বাইরের ও ভেতরের তাপমাত্রার পার্থক্যের ওপর নির্ভর করে। বিজ্ঞানের ভাষায়, তাপ প্রবাহের হার = U × A × ΔT, যেখানে U তাপ পরিবাহিতার পরিমাপ, A পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল এবং ΔT তাপমাত্রার পার্থক্য।
সাধারণত, ফ্রিজারের তাপমাত্রা প্রায় মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে, যেখানে ফ্রিজের তাপমাত্রা প্রায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাইরে যদি ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকে, তাহলে ফ্রিজারের সঙ্গে বাইরের তাপমাত্রার পার্থক্য হয় ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফ্রিজের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য প্রায় ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ফ্রিজারের ভেতরে প্রচুর জমাট খাবার বা বরফ থাকায় এটি দীর্ঘক্ষণ ঠান্ডা থাকে। বিদ্যুৎ চলে গেলে ফ্রিজারের ভেতরের কোনো কিছুই সক্রিয়ভাবে অন্য কোনো বস্তুকে ঠান্ডা করে না। বরফ গলতে প্রচুর শক্তি লাগে, যা গলনের সুপ্ত তাপ নামে পরিচিত।
বরফ গলার সময় এর তাপমাত্রা প্রায় শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসেই স্থির থাকে। বরফ সম্পূর্ণরূপে গলে না যাওয়া পর্যন্ত সেই অতিরিক্ত শক্তি মূলত বরফের অবস্থার পরিবর্তনে ব্যবহৃত হয়। প্রতি গ্রাম বরফ গলাতে প্রায় ৩৩৪ জুল শক্তি প্রয়োজন হয়।
উদাহরণস্বরূপ, একটি ফ্রিজারে প্রায় ১৫ কেজি হিমায়িত খাবার থাকলে, এই বিশাল পরিমাণ বরফ গলতে উল্লেখযোগ্য সময় এবং শক্তি লাগে। এ কারণেই ফ্রিজারের খাবার ফ্রিজের চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে ঠান্ডা ও নিরাপদ থাকে।
মতামত (0)