শিক্ষা

বিএমইউতে পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশন কর্মশালা: শ্বাসতন্ত্রের রোগীদের পুনর্বাসনে জোর

বিএমইউতে পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশন কর্মশালা: শ্বাসতন্ত্রের রোগীদের পুনর্বাসনে জোর
বিএমইউতে পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশন কর্মশালা: শ্বাসতন্ত্রের রোগীদের পুনর্বাসনে জোর
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশন বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে শ্বাসতন্ত্রের রোগীদের পুনর্বাসনে বহু-বিভাগীয় সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

গতকাল রোববার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) মিলন হল এক্সটেনশনে “পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশন” বিষয়ক দিনব্যাপী একটি হ্যান্ডস-অন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ এবং বাংলাদেশ সোসাইটি অফ ফিজিকেল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশান (বিএসপিএমআর) যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. এম. এ. শাকুর, PhD। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডা. এফ. এম. সিদ্দিকী।

সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ডা. এম. এ. শাকুর বলেন, দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগ যেমন সিওপিডি, অ্যাজমা, ব্রঙ্কিয়েক্টেসিস এবং ইন্টারস্টিশিয়াল লাং ডিজিজে আক্রান্ত অনেক রোগীর ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ওষুধ যথেষ্ট কার্যকর হয় না। এসব রোগীরা ধীরে ধীরে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন, কর্মক্ষমতা হারান এবং দৈনন্দিন কাজ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সক্ষমতা কমে যায়। বিশেষ করে স্বল্প-সম্পদের পরিবেশে দরিদ্র ও ধনী উভয় শ্রেণির রোগীদেরকে লাগসই প্রযুক্তিতে পুনর্বাসনের মাধ্যমে কীভাবে কর্মক্ষম ও স্বনির্ভর করে তোলা যায় এবং সমাজ ও জাতির উন্নয়নে তাঁদের পুনরায় সম্পৃক্ত করা যায়, তা এই কর্মশালার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, এই কর্মশালার মাধ্যমে পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশনকে একটি কার্যকর ও টেকসই সেবা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ শুরু হলো।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডা. এফ. এম. সিদ্দিকী এই হ্যান্ডস-অন পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশন কর্মশালার প্রশংসা করেন। তিনি জানান, পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশনকে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে এ ক্ষেত্রে একটি সেন্টার অফ এক্সিলেন্স হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।

উপাচার্য আরও বলেন, পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশনের উন্নয়নে ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন, পালমোনোলজি, ফিজিওথেরাপি, নার্সিং, নিউট্রিশন, সাইকোলজি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনের মধ্যে বহু-বিভাগীয় সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এ ধরনের আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং ক্লিনিক্যাল সার্ভিস ডেভেলপমেন্টকে উৎসাহিত করবে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, যিনি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগে কর্মরত। তিনি দক্ষতার সঙ্গে পুরো কর্মশালার অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এবং বিভিন্ন পর্বের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেন। তিনি পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশনকে বাংলাদেশে আরও কার্যকর ও টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সব বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য-পেশাজীবীকে সমন্বিত ও বহু-বিভাগীয় পদ্ধতির মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ নাদিম কামাল। তিনি অংশগ্রহণকারী ও অতিথিদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশে পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশন কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর সেক্রেটারি জেনারেল এবং এনআইডিসিএইচ-এর পরিচালক ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল তাঁর বক্তব্যে পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশনের উন্নয়নে বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তিনি বিএসপিএমআর-এর সঙ্গে ড্যাব-এর সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) করে প্রতিবছর এক বা একাধিক এ ধরনের কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। এর মাধ্যমে বিভিন্ন বিশেষত্বের বিশেষজ্ঞরা একত্রে কাজ করে দেশে পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশনকে আরও এগিয়ে নিতে পারবেন।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) প্রফেসর ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ তাঁর বক্তব্যে উপাচার্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তিনি পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশন কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং এ ধরনের কর্মসভাতে অন্যান্য বিষয়ের ডাক্তারদের অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও বলেন।

সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক প্রফেসর ডা. সাইফুল্লাহ মুনশী তাঁর বক্তব্যে সমাজে পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশনের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, যদিও তিনি ভাইরোলজি বিভাগের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তবুও বিভিন্ন শ্বাসতন্ত্রের রোগ ও সংক্রমণের পর রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সক্ষমতা ও জীবনযাত্রার মান ফিরিয়ে আনতে পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বাংলাদেশে এ ধরনের সেবা আরও বিস্তৃত করার ওপর জোর দেন।

এনআইডিসিএইচ-এর পরিচালক এবং চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (সিএইচএবি)-এর সেক্রেটারি জেনারেল ডা. গোলাম সারওয়ার লিয়াকত হোসেন ভূইয়া তাঁর বক্তব্যে পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশনে সহযোগিতা এবং বহু-বিভাগীয় পদ্ধতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বক্ষব্যাধি, ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে রোগীদের আরও উন্নত ও পূর্ণাঙ্গ সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।

কর্মশালার প্রধান রিসোর্স পার্সন প্রফেসর ডা. মনসুর হাবিব পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশন কার্যক্রমের উন্নয়নে তাঁর সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশনের একটি সুসংগঠিত ও দক্ষ সেক্টর গড়ে তুলতে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...