জাতীয়

বিমানবাহিনীর নিহত তিন সদস্যের সামরিক মর্যাদায় জানাজা ও ফিউনারেল প্যারেড সম্পন্ন

বিমানবাহিনীর নিহত তিন সদস্যের সামরিক মর্যাদায় জানাজা ও ফিউনারেল প্যারেড সম্পন্ন
বিমানবাহিনীর নিহত তিন সদস্যের সামরিক মর্যাদায় জানাজা ও ফিউনারেল প্যারেড সম্পন্ন
হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বিমানবাহিনীর তিন সদস্যের সামরিক মর্যাদায় জানাজা ও ফিউনারেল প্যারেড আজ সম্পন্ন হয়েছে।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বিমানবাহিনীর তিন সদস্যের সামরিক মর্যাদায় জানাজা ও ফিউনারেল প্যারেড সম্পন্ন হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ঢাকা সেনানিবাসে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ঘাঁটি বীর উত্তম এ কে খন্দকার (কুর্মিটোলা)–এর সি–১৩০ হ্যাঙ্গারে এই জানাজা ও ফিউনারেল প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

নিহত তিন সদস্য হলেন ওয়ারেন্ট অফিসার সুলতান মাহমুদ, করপোরাল মনিরুজ্জামান পিয়াস এবং এলএসি মো. জুবাইদুল ইসলাম। গতকাল সোমবার রাতে তাঁরা কিউআরএফের (কুইক রেসপন্স ফোর্স) দায়িত্ব পালনকালে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। তাঁরা দেশের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন।

গতকাল সোমবার রাত আনুমানিক ৯টা ৩৫ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিমানবাহিনীর সাত সদস্যকে বহনকারী একটি জিপ কিউআরএফের দায়িত্ব পালনকালে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তিন সদস্য নিহত এবং অপর চারজন গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পরপরই বিমানবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আহতদের উদ্ধার করেন। তাঁদেরকে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে যাওয়া হয়। সিএমএইচ-এর কর্তব্যরত চিকিৎসক ওয়ারেন্ট অফিসার সুলতান মাহমুদ, করপোরাল মনিরুজ্জামান পিয়াস এবং এলএসি মো. জুবাইদুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।

উক্ত দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত বিমানবাহিনীর অপর চারজন সদস্য বর্তমানে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করা হয়েছে।

নিহত বিমানবাহিনীর সদস্যদের জানাজায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সেনাবাহিনীপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জানাজা নামাজে অংশ নেন।

জানাজা শেষে বিমানবাহিনীপ্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নিহত সদস্যদের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এই সময় উপস্থিত সকলের মধ্যে এক শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছিল।

অনুষ্ঠানে নিহত সদস্যদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সাবেক বিমানবাহিনীপ্রধান, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার সদস্যরাও এই ফিউনারেল প্যারেডে অংশ নেন।

জানাজা ও ফিউনারেল প্যারেড শেষে নিহতদের মরদেহ নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। বিমানবাহিনীর একটি প্রতিনিধিদল যথাযথ সামরিক মর্যাদায় তাঁদের দাফনকার্য সম্পন্ন করবে বলে আইএসপিআর জানিয়েছে।

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয় এবং তাঁদের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

আইএসপিআর আরও জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সদস্যরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরসমূহে দায়িত্ব পালন করছেন। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় তাঁরা কাজ করছেন।

আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত করাই তাঁদের প্রধান দায়িত্ব। বিমানবাহিনীর সদস্যরা সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে পেশাদারিত্বের সাথে নিরলসভাবে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...