জাতীয়

ফেনীতে ডেঙ্গু রোগীর রেকর্ড বৃদ্ধি, আগস্টে সর্বোচ্চ শনাক্ত

ফেনীতে ডেঙ্গু রোগীর রেকর্ড বৃদ্ধি, আগস্টে সর্বোচ্চ শনাক্ত
ফেনীতে ডেঙ্গু রোগীর রেকর্ড বৃদ্ধি, আগস্টে সর্বোচ্চ শনাক্ত
ফেনীতে চলতি বছরের আগস্ট মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ১৪৫ জনে পৌঁছেছে। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত মোট ২৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার বেশিরভাগই আগস্টে।

চলতি বছরের আগস্ট মাসে ফেনীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে মোট ২৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে আগস্ট মাসেই ১৪৫ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।

গত জুলাই মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৭২ জন। গতকাল (সোমবার, ৩১ আগস্ট) ফেনীর সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত ডেঙ্গু প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় জেলায় আরও ১০ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

বর্তমানে ১৭ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ১২ জন, দাগনভূঞা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, ছাগলনাইয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন এবং ফুলগাজী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। চলতি বছরের আট মাসে ফেনী সদরে ১৫৩ জন, দাগনভূঞায় ৩৫ জন, সোনাগাজীতে ২৩ জন, ছাগলনাইয়ায় ১৬ জন, পরশুরামে ১০ জন ও ফুলগাজীতে ৯ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য জেলায় ১ হাজার ৮৩৮টি কিট মজুত রয়েছে। এসব কিট দিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম সচল রাখা হচ্ছে। এর মধ্যে ফেনী সদরে ৮৭২টি, দাগনভূঞায় ১৮১টি, সোনাগাজীতে ৬৪টি, ছাগলনাইয়ায় ১২৬টি, পরশুরামে ৪৫২টি এবং ফুলগাজীতে ১১৩টি কিট রয়েছে।

জুলাই মাসের তুলনায় আগস্ট মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। মশক নিধনে পর্যাপ্ত কার্যক্রম না থাকার অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বাড়ছে। যদিও স্বাস্থ্য বিভাগ দাবি করছে, পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ফেনী জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্তদের বড় অংশ এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। নির্ধারিত শয্যার তুলনায় রোগীর চাপ বাড়ায় একই ওয়ার্ডে গাদাগাদি করে সেবা দেওয়া হচ্ছে। রোগীর এই অতিরিক্ত চাপে চিকিৎসা ও সেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে হাসপাতালটির চিকিৎসক ও নার্সরা হিমশিম খাচ্ছেন।

ডেঙ্গু চিকিৎসা সরঞ্জামের বিষয়ে ফেনী হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোবারক হোসেন দুলাল জানান, ডেঙ্গু পরীক্ষার প্রয়োজনীয় কিটের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আরও কিট সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে, তাই পরীক্ষা বা চিকিৎসায় কোনো সংকট হবে না।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ফেনী পৌরসভার প্রস্তুতি নিয়ে পৌরসভার মেডিকেল অফিসার কৃষ্ণপদ সাহা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পৌর এলাকার ১৮টি ওয়ার্ডে নিয়মিত ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ড্রেনগুলো পরিষ্কারসহ প্রতি সপ্তাহে শনিবার ও মঙ্গলবার ওষুধ ছিটানো হয় এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানেই বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে।

ফেনীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে সিভিল সার্জন ডা. মো. আরিফুজ্জামান জানান, ফেনী শহরে এডিস মশার বংশ বিস্তার হচ্ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সকলকে সচেতন থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, বাসা-বাড়ির আশেপাশে সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, যাতে সেখানে পানি না জমে থাকে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...