খেলাধুলা

বিশ্বকাপ ফাইনাল বিতর্কে পারেদেসের ১০ ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা, ফিফার রায়ে প্রশ্ন আর্জেন্টিনার

বিশ্বকাপ ফাইনাল বিতর্কে পারেদেসের ১০ ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা, ফিফার রায়ে প্রশ্ন আর্জেন্টিনার
বিশ্বকাপ ফাইনাল বিতর্কে পারেদেসের ১০ ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা, ফিফার রায়ে প্রশ্ন আর্জেন্টিনার
বিশ্বকাপ ফাইনালের পর হাতাহাতির ঘটনায় আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে ১০ ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। এই শাস্তি ২০১৪ সালে সুয়ারেজের কামড়ানোর ঘটনার চেয়ে বেশি হওয়ায় আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন প্রশ্ন তুলেছে এবং আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিশ্বকাপ ফাইনালের পর মাঠে হাতাহাতির ঘটনায় আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে ১০ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ২০১৪ বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষকে কামড়ানোর ঘটনায় লুইস সুয়ারেজের ৯ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার চেয়ে এই শাস্তি বেশি হওয়ায় প্রশ্ন তুলেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। পারেদেসের পাশাপাশি নাহুয়েল মলিনাকেও ৭ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে কয়েকজন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এই ঘটনায় পারেদেস স্পেনের এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরেন এবং গাভিকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। এই কাজের জন্য তাকে ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ৯০ হাজার ডলার জরিমানাও করা হয়েছে।

এএফএর আইনি উপদেষ্টা আন্দ্রেস পাটোন উরিচ দাবি করেছেন, পারেদেসের শাস্তি তার কাজের তুলনায় ‘স্পষ্টতই অতিরিক্ত’। ফিফার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে শাস্তি কমানোর চেষ্টা করবে আর্জেন্টিনা। ডি স্পোর্টস রেডিওকে উরিচ জানান, ২০১৪ সালে সুয়ারেজ প্রতিপক্ষকে কামড়ে দেওয়ার পরও ৯ ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছিলেন, অথচ পারেদেস পেয়েছেন ১০ ম্যাচ।

উরিচ আরও বলেন, তাদের মতে আরও গুরুতর কিছু ঘটনার ক্ষেত্রেও একই বা কম শাস্তি হয়েছে। তিনি একটি নজির হিসেবে উল্লেখ করেন, এক ইউরোপীয় ফুটবলার নাৎসি প্রতীক প্রদর্শন করে ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন। এএফএর মতে, শাস্তির মাত্রা নির্ধারণে এসব নজির পারেদেসের ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

এ বিষয়ে উরিচ বলেছেন, তারা ভিডিওগুলো ফ্রেম ধরে ধরে দেখেছেন এবং তাদের ধারণা ছিল শাস্তি এর চেয়ে কম হওয়া উচিত ছিল। তার মতে, পারেদেস ও মলিনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা স্পষ্টতই অতিরিক্ত। নাহুয়েল মলিনাকে ৭ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ৯০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে।

আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবের্তো আয়ালা ৩ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এবং ৩০ হাজার ডলার জরিমানা পেয়েছেন। তবে থিয়াগো আলমাদার ১ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ নেই বলে এএফএর আইনি উপদেষ্টা জানিয়েছেন। সংস্থাটি মূলত পারেদেস, মলিনা ও আয়ালার শাস্তি কমানোর দিকেই নজর দিচ্ছে।

এএফএ এখন ফিফার সিদ্ধান্তের পূর্ণাঙ্গ কারণ জানতে চাইবে। এরপর প্রমাণ ও আইনি যুক্তি দিয়ে আপিল করা হবে। আপিল কমিশনও যদি শাস্তি বহাল রাখে, তাহলে আর্জেন্টিনা কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসে (সিএএস) যাওয়ার কথা ভাবছে।

আর্জেন্টিনার সামনে ২০১৮ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে লিওনেল মেসির একটি পুরোনো নজির আছে। সহকারী রেফারিকে গালাগাল করার অভিযোগে মেসিকে ৪ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, যা পরে আপিলে পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়। এএফএ সেই নজিরের ভিত্তিতে এবার পারেদেস ও মলিনাদের শাস্তি কমানোর আশা করছে। তাদের প্রধান প্রশ্ন হলো, প্রতিপক্ষকে কামড়ানোর জন্য সুয়ারেজের শাস্তি যেখানে ৯ ম্যাচ ছিল, সেখানে বিশ্বকাপ ফাইনালের হাতাহাতির ঘটনায় পারেদেসকে কেন এক ম্যাচ বেশি নিষিদ্ধ করা হলো।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...