খেলাধুলাবিশ্বকাপ ক্রিকেট: ২০২৩ আসরের রেশ ও ২০২৭ এর প্রস্তুতি
বিশ্বকাপ ক্রিকেট: ২০২৩ আসরের রেশ ও ২০২৭ এর প্রস্তুতি
২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের রেশ এখনো কাটেনি, এরই মধ্যে ২০২৭ সালের পরবর্তী আসরের প্রস্তুতি ও কৌশল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতের কোচ গৌতম গম্ভীর ফিটনেস এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ভূমিকা নিয়ে জোর দিচ্ছেন।
ত্রয়োদশ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারতকে ছয় উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন শিরোপা জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বকাপ শেষ হলেও এর উত্তেজনা ও আলোচনা এখনো চলছে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা সেরা একাদশ নির্বাচন করেছেন; আইসিসির বিশ্বকাপ সেরা একাদশে জায়গা পেয়েছিলেন একাধিক খেলোয়াড়।
এছাড়া, ডি ভিলিয়ার্স তার বিশ্বকাপ একাদশে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। ক্রিকইনফোর বিশ্বকাপ সেরা একাদশেও বিভিন্ন খেলোয়াড় স্থান পেয়েছিলেন। বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে ও বল হাতে সেরা দশের তালিকাও প্রকাশ করা হয়।
বিশ্বকাপ জয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার জয়ের নায়ক হেডের নানা রেকর্ড তৈরি হয়। বিশ্বকাপ জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই অস্ট্রেলিয়ার মিচেল মার্শ সমালোচিত হন। ভারতের পরাজয়ে শেবাগ ও গম্ভীরসহ বিভিন্ন ক্রিকেটার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
অস্ট্রেলিয়াকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় পাকিস্তানিরা শুভেচ্ছা জানায়। বিশ্বকাপ খুইয়ে ড্রেসিংরুমে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির প্রতিক্রিয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল। রোহিত শর্মাকে উদ্দেশ্য করে 'ভারত তোমার সঙ্গে আছে' এমন মন্তব্যও করা হয়।
এদিকে, ডেভিড ওয়ার্নার ভারতের কোচ কাইফকে খোঁচা দিয়েছিলেন। বাবর আজম কোহলিকে 'খোঁচা' দেন। বিশ্বকাপ ফাইনালের পর রোহিতদের সঙ্গে কোচ দ্রাবিড়ের শেষ দিন ছিল।
সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে মাহমুদউল্লাহ রোহিত শর্মাকেও পেছনে ফেলেছিলেন। বিরাট কোহলিকে অন্তঃসত্ত্বা আনুশকা সান্ত্বনা দিয়েছিলেন। বাবা-ছেলের ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয় ইতিহাসে প্রথম ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
২০২৭ সালের আসন্ন ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে ভারতের জন্য ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফিটনেস ও পর্যাপ্ত খেলার সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর বিশ্বকাপের আগে হার্দিক পান্ডিয়া ও জাসপ্রিত বুমরাহকে পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলানোর ওপর জোর দিয়েছেন। তার মতে, কোনোভাবেই 'অর্ধেক প্রস্তুত' হয়ে বিশ্বকাপে যাওয়া যাবে না।
এক সাক্ষাৎকারে গম্ভীর বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে হার্দিক ও বুমরাহ ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হার্দিকের মতো অলরাউন্ডার খুব বেশি দলে নেই, যিনি দশ ওভার বোলিং করতে পারেন এবং ছয় বা সাত নম্বরে ব্যাটিং করে এতটা প্রভাব ফেলতে সক্ষম। হার্দিকের জন্য ম্যাচ খেলার সময় পাওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আইপিএলের পর থেকে তিনি খুব বেশি ক্রিকেট খেলেননি।
গম্ভীর বুমরাহর ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, বুমরাহকে কতটা ওয়ানডে খেলানো যায়, সেটি ভাবতে হবে। পাশাপাশি টেস্ট ক্রিকেটও সমান গুরুত্বপূর্ণ, তাই তার জন্য কতটা ওয়ার্কলোড এবং কতটা ম্যাচ খেলা আদর্শ হবে, তা ঠিক করা জরুরি।
অন্যদিকে, বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা আসন্ন ২০২৭ বিশ্বকাপে ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারেন। যখন দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে পরবর্তী ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে, তখন বিরাটের বয়স উনচল্লিশের ঘরে পৌঁছাবে এবং রোহিত চল্লিশে পা দেবেন। বয়সের এই কাঁটা এবং প্রোটিয়াদের পেস-বান্ধব বাউন্সি উইকেট তাদের জন্য নিজেদের প্রমাণ করার একটি বড় চ্যালেঞ্জ বটে।
সাবেক ক্রিকেটার সুরেশ রায়না বলেন, রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলিকে নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। তিনি তাদের সঙ্গে অনেক ম্যাচ খেলেছেন। রায়নার মতে, এই দুজন দলে থাকলে ভারতের ট্রফি জয়ের সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ পর্যন্ত থাকবে।
আফ্রিকার চিরচেনা গতির উইকেটে অতি-আক্রমণাত্মক হওয়ার চেয়ে দেখেশুনে ধীরস্থির ব্যাটিং বেশি কাজে দেবে। বয়স বাড়ার কারণে শারীরিক ফিটনেস এবং নিখুঁত টাইমিংয়ের সমন্বয় ধরে রাখা এই তারকা জুটির জন্য একটি বড় পরীক্ষাও হতে যাচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বিরাট কোহলির ব্যাট বরাবরই চওড়া। প্রোটিয়াদের ডেরায় চৌদ্দটি ওয়ানডে খেলে ৭৪.৮৩ গড়ে তিনি ৮৯৮ রান করেছেন। বিশ্বকাপ মঞ্চে ৩৭টি ম্যাচে তার সংগ্রহ ১,৭৯৫ রান, যা ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বিরাট কোহলির ঝুলিতে পাঁচটি সেঞ্চুরি ও বারোটি ফিফটি রয়েছে। ওয়ানডে ফরম্যাটে রেকর্ড ৫৪টি সেঞ্চুরির মালিক বিরাট এখনো যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বিসিসিআইয়ের 'অটো চয়েস' এবং দলের মূল কাণ্ডারি।
অন্যদিকে, প্রোটিয়া কন্ডিশনে রোহিত শর্মার পরিসংখ্যান কিছুটা ভিন্ন। সেখানে চৌদ্দটি ম্যাচে তার রান মাত্র ২৫৬, গড়টাও ১৯.৬। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে রোহিত অন্য ধাঁচের ব্যাটার হয়ে ওঠেন। মেগা এই ইভেন্টে আটাশ ইনিংসে সাতটি সেঞ্চুরি ও ছয়টি হাফ-সেঞ্চুরিসহ ৬০.৫৭ গড়ে তিনি ১,৫৭৫ রান তুলেছেন।
সম্প্রতি ফর্ম ও ফিটনেস নিয়ে ওঠা সব গুঞ্জন ব্যাট হাতেই উড়িয়ে দিয়েছেন রোহিত। ইংল্যান্ড সফরে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়ার পর লর্ডসের ঐতিহাসিক মাঠে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন করেন তিনি। আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের দলেও এই ডানহাতি ওপেনারকে রাখা হয়েছে। রোহিত সাফ জানিয়েছেন, অবসরের গুজবগুলো ভিত্তিহীন এবং অন্তত বিশ্বকাপের আগে ক্রিকেটকে বিদায় জানাচ্ছেন না তিনি।
অভিজ্ঞ এই জুটির পাশাপাশি যশস্বী জয়সওয়ালের মতো তরুণরাও সুযোগ পেলে নিজেদের উজাড় করে দিতে মুখিয়ে আছেন। সব মিলিয়ে, আফ্রিকার মতো চ্যালেঞ্জিং কন্ডিশনে কোহলি-রোহিতের অভিজ্ঞতা যেকোনো মুহূর্তেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে ভারতকে মোমেন্টাম এনে দিতে সক্ষম।
মতামত (0)