খেলাধুলাআসিয়ান কাপ: ৯ গোল হজম করে ২ গোল দিল বাংলাদেশ
আসিয়ান কাপ: ৯ গোল হজম করে ২ গোল দিল বাংলাদেশ
আসিয়ান কাপের ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে।
জাকার্তায় অনুষ্ঠিত আসিয়ান কাপের এক ম্যাচে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে ১১ গোলের উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই দেখা গেছে। র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ৬৪ ধাপ এগিয়ে থাকা ইন্দোনেশিয়া ৯-২ গোলের বড় ব্যবধানে জয় লাভ করে। এই জয়ের ফলে ইন্দোনেশিয়া আসিয়ান কাপের ফাইনালে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করেছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই ইন্দোনেশিয়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। তবে প্রথম গোল পেতে তাদের ১১ মিনিট অপেক্ষা করতে হয় এবং ২০ মিনিটের মাথায় দ্বিতীয় গোল আসে। ম্যাচের বয়স আধা ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর ইন্দোনেশিয়া গোলের গতি বাড়াতে শুরু করে।
প্রথমার্ধের শেষ ১৫ মিনিটের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া আরও চারটি গোল করে। সব মিলিয়ে প্রথমার্ধেই স্বাগতিকেরা ছয় গোল করে। বাংলাদেশ ইমনের সৌজন্যে একটি গোল শোধ করে, ফলে হাফ টাইমে স্কোর দাঁড়ায় ৬-১।
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ দল দুটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে। তারা বেশ কিছুক্ষণ ইন্দোনেশিয়ার আক্রমণ আটকে রাখতে সক্ষম হয়। এই অর্ধে ইন্দোনেশিয়া তাদের প্রথম গোলটি করে লুক বিকারির মাধ্যমে, যা তাদের ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখে।
নব্বই মিনিটের পর ২ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়। এই সময়ের প্রথম মিনিটেই ফারহান আলী বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন। রাকিব হোসেনের ক্রস থেকে পাওয়া বলে দুর্দান্ত প্লেসমেন্টে ফারহান জালে বল জড়ান।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় গোলের খানিক পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও মারামারি শুরু হয়। সাদ উদ্দিন ও রমনির মধ্যে ঝামেলা দিয়ে এর সূত্রপাত হয়। এই ঘটনায় ইন্দোনেশিয়ার একজন খেলোয়াড়কে তাৎক্ষণিক হলুদ কার্ড দেখানো হয়।
দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময় শুরুতে ২ মিনিট দেওয়া হলেও, কিছুক্ষণের মধ্যে চতুর্থ রেফারি জানান খেলা ৭ মিনিট চলবে। এই বর্ধিত সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে কেভিন ডিকস এবং সপ্তম মিনিটে লি বেকার গোল করেন। লি বেকারের এটি ম্যাচে পঞ্চম গোল ছিল।
এতে ইন্দোনেশিয়া ৯-২ গোলের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে এবং মালয়েশিয়াকে টপকে ফাইনালে ওঠে। একই সময়ে সিঙ্গাপুরকে ৬-০ গোলে হারিয়েও মালয়েশিয়া গ্রুপে দ্বিতীয় স্থান পায়। দুই দলের পয়েন্ট ও গোল ব্যবধান সমান হলেও, ইন্দোনেশিয়া দুটি গোল বেশি করায় শীর্ষে ছিল।
প্রথমবার আয়োজিত ফিফা আসিয়ান কাপে বাংলাদেশ তিন ম্যাচে তিন হার নিয়ে তাদের অভিযান শেষ করে। টুর্নামেন্টে তারা মোট ১৩ গোল হজম করেছে, যার মধ্যে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩ এবং সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ১ গোল ছিল। প্রথম দুই ম্যাচে গোল করতে না পারলেও, শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ দুটি গোল (ইমন ও ফারহান) করে।
এর আগে বাংলাদেশ ফুটবল দল দুবার ম্যাচে ৯ গোল হজম করেছিল। ১৯৭৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে এবং ১৯৮২ সালে ইরানের বিপক্ষে, উভয় ম্যাচেই ফল ছিল ৯-০। এইবার ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯ গোল হজম করলেও ডুলির দল দুটি গোল শোধ করতে সক্ষম হয়।
ম্যাচ শেষে ইন্দোনেশিয়ার খেলোয়াড়েরা ফাইনালে ওঠার আনন্দে মেতে ওঠেন। অপরদিকে, বাংলাদেশ কোচ ডুলিকে বিধ্বস্ত দেখা যায়, তার চোখে জল ছিল। হামজা চৌধুরী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া নিয়ে মাঠ ছাড়েন, কোচিং স্টাফের সদস্যরা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
মতামত (0)