সারাদেশ

বরিশালের পোর্ট রোডে ৭ কোটি টাকার সংস্কারকাজ, সড়কে রয়ে গেছে দোকান

বরিশালের পোর্ট রোডে ৭ কোটি টাকার সংস্কারকাজ, সড়কে রয়ে গেছে দোকান
বরিশালের পোর্ট রোডে ৭ কোটি টাকার সংস্কারকাজ, সড়কে রয়ে গেছে দোকান
বরিশাল নগরের পোর্ট রোডে ৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে চলমান সড়ক সংস্কারকাজের মধ্যে সড়কের ভেতরে বিআইডব্লিউটিএর মালিকানাধীন একটি দোকানঘর রয়ে গেছে। এটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বরিশাল নগরের ব্যস্ততম পোর্ট রোডে ৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে চলমান সড়ক সংস্কারকাজ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এই কাজ করছে। সড়কের ভেতরে সংস্থাটির মালিকানাধীন একটি দোকানঘর রেখেই সংস্কারকাজ চালানো হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

প্রকল্পটির আওতায় ফলপট্টি মোড় থেকে পোর্ট রোড সেতু পর্যন্ত ৫০০ মিটার আরসিসি সড়ক পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সড়কের দুই পাশে ড্রেনেজব্যবস্থা নির্মাণেরও কথা রয়েছে। গত বছরের ৭ ডিসেম্বর এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল।

সরেজমিনে গত বৃহস্পতিবার পোর্ট রোড এলাকায় দেখা গেছে, সড়কের বড় অংশজুড়ে লোহার রডের কাঠামো স্থাপন করা হয়েছে। একটি টিনশেড দোকান সেই সড়কের ভেতরে রেখেই ঢালাইয়ের প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সড়কের দুই পাশের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও এই দোকানঘরটি সরানো হয়নি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা জানিয়েছেন, প্রায় ছয় ফুট প্রশস্ত এই দোকানঘরটি সড়কের ভেতরে রেখে কাজ শেষ করা হলে সড়কটির প্রস্থ কমে যাবে। এটি ব্যস্ত এই সড়কে যানবাহন চলাচলে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে। এই বিষয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ভবিষ্যতে এই স্থাপনাটি সরানোর প্রয়োজন হলে তখন আবার নতুন করে সংস্কার করা সড়ক ভাঙতে হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে সরকারের অর্থের অপচয় হবে বলে স্থানীয়রা মনে করেন। এছাড়া, সড়কের পাশে নালা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে এবং মাছ পরিবহনের সময় বরফ গলা পানিতে সড়ক ডুবে থাকে, যা নিষ্কাশনে বাধা দেবে।

বিআইডব্লিউটিএর বরিশাল বন্দর নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, সড়কটি দুই পাশ বর্ধিত করে নির্মাণ করা হচ্ছে। এর ফলে দোকানটি এখন সড়কের মাঝখানে দেখা যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, স্থাপনাটি একজন ব্যবসায়ীকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে এবং তার জীবিকার স্বার্থ বিবেচনা করে এটি সরানো হয়নি।

একজন ব্যক্তির স্বার্থকে বড় করে দেখা কতটা সমীচীন, এমন প্রশ্নের জবাবে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, "যেহেতু আপনারা বলছেন, আমরা এটা বিবেচনা করব।" তিনি আরও জানান, এই দোকানঘরটি বিআইডব্লিউটিএর মালিকানাধীন।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমজাদ হোসেন বলেন, সড়কটির প্রস্থ একেক স্থানে একেক রকমের। তবে এর গড় প্রস্থ সর্বনিম্ন ৪০ এবং সর্বোচ্চ ৬০ ফুট। তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম খান এই বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী কোনো স্থাপনা সড়কে থাকলে তা অপসারণের ব্যবস্থা করতে হবে। দোকানটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এদিকে, বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, স্থাপনাটি মূল সড়কের মধ্যেই পড়েছে। তিনি আরও জানান, সেখানে কোনো অবৈধ স্থাপনা থাকলে তা অবশ্যই অপসারণ করা হবে।

জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, বিআইডব্লিউটিএ যদি এই স্থাপনাটি অপসারণ না করে, তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন।

পোর্ট রোড বরিশাল নগরের কীর্তনখোলা নদীর তীরে নৌ বন্দরের পাশে অবস্থিত। এখানে মৎস্য অবতরণকেন্দ্র ও কাঁচামালের আড়তসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দিন-রাতে এই সড়কে ভারী যানবাহনের চলাচল ও ব্যাপক জনসমাগম থাকে।

দীর্ঘদিন ধরে সড়কে খানাখন্দ এবং ভাসমান ব্যবসায়ীদের অবৈধ স্থাপনা থাকায় এটি সরু হয়ে পড়েছিল। যানজটের কারণে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

স্থানীয় চারজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, দোকানঘরটি উচ্ছেদ না করায় সড়ক সংস্কারের পুরোপুরি সুবিধা পাওয়া যাবে না। তারা মনে করেন, নালার অভাবে পানি নিষ্কাশন সমস্যার সমাধান হবে না।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...