শিক্ষা

ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব: খুবির অধ্যাপক রেজাউল চাকরিচ্যুত

ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব: খুবির অধ্যাপক রেজাউল চাকরিচ্যুত
ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব: খুবির অধ্যাপক রেজাউল চাকরিচ্যুত
ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব ও যৌন হয়রানির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক মো: রেজাউল ইসলামকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব ও যৌন হয়রানির গুরুতর অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। গত বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৭তম সিন্ডিকেট সভায় এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সকল কর্মসম্পর্ক স্থায়ীভাবে অবসান করা হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এস এম মাহবুবুর রহমান সিন্ডিকেট সভা শেষ হওয়ার পর সন্ধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বিস্তারিতভাবে জানান যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ যৌন হয়রানি নিরোধকেন্দ্র কর্তৃক দাখিলকৃত একটি সুনির্দিষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। সেই তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, যা সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নেওয়া হয়েছে।

অধ্যাপক মো: রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে গত ১৮ জুন এক ছাত্রীকে ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে অশালীন বার্তা পাঠানো এবং কুপ্রস্তাব দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছিল। এই অভিযোগটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের জন্ম দেয়। অভিযোগটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধানের দায়িত্ব থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি দিয়েছিল। এই অব্যাহতি ছিল তদন্ত চলাকালীন একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা।

এই গুরুতর ঘটনার বিচার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একটি জোরালো ও সুসংগঠিত আন্দোলন শুরু করেছিলেন। তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল ক্লাস-পরীক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেন। যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলন পরিচালনা করেন। গত ২৩ জুলাই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনগুলোতে তালা ঝুলিয়ে তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি আরও জোরদার করেন, যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রমে ব্যাপক অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।

শিক্ষার্থীদের এই লাগাতার আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবির প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন এবং তাদের উদ্বেগ নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। আলোচনার পর ওই দিন রাত ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনগুলোর তালা খুলে দেন, যা সাময়িকভাবে অচলাবস্থার অবসান ঘটায়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরবর্তীকালে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায় যে, সুষ্ঠু তদন্ত কার্যক্রম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দাফতরিক প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে পরিচালনার স্বার্থে শিক্ষার্থীরা ভবনগুলোর তালা খুলে দিয়েছেন। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের দেওয়া পৃথক এক বিবৃতিতে স্পষ্ট ঘোষণা করেন। তারা জানান, তাদের সকল দাবি, বিশেষ করে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন না। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা অন্যতম ছিল, যা অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের ক্ষেত্রে বাস্তবায়িত হয়েছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...