বিনোদনছয় বছর ধরে অজ্ঞাতনামা হয়রানির শিকার অভিনেত্রী মান্দানা করিমি
ছয় বছর ধরে অজ্ঞাতনামা হয়রানির শিকার অভিনেত্রী মান্দানা করিমি
অভিনেত্রী মান্দানা করিমি ছয় বছর ধরে এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির হয়রানির শিকার হচ্ছেন, যা তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনকে প্রভাবিত করছে। তিনি আজ ইনস্টাগ্রামে ভিডিও ও স্ক্রিনশট প্রকাশ করে এই অভিযোগ জানান।
অভিনেত্রী মান্দানা করিমি গত ছয় বছর ধরে এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে পেশাগত ক্ষেত্র পর্যন্ত সর্বত্র সেই ব্যক্তির হয়রানি চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। অভিনেত্রী ও সাবেক 'বিগ বস' প্রতিযোগী মান্দানা দাবি করেছেন, ভারত ছেড়ে দুবাইয়ে যাওয়ার পরও এই হয়রানি বন্ধ হয়নি।
আজ মঙ্গলবার তিনি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একাধিক ভিডিও এবং স্ক্রিনশট প্রকাশ করে এই দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কথা জানান। মান্দানার অভিযোগ, অজ্ঞাতনামা ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তাঁর পরিচিতজন, প্রযোজক ও সহশিল্পীদের কাছে বিভিন্ন ধরনের বার্তা পাঠিয়ে তাঁর সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। কিছু ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তিদের কাছে অর্থও চাওয়া হয়েছে বলে অভিনেত্রী দাবি করেছেন।
মান্দানা করিমির ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ী গৌরব গুপ্তর সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদের পর থেকেই এই হয়রানির সূত্রপাত হয়। প্রায় ছয় বছর ধরে এই বিষয়টি চললেও তিনি এখনো জানতে পারেননি, এর পেছনে কে বা কারা জড়িত। সম্প্রতি ছুটিতে থাকার সময় আবারও এমন একটি ঘটনার মুখোমুখি হওয়ার কথা জানিয়েছেন মান্দানা।
তিনি ভিডিওতে বলেন, একটি অ্যাকাউন্ট থেকে তাঁর প্রযোজক ও সহশিল্পীদের কাছে তাঁর সম্পর্কে বার্তা পাঠানো হয়েছে। সেখানে তাঁদেরকে তাঁর ব্যাপারে সতর্ক করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং অর্থও চাওয়া হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। মান্দানা প্রশ্ন তুলেছেন, কে তাঁকে এতটা ঘৃণা করে এবং কেন কেউ তাঁর কাজ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও বন্ধুদের কাছ থেকেও তাঁকে দূরে সরিয়ে দিতে চায়।
এই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা তিনি আগেও করেছেন বলে জানিয়েছেন। মান্দানা দাবি করেছেন, প্রায় চার বছর আগে তিনি একজন তদন্তকারী নিয়োগ করেছিলেন, যাতে ওই ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়। তদন্তের সময় তাঁকে জানানো হয়েছিল যে, তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য কেউ একজন পেশাদার হ্যাকার নিয়োগ করেছে।
অভিনেত্রীর অভিযোগ, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাঁদের সঙ্গে যুক্ত হন বা যাঁদের নিয়ে পোস্ট করেন, তাঁদের কাছেও ভুয়া পরিচয়ে ই-মেইল পাঠানো হয়। এসব অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ভারত ছেড়ে বর্তমানে দুবাইয়ে থাকলেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে দাবি করেছেন মান্দানা করিমি।
তাঁর ভাষ্য, এখনো তাঁর বন্ধু ও পরিচিতজনেরা এমন ই-মেইল পাচ্ছেন। তাঁদের কেউ কেউ সেই বার্তার স্ক্রিনশট তাঁকে পাঠিয়েছেন এবং জানিয়েছেন, এগুলো ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে পাঠানো হয়েছে। মান্দানার দাবি, ভারতে থাকার সময় তিনি পুলিশের কাছেও বিষয়টি নিয়ে গিয়েছিলেন। একাধিকবার সাইবার অপরাধের অভিযোগও করেছেন তিনি।
কিন্তু এত কিছুর পরও হয়রানি বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছেন মান্দানা। তাঁর অভিযোগ, কেউ যেন পরিকল্পিতভাবে তাঁর নাম ও সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করছে। এবার আর চুপ করে থাকতে চান না মান্দানা করিমি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, বছরের পর বছর ধরে এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির কাছ থেকে সাইবার বুলিং, হয়রানি ও স্টকিংয়ের শিকার হচ্ছেন তিনি। ওই ব্যক্তি তাঁর জীবন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে এবং যাঁদের সঙ্গে তিনি কাজ করেন বা যাঁদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন, তাঁদের কাছে বিদ্বেষপূর্ণ ই-মেইল পাঠায় বলে তাঁর অভিযোগ।
ভারত থেকে দুবাইয়ে চলে যাওয়ার পরও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। ‘এনাফ ইজ এনাফ’ লিখে নিজের পোস্টে তিনি জানান, আগে একাধিকবার সাইবার অপরাধের অভিযোগ করলেও এবার তিনি প্রকাশ্যে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে নিজের দাবির পক্ষে বিভিন্ন ই-মেইল ও বার্তার স্ক্রিনশটও প্রকাশ করেছেন।
যাঁরা এমন ই-মেইল পাবেন, তাঁদেরও সতর্ক করেছেন মান্দানা। কোনো বার্তার জবাব না দিতে এবং কাউকে অর্থ না পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। বরং ই-মেইলের স্ক্রিনশট তুলে তাঁকে পাঠাতে বলেছেন অভিনেত্রী।
ইরানি অভিনেত্রী ও মডেল মান্দানা করিমির জন্ম ১৯৮৮ সালের ১৯ মে তেহরানে। অভিনয়ে আসার আগে তিনি ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন। পরে মডেলিং দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করে ভারতীয় বিজ্ঞাপনে কাজের সুযোগ পান। ২০১৫ সালে ‘রয়’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় তাঁর। এরপর ‘ম্যায় অর চার্লস’সহ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেন। তবে সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পান একই বছর ভারতের রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস ৯’-এ অংশ নিয়ে। সেখানে তাঁর সরব ও স্পষ্টভাষী ব্যক্তিত্ব দর্শকদের নজর কাড়ে এবং তিনি শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় রানারআপ হন।
মতামত (0)