সারাদেশছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভার রদবদল: নতুন পাঁচ মুখ
ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভার রদবদল: নতুন পাঁচ মুখ
সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় রদবদল ও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। নতুন করে পাঁচজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যুক্ত হয়েছেন, যা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথম বড় পরিবর্তন।
সরকার গঠনের ছয় মাস পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানো হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যার পর এই মন্ত্রিসভায় প্রথম রদবদল হয়। এতে নতুন করে পাঁচজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যুক্ত হয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হয়। নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ গ্রহণের পরপরই বঙ্গভবনে চারজন নতুন মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রথম ছয় মাসের কাজের মূল্যায়ন এবং শূন্যস্থান পূরণের লক্ষ্যেই এই রদবদল ও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। তারা এই রদবদলে মূলত পাঁচটি বিশেষ বার্তা দেখতে পাচ্ছেন।
প্রথমত, এটি কাজের মূল্যায়ন এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়। সরকার গঠনের ১৮০ দিন বা ছয় মাস পূর্তিতে মন্ত্রীদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হয়েছে। প্রশাসনের স্থবিরতা কাটানো, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোর নীতি বাস্তবায়নে গতি বাড়াতে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, এটি বিএনপির নেতৃত্বাধীন যুগপৎ আন্দোলনে সক্রিয় থাকা জোটসঙ্গী দলগুলোকে সরকারে অন্তর্ভুক্ত করার স্পষ্ট বার্তা। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী করার মাধ্যমে আন্দোলনের সহযোগীদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। এটি সরকারের পক্ষে জোরালো জনমত তৈরির একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তৃতীয়ত, জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ নেতাদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে আনা হয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়টি শূন্য হয়। সেই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অভিজ্ঞ সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে অভিজ্ঞ নেতৃত্বকে প্রাধান্য দেওয়ার বার্তা দিয়েছে।
চতুর্থত, এটি ছয় মাসে বিভিন্ন কারণে শূন্য হওয়া পদগুলো পূরণের একটি প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতা ছিল। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দিপেন দেওয়ানের পদত্যাগ এবং মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়া সহ বিভিন্ন শূন্যতা কাটাতে এই পরিবর্তন আনা হয়। বান্দরবানের এমপি সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য মন্ত্রী করা হয়েছে এবং দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।
পঞ্চমত, দক্ষ টেকনোক্র্যাট ও তরুণদের সমন্বয় করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টেকনোক্র্যাট প্রতিমন্ত্রী করার মাধ্যমে বৈশ্বিক কূটনীতিতে পেশাদারিত্ব বাড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তরুণ ও মাঠপর্যায়ের সংসদ সদস্যদের, যেমন গাইবান্ধা-৪ আসনের মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যুক্ত করে অভিজ্ঞ ও নবীনের ভারসাম্য তৈরি করা হয়েছে।
মন্ত্রীদের দপ্তর বন্টনে পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবেক সচিব আবদুল আউয়াল মজুমদার মনে করেন, সরকার গঠনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, মন্ত্রীদের পারফরম্যান্স বিবেচনা করে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি আরও বলেন, মন্ত্রিসভায় যারা এসেছিলেন, তাদের বেশিরভাগই ছিলেন অনভিজ্ঞ ও নতুন। এখন ছয় মাস পর তিনি দেখেছেন কোথায় পরিবর্তন দরকার এবং সেভাবে পরিবর্তন করছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, তথ্য এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তনের কারণ প্রকাশ পেলে অন্যরাও সতর্ক হবেন। তিনি মনে করেন, এই পরিবর্তনের মূল কারণ প্রকাশ পেলে অন্যদের কাছেও একটি বার্তা যাবে। নেতিবাচক কারণে পরিবর্তন হলে অন্য মন্ত্রীরাও সাবধান হবেন।
তিনি আরও বলেন, ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থকে মন্ত্রিসভায় নিয়ে আসার মাধ্যমে দলীয় কাজে জহির উদ্দিন স্বপনকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। এই মন্ত্রণালয়ে সামান্য কিছু পরিবর্তন এনে গতি বা মাত্রা বাড়ানো যায় কি-না, সেই চিন্তা করা হয়েছে।
মতামত (0)