জাতীয়চুয়েটের চার শিক্ষার্থী মর্টার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে
চুয়েটের চার শিক্ষার্থী মর্টার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী আমেরিকান কংক্রিট ইনস্টিটিউট আয়োজিত আন্তর্জাতিক মর্টার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন। তাঁরা বাছাইপর্বে সেরা ৪০ দলের মধ্যে স্থান করে নিয়েছেন।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের চার শিক্ষার্থী ‘মর্টার’ তৈরির আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন। আমেরিকান কংক্রিট ইনস্টিটিউট (এসিআই) আয়োজিত ‘এসিআই মর্টার ওয়ার্কেবিলিটি কমপিটিশন ২০২৬’-এর মূল পর্বে তাঁরা অংশ নেবেন। ১১ থেকে ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টার একটি হোটেলে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে বাছাইপর্বে সেরা ৪০-এ জায়গা করে নিয়েছেন চুয়েটের এই শিক্ষার্থীরা।
এই চার শিক্ষার্থী হলেন খন্দকার ফাহাদ আলম, সুমাইয়া বিনতে মান্নান, তানজিম মুশাররাত তুশিন ও স্বরূপ চন্দ্র মোদক। তাঁরা সবাই পুরকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। ক্লাসের আড্ডায় পড়াশোনার বাইরে নিজেদের যাচাই করার পরিকল্পনা থেকেই তাঁরা এই প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি শুরু করেন। মাত্র চার মাসের প্রস্তুতিতে তাঁরা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
দলের উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও ‘এসিআই স্টুডেন্ট চ্যাপটার’ চুয়েট শাখার অনুষদ উপদেষ্টা জি এম সাদিকুল ইসলাম। এছাড়া তাঁদের সহযোগী হিসেবে একই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সানিউল হক, রূপম পোদ্দার, আমীর হামজা মাহমুদ এবং তৃতীয় বর্ষের মো. সাইজউদ্দিন ফরহাদ রয়েছেন। সহযোগীরা যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন না; তাঁরা দেশ থেকেই মূল দলকে সহায়তা করবেন।
নির্মাণকাজে সিমেন্ট, বালু ও পানি একসঙ্গে মিশিয়ে যে ঘন মিশ্রণ তৈরি করা হয়, তাকে মর্টার বলা হয়। এটি ইট, পাথর বা কংক্রিটের ব্লকগুলোকে একে অপরের সঙ্গে শক্তভাবে আটকে রাখতে সাহায্য করে। মর্টার প্রতিযোগিতায় সিমেন্ট, বালু, পানি, অ্যাড মিক্সচার ও সম্পূরক সিমেন্টের উপাদান নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশিয়ে তৈরি বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য মূল্যায়ন করা হয়।
প্রতিযোগিতায় মোট নম্বরের ৫০ শতাংশ প্রবাহ ক্ষমতা এবং ২০ শতাংশ স্থিতিশীলতার জন্য নির্ধারিত। দলের সদস্যরা জানান, প্রবাহক্ষমতা ও স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা তাঁদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে বিভিন্ন অনুপাতে উপকরণ মিশিয়ে একাধিকবার পরীক্ষা চালানো হয়েছে। পরিবেশগত প্রভাব ও খরচ কমানোর বিষয়গুলোও তাঁরা বিবেচনায় নিয়েছেন।
দলের সদস্য স্বরূপ চন্দ্র মোদক জানান, একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত গবেষণাগারে সময় দিতে হয়েছে। একের পর এক পরীক্ষামূলক মিশ্রণ তৈরি করা ও বিষয়টি নিয়ে পড়াশোনা করতে হয়েছে। বিশ্বের সেরা ৪০টি দলের মধ্যে জায়গা করে নেওয়ার পর তাঁদের সব পরিশ্রম সার্থক মনে হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ভালো কিছু করার এবং দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনার আশা করছেন।
দলের উপদেষ্টা জি এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, ২০১৮ সালে এসিআই স্টুডেন্ট চ্যাপটার শাখা প্রতিষ্ঠার পর চুয়েট আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছয়টি পুরস্কার পেয়েছে। তবে সেগুলো অনলাইনভিত্তিক প্রতিযোগিতা ছিল। এবার সরাসরি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় তাঁরা আনন্দিত। তিনি বিশ্বাস করেন, শিক্ষার্থীরা এবারও ভালো সাফল্য অর্জন করবে।
আমেরিকান কংক্রিট ইনস্টিটিউট (এসিআই) কংক্রিট নির্মাণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক মানদণ্ড, কোড ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান তৈরি ও প্রচারকারী একটি আন্তর্জাতিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। সংস্থাটি বিশ্বের ১২০টির বেশি দেশে ৩৫ হাজারের বেশি সদস্য নিয়ে কাজ করছে।
মতামত (0)