বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) কর্তৃক পরিচালিত সাম্প্রতিক পরীক্ষায় আমদানি করা হেলমেটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ মানসম্পন্ন নয় বলে উঠে এসেছে। গত ছয় মাসে সংস্থাটি ৪৯টি হেলমেটের নমুনা পরীক্ষা করে দেখেছে, যার মধ্যে ১২টি গুণগত মান পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হয়েছে। শতাংশের হিসাবে এটি প্রায় সাড়ে ২৪ শতাংশ।
রাজধানীর বিভিন্ন হেলমেটের দোকানে ঘুরে দেখা যায়, বাজারে বিক্রি হওয়া অধিকাংশ হেলমেটই মানহীন। কিছু হেলমেট ১৫০ টাকাতেও পাওয়া যায়, যা মূলত প্লাস্টিকের আবরণযুক্ত টুপি। আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে এসব হেলমেট ব্যবহার করা হয় বলে জানা যায়।
রাইড শেয়ারিং অ্যাপে বাইক চালান আরিফুজ্জামান শাওন। তিনি বলেন, হেলমেট না থাকলে পুলিশ মামলা দেয়, সে জন্য তারা হেলমেট দেন। অনেক যাত্রীই পরতে চান না; তাই মামলা ও পুলিশের হাত থেকে বাঁচতেই হালকা হেলমেট ব্যবহার করা হয়।
রাজধানীর বাংলামোটরের জনতা অটোসের বিক্রয়কর্মী জানান, তাদের দোকানের অধিকাংশ হেলমেট ভারত থেকে আমদানি করা। বাকিগুলো স্থানীয় কোম্পানির হেলমেট। আমদানি করা হেলমেট ২৫০০ টাকা থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকায় পাওয়া যায়, আর দেশীয় হেলমেটগুলো ৫০০ থেকে ২৫০০ টাকায় মেলে।
বাংলাদেশে আমদানি করা হেলমেটের মধ্যে বাজারে ভারতীয় হেলমেটই বেশি দেখা যায়। এছাড়া চীন, স্পেন ও অস্ট্রেলিয়ার কিছু হেলমেটও রয়েছে, যা দাম ও মানভেদে সাড়ে ৩ হাজার টাকা থেকে ৭২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। এসব হেলমেট বাজারজাত করার ক্ষেত্রে বিএসটিআইয়ের নিরাপত্তা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক।
বাজারের অনেক আমদানি করা হেলমেটের গায়ে বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সিল দেখা যায়। তবে বাংলামোটরের একজন হেলমেট বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তারা আমদানিকারকদের কাছ থেকে হেলমেট কিনে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করেন। গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী তাদের বিক্রি করতে হয় এবং মান দেখা তাদের কাজ নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মানহীন হেলমেট বিক্রির বিষয়ে এই ব্যবসায়ী আরও বলেন, মানুষ কেনে সে জন্য তারা আনেন, কারণ তাদের ব্যবসা করতে হয়। ভালকান নামের একটি হেলমেট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জানায়, তাদের সব হেলমেটই বিএসটিআই থেকে অনুমোদিত। প্রতিষ্ঠানটি আমদানি করার ক্ষেত্রে বিএসটিআইয়ের শর্তাবলি অনুসরণ করে বলেও দাবি করে।
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, মানসম্মত হেলমেট মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৪৮ শতাংশ মৃত্যুঝুঁকি কমায়। এ জন্য মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিতে সচেতনতা কার্যক্রমের পাশাপাশি কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করা জরুরি। পুলিশ চাইলেই মানহীন হেলমেট যাচাই-বাছাই করে জরিমানা করতে পারে।



মতামত (0)