আন্তর্জাতিক

ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি ভাঙচুর, শিক্ষার্থীর প্রতিবাদ

ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি ভাঙচুর, শিক্ষার্থীর প্রতিবাদ
ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি ভাঙচুর, শিক্ষার্থীর প্রতিবাদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি ভেঙে ও ছিঁড়ে ফেলেছেন এক শিক্ষার্থী। ছবিটি প্রদর্শনের প্রতিবাদে এর আগেও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন দাবি জানিয়েছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় প্রদর্শিত পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি ভাঙা ও ছেঁড়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে এক শিক্ষার্থী এই কাজটি করেন। ওই শিক্ষার্থীর নাম আবু তৈয়ব হাবিলদার।

আবু তৈয়ব হাবিলদার নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী বলে দাবি করেছেন। তিনি ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে সবচেয়ে প্রবীণ ভিপি প্রার্থী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। সোমবার দুপুরে তিনি তার দুই সন্তানকে নিয়ে ডাকসু ভবনের সংগ্রহশালায় যান।

সেখানে অবস্থানকালে একপর্যায়ে তিনি উত্তেজিত হয়ে সংগ্রহশালায় প্রদর্শিত জিন্নাহর একটি ছবি ভেঙে ফেলেন। পরে ফ্রেম থেকে ছবিটি বের করে ছিঁড়ে ফেলেন। এরপর তিনি আরও দুটি ছবি মেঝেতে আছড়ে ভাঙেন এবং সেগুলোও ফ্রেম থেকে বের করে ছিঁড়ে ফেলেন।

ঘটনার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে আবু তৈয়ব হাবিলদার বলেন, "যা মন চায়, তা করতে দেওয়া হবে না। কেন এই খলনায়কের ছবি ডাকসুতে থাকবে? তাদের ইশতেহারে কি ছিল, তারা ডাকসুর মতো এমন জায়গায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে প্রতিষ্ঠিত করবে? বলেছিলেন কি, জিন্নাহকে আপনারা আপনাদের নায়ক বানাবেন? আমরা ’৭১, ভাষা সংগ্রাম ভুলি নাই।" তিনি ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমের উদ্দেশে বলেন, "সাদিক কায়েম, তুমি কি উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাও?"

এদিকে, ডাকসু সংগ্রহশালায় ভাঙচুরের ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দিয়েছেন। এক বার্তায় তিনি জানান, সোমবার বিকেল ৪টায় ডাকসু ভবনের সামনে গণমাধ্যমের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবেন তিনি।

এর আগে ডাকসু সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর আলোচিত একটি ছবি প্রদর্শনের জন্য যুক্ত করা হয়। এ নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল প্রতিবাদ জানিয়ে ছবিটি দ্রুত অপসারণের দাবি জানায়। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’ ঘোষণা করেছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ তখন ওই বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছিল। এই প্রতিবাদ পরবর্তী সময়ে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের আন্দোলনের ভিত্তি গড়ে দেয় বলে ছাত্রদল দাবি করে।

ছাত্রদলের দাবি, বাংলার স্বাধিকার আন্দোলনের অন্যতম সূতিকাগার ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহ্যের প্রতি অবমাননার শামিল। সংগঠনটি বর্তমান ডাকসু নেতৃত্বের সমালোচনা করে বলেছে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন, অধিকার আদায় এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে বর্তমান পরিষদ ব্যর্থ হয়েছে। তাদের অভিযোগ, ডাকসুকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আদর্শ চর্চার স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

মধুর ক্যান্টিনের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ এবং ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি স্থাপনের প্রসঙ্গ তুলে ছাত্রদল দাবি করে, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক চেতনা ও ঐতিহ্যকে বিকৃত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, "অবিলম্বে ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে বাংলা ভাষার বিরোধিতাকারী মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি অপসারণ করতে হবে।"

তারা আরও বলেন, "ডাকসুকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আদর্শ চর্চার স্থান হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে এবং ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিনসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ঐতিহাসিক স্মারক ও চেতনাকে বিকৃত করার সব অপপ্রয়াস রুখে দেওয়া হবে।" তারা উল্লেখ করেন, ১৯৪৮ সালে উর্দু চাপিয়ে দেওয়ার জিন্নাহর বক্তব্যের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ যেভাবে প্রতিবাদ করেছিল, একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল চেতনা, ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে যেকোনো অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...