জাতীয়দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির দিনেই বিশ্ববাজারে দরপতন
দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির দিনেই বিশ্ববাজারে দরপতন
গতকাল দেশে পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বেড়েছে। একই দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেল ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম কমেছে।
গতকাল সোমবার দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। একই দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস পেয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এমন এক সময়ে ঘটলো, যখন বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছিল।
সরকার গতকাল সোমবার পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন এবং অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বৃদ্ধি করার ঘোষণা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের বাজারে এসব অত্যাবশ্যকীয় জ্বালানি পণ্যের নতুন দর কার্যকর হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমার পেছনে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী সরবরাহ পরিস্থিতিকে একটি প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী ছিল।
একটি প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ১৫ ডলারে নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দামও কমেছে, যা ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ৪৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকরা ১৮ সেপ্টেম্বরের এক প্রতিবেদনে জানান, সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে বিঘ্ন ঘটলেও মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের সরবরাহ প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী ছিল। তাদের হিসাবে, গত দশ দিনে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতিদিন গড়ে ১ কোটি ৭১ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ হয়েছে। এই পরিমাণ ২০২৫ সালের গড় সরবরাহের চেয়ে প্রতিদিন ৬১ লাখ ব্যারেল কম ছিল।
এর মধ্যেই সৌদি আরবের ওপর ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। গত শনিবার হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এই হামলাগুলো সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সংঘটিত হয়েছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়ে তিনি এখন ‘সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর্যায়ে’ রয়েছেন। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, খুব শিগগিরই বড় ধরনের কিছু ঘটতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের দাম এখন মূলত সরবরাহ পরিস্থিতি এবং কূটনৈতিক অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে। রপ্তানি স্বাভাবিক হওয়ার গতি কমে গেলে বা জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে বাজারে তেলের সরবরাহ কমে দাম আবার বাড়তে পারে।
মতামত (0)