অর্থনীতি

ডিএসই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও হয়রানির অভিযোগ, মামলা দায়ের

ডিএসই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও হয়রানির অভিযোগ, মামলা দায়ের
ডিএসই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও হয়রানির অভিযোগ, মামলা দায়ের
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এক সাবেক নারী কর্মী শ্লীলতাহানি ও হয়রানির অভিযোগে এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় হয়রানি ও চাকরিচ্যুতির অভিযোগ উঠেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাবেক এক নারী কর্মীকে শ্লীলতাহানি ও হয়রানির অভিযোগে মামলা হয়েছে। ওই নারী অভিযোগ করেছেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তা তাকে বিভিন্ন সময়ে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছেন এবং অশ্লীল ভাষায় কথা বলেছেন। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয় বলে অভিযোগ তার।

মরিয়ম আক্তার নামের ওই সাবেক কর্মী গত ২৪ আগস্ট খিলক্ষেত থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১০ ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় ডিএসইর মানবসম্পদ বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও এজিএম মো. নাসির উদ্দিন রেজাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

খিলক্ষেত থানার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে মামলার অভিযোগ হিসেবে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ঘটনাস্থল হিসেবে খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ-২ এর ডিএসই টাওয়ারের লিফটকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

মরিয়ম আক্তার তার অভিযোগে জানান, তিনি প্রায় ১৬ বছর ডিএসইর নিকুঞ্জ-২ শাখায় কাজ করেছেন। ২০২২ সালে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয় এবং এরপর তিনি দুই সন্তান নিয়ে চাকরির আয়ের ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করছিলেন।

অভিযোগে তিনি বলেন, বিবাহবিচ্ছেদের পর নাসির উদ্দিন তাকে বিভিন্ন সময়ে প্রেমের প্রস্তাব দেন। এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ২০১৮ সাল থেকেই ওই কর্মকর্তা তার প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে মরিয়ম অভিযোগ করেন। চাকরিতে থাকা অবস্থায় তাকে মুঠোফোনে ফোন ও এসএমএসের মাধ্যমে অশ্লীল ভাষায় কথা বলার অভিযোগও তিনি তুলেছেন।

মরিয়মের অভিযোগ, একপর্যায়ে নাসির উদ্দিন মতিঝিল কার্যালয়ে কর্মরত থাকা অবস্থায় তাকে ডেকে নিয়ে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করেন। এই বিষয়টি তিনি ডিএসইর বিভাগীয় ইনচার্জ শফিকুর রহমান এবং মনিটরিং, কমপ্লায়েন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের সহকর্মী সুম্মিতা রানী সাহাকে জানিয়েছিলেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে বিচার করেছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তী সময়ে ডিএসইর কার্যালয় মতিঝিল থেকে খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ-২ এলাকায় স্থানান্তরিত হয়। এরপর নাসির উদ্দিন তার প্রতি আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য তালিকায় নাম দেন বলে অভিযোগ করেন মরিয়ম। পরে তিনি চাকরি থেকে অব্যাহতি পান।

এজাহারে সর্বশেষ ঘটনার তারিখ হিসেবে ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন দুপুর দেড়টার দিকে নিকুঞ্জ-২ এর রোড ২১ এর ডিএসই টাওয়ারের লিফটে মরিয়মকে দেখে নাসির উদ্দিন অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন। একপর্যায়ে তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মরিয়ম চিৎকার করলে আশপাশের অফিসের লোকজন এগিয়ে আসেন। এ সময় নাসির উদ্দিন সেখান থেকে চলে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী জানান, ঘটনার পর তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। পরে কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শের পর তিনি থানায় অভিযোগ করেন। এ কারণে মামলা করতে কিছুটা দেরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. নাসির উদ্দিন রেজার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...