বিনোদনদক্ষিণি ছবি ‘বেথলেহেম কুদুম্বা ইউনিট’-এর বক্স অফিস ঝড়
দক্ষিণি ছবি ‘বেথলেহেম কুদুম্বা ইউনিট’-এর বক্স অফিস ঝড়
মালয়ালম চলচ্চিত্র ‘বেথলেহেম কুদুম্বা ইউনিট’ ২৩ কোটি রুপি বাজেটে ২৩৮ কোটি রুপি আয় করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে। ছবিটি সম্প্রতি তামিল ও তেলেগু ভাষায় মুক্তি পেয়েছে।
মালয়ালম ভাষার চলচ্চিত্র ‘বেথলেহেম কুদুম্বা ইউনিট’ অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৩৮ কোটি রুপি আয় করেছে, যেখানে এর নির্মাণ ব্যয় ছিল আনুমানিক ২৩ কোটি রুপি। এই বিশাল বাণিজ্যিক সাফল্যের পর, ছবিটি এবার মালয়ালমের গণ্ডি পেরিয়ে তামিল ও তেলেগু দর্শকদের কাছেও পৌঁছে গেছে।
গতকাল ৪ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) সিনেমাটি তামিল ও তেলেগু ভাষায় মুক্তি পেয়েছে। তামিলনাড়ুতে এটি ২০০টিরও বেশি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে। অভিনেতা নিভিন পাওলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই খবর জানিয়ে উদ্যাপনের কথা বলেছেন।
তামিলনাড়ুতে প্রাইমার্ক এই চলচ্চিত্রটি পরিবেশনার দায়িত্ব নিয়েছে। অন্যদিকে, অন্ধ্র প্রদেশ ও তেলেঙ্গানায় এর তেলেগু সংস্করণ পরিবেশনা করছে মিথ্রি রিলিজেস। মালয়ালম সংস্করণের ব্যাপক জনপ্রিয়তার ওপর ভিত্তি করে অন্যান্য ভাষাভাষী দর্শকদের কাছে পৌঁছানোর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্যিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট স্যাকনিল্কের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলচ্চিত্রটি এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৩৮ কোটি রুপি আয় করেছে। গত ২১ আগস্ট ওনাম উপলক্ষে মুক্তির পর থেকেই এর দর্শকসংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। মুক্তির প্রথম দিনে ভারতে এর নেট আয় ছিল প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ রুপি।
প্রথম দিনে প্রেক্ষাগৃহে আসন দখলের হার ছিল প্রায় ৫৮ শতাংশ। এরপর, মুখে মুখে প্রচারের কারণে ছবিটির আয় দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পায়। দ্বিতীয় সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগেই ভারতে এর নেট আয় ১০০ কোটি রুপি ছাড়িয়ে যায়।
‘বেথলেহেম কুদুম্বা ইউনিট’-এর সাফল্যের অন্যতম চমকপ্রদ দিক হলো এর বাজেট ও আয়ের মধ্যে থাকা বিশাল ব্যবধান। ছবিটির নির্মাণ ব্যয় আনুমানিক ২৩ কোটি রুপি। তবে, এই বাজেটের অঙ্ক নির্মাতারা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি, তাই এটিকে একটি আনুমানিক হিসাব হিসেবেই দেখা উচিত।
‘বেথলেহেম কুদুম্বা ইউনিট’ মূলত একটি রোমান্টিক কমেডি ঘরানার চলচ্চিত্র। গিরিশ এডি এই সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন। এর আগে তিনি ‘থান্নির মথন দিনাঙ্গাল’, ‘সুপার শরণ্যা’ ও ‘প্রেমালু’-এর মতো বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় সিনেমা নির্মাণ করে পরিচিতি লাভ করেছেন।
গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে অ্যাশলি নামের এক কলেজপড়ুয়া তরুণী, যিনি তার পরিবারের সঙ্গে নতুন একটি এলাকায় বসবাস শুরু করেন। সেখানেই তার পরিচয় হয় প্রতিবেশী জাস্টিনের সঙ্গে। জাস্টিন চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিভিন পাওলি এবং অ্যাশলি চরিত্রে আছেন মামিথা বাইজু।
অ্যাশলি ও জাস্টিনের বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। তবে, এই সম্পর্কের গল্প গতানুগতিক নয়, কারণ দুজনের মধ্যে বয়সের একটি পার্থক্য রয়েছে। বয়সের ব্যবধান, পারিবারিক সম্পর্ক এবং একটি ছোট এলাকার ঘনিষ্ঠ সামাজিক পরিবেশ—সব মিলিয়েই সিনেমার গল্প এগিয়েছে।
নিভিন পাওলি ও মামিথা বাইজুর পাশাপাশি এই সিনেমায় সংগীত প্রতাপ, বিনয় ফোর্ট, সুরেশ কৃষ্ণ, বিন্দু পানিকর ও শ্রিন্দাসহ আরও অনেকে অভিনয় করেছেন। সিনেমাটির চিত্রনাট্য যৌথভাবে লিখেছেন গিরিশ এডি ও কিরণ জোসে। ফাহাদ ফাসিল, দিলীশ পোথান ও শ্যাম পুষ্করন এটি প্রযোজনা করেছেন।
ভাবনা স্টুডিওসের ব্যানারে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রির সাম্প্রতিক সফল চলচ্চিত্রগুলোর তালিকায় উল্লেখযোগ্য স্থান করে নিয়েছে। মালয়ালম সংস্করণের সাফল্যের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে এর ভালো ‘ওয়ার্ড অব মাউথ’ প্রচারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই জনপ্রিয়তাকেই কাজে লাগিয়ে নির্মাতারা কেরালার বাইরের দর্শকদের কাছেও পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
ছবিটির ব্যাপক সাফল্যের পেছনে গিরিশ এডির নির্মাণশৈলী একটি বড় ভূমিকা রেখেছে। ‘থান্নির মথন দিনাঙ্গাল’, ‘সুপার শরণ্যা’ ও ‘প্রেমালু’-এর মাধ্যমে তিনি তরুণ দর্শকের রুচি সম্পর্কে তার গভীর বোঝাপড়া প্রমাণ করেছেন। ‘বেথলেহেম কুদুম্বা ইউনিট’-এও সেই সহজ, স্বাভাবিক হাস্যরস এবং দৈনন্দিন জীবনের চরিত্রকে কেন্দ্র করে গল্প বলার ধরন স্পষ্ট দেখা গেছে।
নিভিন পাওলি ও মামিথা বাইজুর জুটি ছবির সাফল্যের আরেকটি শক্তিশালী কারণ। গল্পের কেন্দ্রে থাকা বয়সের ব্যবধানের সম্পর্কটি সহজেই বিতর্কিত বা অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারত। কিন্তু নির্মাতা সেটিকে অতিরিক্ত নাটকীয় না করে বন্ধুত্ব, পারিবারিক পরিবেশ ও মানবিক সম্পর্কের ভেতর দিয়ে পরিপক্কভাবে উপস্থাপন করেছেন।
একটি পর্যালোচনায় বয়সের ব্যবধানের প্রেমকে পরিণত ও স্বাভাবিকভাবে উপস্থাপনের বিষয়টি বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। পরিবার নিয়ে দেখার মতো সিনেমা হিসেবেও এটি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। বিশেষ করে ওনামের ছুটিকে কেন্দ্র করে মুক্তি পাওয়ায় তরুণ দর্শকের পাশাপাশি পরিবার নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
নিভিন পাওলি ছবিটির সাফল্যের জন্য পরিবারকেন্দ্রিক দর্শকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন। ছবির সহজ গল্প এবং পার্শ্বচরিত্রগুলো এর আরেকটি বড় শক্তি। প্রেমের গল্প হলেও এটি কেবল নায়ক-নায়িকার সম্পর্ক নিয়ে আটকে থাকেনি, বরং প্রতিবেশী, পরিবার এবং সমাজের অন্যান্য চরিত্রের ভূমিকাকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছে।
মতামত (0)