খেলাধুলা

এডিন জেকোর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায়, শেষ ম্যাচ অক্টোবরে

এডিন জেকোর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায়, শেষ ম্যাচ অক্টোবরে
এডিন জেকোর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায়, শেষ ম্যাচ অক্টোবরে
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কিংবদন্তি ফুটবলার এডিন জেকো আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী ২ অক্টোবর সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচটিই হবে তার শেষ আন্তর্জাতিক খেলা।

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা এডিন জেকো আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। প্রায় দুই দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের পর ৪০ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় আগামী মাসে দেশের জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামবেন।

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের সিদ্ধান্ত নিজেই নিশ্চিত করেছেন জেকো। আগামী ২ অক্টোবর নেশনস লিগে সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচটিই হবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার হয়ে তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।

২০০৭ সালে তুরস্কের বিপক্ষে অভিষেকের পর থেকেই বসনিয়ার আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান অস্ত্র ছিলেন জেকো। দীর্ঘ ক্লাব ক্যারিয়ারে তিনি খেলেছেন ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় ক্লাব ভলফসবুর্গ, ম্যানচেস্টার সিটি, ইন্টার মিলান এবং এএস রোমার হয়ে। বর্তমানে তিনি শালকে ০৪-এর হয়ে খেলছেন।

জাতীয় দলের হয়ে জেকোর গোল ৭৩টি, যা তিনি ১৫১ ম্যাচে করেছেন। বিদায়ের সময় তিনি বসনিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এবং সর্বোচ্চ গোল করা ফুটবলার—এই দুটি রেকর্ডই নিজের করে রাখছেন।

ইনস্টাগ্রামে অবসরের ঘোষণা দিয়ে জেকো একটি আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। জাতীয় দলের জার্সি পরা তার শৈশবের স্বপ্ন ছিল জানিয়ে তিনি বলেছেন, দেশের প্রতিনিধিত্ব করার গর্ব তার ক্যারিয়ারের অন্য সব অর্জনকে ছাড়িয়ে গেছে।

নিজের বার্তায় জেকো উল্লেখ করেন, জাতীয় দলের হয়ে ১৫১ ম্যাচে মাঠে নামার প্রতিটি মুহূর্তই তার কাছে বিশেষ। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু পরিবর্তন হলেও দেশের জার্সির প্রতি তার ভালোবাসায় কখনো ভাটা পড়েনি। ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে খেলে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, প্রতিবারই দেশের জন্য নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

বিদায়ী ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখতে সমর্থকদেরও পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জেকো। সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচটি সমর্থকদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া একটি আবেগঘন শেষ রাত হিসেবে দেখতে চান তিনি।

বসনিয়ার ফুটবলে জেকোর অবদান শুধু গোল ও ম্যাচের পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নয়। তার গোল এবং নেতৃত্বের ওপর ভর করেই দেশটি ২০১৪ বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়। স্বাধীন দেশ হিসেবে কোনো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে বসনিয়ার সেটিই ছিল প্রথম অংশগ্রহণ।

২০১৪ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়াকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন জেকো। ওয়েলসের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ গোল এবং পরবর্তী সময়ে ইতালির বিপক্ষে ম্যাচ ঘিরে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের স্মৃতিও তার কাছে বিশেষ হয়ে আছে। বসনিয়ার বিভিন্ন শহরের রাস্তায় মানুষের উৎসবের দৃশ্যকে ফুটবলের কাছ থেকে পাওয়া জীবনের অন্যতম সেরা উপহার হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।

ক্যারিয়ারের শেষ দিকেও জাতীয় দলের হয়ে নিজের গুরুত্ব ধরে রেখেছিলেন জেকো। ২০২৬ সালের টুর্নামেন্টে বসনিয়ার শেষ ৩২-এ ওঠার পথেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার। ৪০ বছর বয়সেও তার অভিজ্ঞতা ও মাঠে উপস্থিতি দলের জন্য ছিল বড় শক্তি।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...