চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে প্রথম ম্যাচেই ৩-২ গোলে জয় পেয়েছেন হামজা চৌধুরী। নাটকীয় এই জয়ের পর তিনি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।
হামজা চৌধুরী শেফিল্ড ইউনাইটেডের জার্সিতে মাঠে ফিরেছেন। চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের এই ম্যাচে বোল্টন ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে ক্লাবটি ৩-২ গোলের জয় পেয়েছে। এই জয় প্রিমিয়ার লিগে ফেরার লড়াইয়ে থাকা শেফিল্ড ইউনাইটেডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ মৌসুমের প্রথম তিনটি ম্যাচ ড্র করে শেফিল্ড ইউনাইটেড। বাংলাদেশি এই মিডফিল্ডারের প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে নাটকীয় জয়ের পর ক্লাবটি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। হামজা চৌধুরী এই জয়কে সামনের পথচলার প্রেরণা হিসেবে দেখছেন।
২৮ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার রাইট-ব্যাক হিসেবে পুরো ম্যাচ খেলেছেন। শৈশবের ক্লাব লেস্টার সিটি ছেড়ে শেফিল্ড ইউনাইটেডে পাকাপাকিভাবে যোগদানের পর এটিই ছিল চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে তার প্রথম ম্যাচ। এর আগে তিনি ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ধারে এই ক্লাবের হয়ে ১৯টি ম্যাচ খেলেছিলেন।
এক বছরের চুক্তিতে হামজা এবার শেফিল্ড ইউনাইটেডে নাম লিখিয়েছেন। ম্যাচ শেষে নিজের প্রত্যাবর্তন নিয়ে তিনি বলেন, “এখানে (ব্রামাল লেনে) আবারও ফিরতে পেরে আমি ভীষণ রোমাঞ্চিত। অবশ্যই এই রাতের ফলটা আমাদের জন্য বিশাল।” তিনি আরও যোগ করেন, “আপনি তো জানেনই যে, আমাদের মূল লক্ষ্য পরবর্তী পর্বে উত্তরণ। আমাদের এখানে এসে সেরা উপায়ে জবাব দেওয়া প্রয়োজন ছিল এবং সত্যি বলতে কী, ছেলেরা ঠিক সেটাই করেছে।”
শেফিল্ড ইউনাইটেডের ঘরের মাঠ ব্রামাল লেনে এই ম্যাচটি এক রোলার কোস্টার রাইডের মতো ছিল। প্রথম মিনিটেই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়েছিল শেফিল্ড ইউনাইটেড। তবে চতুর্থ মিনিটেই দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় তারা।
বিরতির পর ৬৭ মিনিটে ‘ব্লেড’ ডাকনামের ক্লাবটি ফের পিছিয়ে পড়ে। পরের মিনিটেই আবার সমতায় ফেরে হামজার দল, স্কোরলাইন হয় ২-২। শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে রোমেল্লে ডোনোভানের গোলে জয়ের ভাগ্য লেখা হয়।
ম্যাচ শেষে হামজা দর্শকদের বুনো উল্লাসের প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা ম্যাচটা যেভাবে চেয়েছিলাম, শুরুটা তেমন হয়নি। প্রথম মিনিটেই গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পর খেলায় ফেরার জন্য ছেলেরা দারুণ সাহস দেখিয়েছে।” তিনি আরও জানান, “এরপর সরাসরিই আমরা খেলায় প্রভাব বিস্তার করি। আমার মনে হয়, প্রথমার্ধের দীর্ঘ সময়জুড়ে আমরা সেই প্রভাব বজায় রেখেছিলাম, যদিও আমরা যেভাবে চেয়েছিলাম সেভাবে সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি।”
দ্বিতীয় গোল হজম করা প্রসঙ্গে হামজা চৌধুরী বলেন, “ধীরে ধীরে ওরা খেলায় ফিরে আসে। আমরা এমন একটা গোল হজম করি, যা অতো সহজে আমাদের দেওয়া উচিত হয়নি।” শেফিল্ড ইউনাইটেড চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের চতুর্থ ম্যাচে এসে এই প্রথম জয়ের দেখা পেল।
চার ম্যাচ থেকে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ক্লাবটি এখন লিগ টেবিলের দশম স্থানে আছে। সেখান থেকে ওপরে ওঠার দিকেই এখন চোখ হামজার। তিনি বলেন, “আবারও বলব, ম্যাচে ফিরে আসার জন্য ছেলেরা দারুণ সাহস দেখিয়েছে।”
হামজা আরও যোগ করেন, “শেষ মুহূর্তে রোম (রোমেল্লে ডোনোভান) জয় নিশ্চিত করল, যা সত্যিই দারুণ। এসব অনুভূতিই বারবার আমার মধ্যে এই জায়গায় ফিরে আসার আকুলতা তৈরি করে দেয়। এটি এক বিশেষ স্টেডিয়াম, আর সমর্থকরাও বিশেষ। হ্যাঁ, আমি সত্যিই সময়টা উপভোগ করেছি, আর আশা করি এই পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করেই আমরা এগিয়ে যেতে পারব।”
মতামত (0)