খেলাধুলাএএফসির প্রত্যাখ্যান, ফিফার পরিকল্পনায় নতুন ধাক্কা
এএফসির প্রত্যাখ্যান, ফিফার পরিকল্পনায় নতুন ধাক্কা
ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার পর এবার এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও ফিফার বাণিজ্যিক পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে, যা ফিফার উদ্যোগ বাস্তবায়নে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।
এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) ফিফার প্রস্তাবিত পরিকল্পনার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এর আগে ইউরোপিয়ান ফুটবল সংস্থা উয়েফা এবং উত্তর-মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের সংস্থা কনকাক্যাফও ফিফার এই উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছিল। এএফসি তাদের বিবৃতিতে উয়েফা ও কনকাক্যাফের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে।
ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর উদ্যোগে ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে একটি বাণিজ্যিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়। এই প্রতিষ্ঠানটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার। এশিয়ার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি এফএফই সংক্রান্ত এই প্রস্তাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
তবে ইউরোপের মতো সরাসরি বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকি দেয়নি এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন। উয়েফার সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, ফিফার পরিকল্পনা প্রত্যাহার না হলে তারা সব ধরনের আয়োজন বয়কট করবে। কনকাক্যাফও প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যানের কথা জানিয়েছে।
এএফসি তাদের বিবৃতিতে লিখেছে, "বিশ্বকাপ বর্জনের বাস্তব সম্ভাবনা জনসমক্ষে আলোচিত হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা প্রত্যেকের জন্য উদ্বেগের বিষয় হওয়া উচিত।" সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে যে, "ফুটবলের কখনোই এমন অবস্থানে পৌঁছানো উচিত ছিল না।"
এর আগে বৃহস্পতিবার এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা সদস্য সংস্থাগুলোর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সেই চিঠিতে তিনি বলেছিলেন, প্রস্তাবটি যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’। শুক্রবারের বিবৃতিতে এএফসি একই সুর বজায় রেখে বলেছে যে, প্রস্তাবিত এফএফই এমন একটি কাঠামো, যা ‘বাস্তবসম্মতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যাপক ঐকমত্য অর্জন করতে পারবে না’।
এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন সরাসরি কোনো নাম উল্লেখ না করলেও, তাদের ইঙ্গিতে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর দিকেই আঙুল তোলা হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, এই বিতর্ক ফিফার ‘পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার মৌলিক দুর্বলতা’ উন্মোচন করেছে, যা অবিলম্বে সমাধান করা প্রয়োজন।
এই টানাপোড়েনের মধ্যেই ফিফার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আরেকটি বড় ধাক্কা লেগেছে। ফিফা প্রেসিডেন্টের সিনিয়র উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো শুক্রবার এই বিক্রয় পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন। সাবেক এই ব্যাংকার এবং যুক্তরাষ্ট্র সকার ফেডারেশনের সাবেক সহসভাপতিকে একসময় ইনফান্তিনো নিজেই বিশ্ব ফুটবলের প্রবৃদ্ধিতে সহায়তার জন্য বেছে নিয়েছিলেন।
কার্লোস কর্দেইরো তার বিবৃতিতে বলেছেন, ফিফা যখন বিশ্বকাপের অংশীদারত্ব বিক্রির কথা ভাবছে, তখন তিনি ‘চুপ করে বসে থাকতে পারেন না’। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, "এই প্রস্তাবে আমার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না, এবং আমি এর সম্পূর্ণ বিরোধিতা করি।"
কর্দেইরো তার পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, ফিফা যখন ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ১৫ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে, বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার রিজার্ভে জমা আছে এবং কোনো ঋণ নেই, তখন সংস্থাটির ‘সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদের’ অংশ বিক্রি করে মাত্র ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার তোলার যুক্তি কোথায়?
উয়েফার বয়কটের হুমকি, কনকাক্যাফের প্রত্যাখ্যান, এএফসির ‘গভীর উদ্বেগ’ এবং ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ এক উপদেষ্টার পদত্যাগ—এই সবকিছু মিলিয়ে ফিফার প্রস্তাবিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সামনে এখন বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।
মতামত (0)