শিক্ষা

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন শুরু ২ সেপ্টেম্বর, ক্লাস ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন শুরু ২ সেপ্টেম্বর, ক্লাস ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন শুরু ২ সেপ্টেম্বর, ক্লাস ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন ২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন হবে এবং ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরু হবে।

একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া আগামী ২ সেপ্টেম্বর বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে। এই আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইনে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে প্রকাশিত নীতিমালা অনুযায়ী, ভর্তি সংক্রান্ত যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার থেকে সারাদেশে নতুন শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে।

শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য কোনো ধরনের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে না। কেবল মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। এই সংক্রান্ত বিস্তারিত নীতিমালা সোমবার প্রকাশ করা হয়।

প্রকাশিত নীতিমালায় দেশের সকল কলেজ ও সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আসন বিন্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। মোট আসনের মধ্যে ৯৩ শতাংশ আসন সকল সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এই আসনগুলোতে মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ পাবে।

বাকি ৭ শতাংশ আসন বিভিন্ন কোটায় সংরক্ষিত থাকবে। এর মধ্যে, মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ আসন বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ২ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত থাকবে। নীতিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংরক্ষিত আসনে উপযুক্ত প্রার্থী না পাওয়া গেলে সেই আসনগুলো মেধা তালিকা থেকে পূরণ করতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই আসন শূন্য রাখা যাবে না।

অনলাইনে আবেদন গ্রহণ আগামী ২ সেপ্টেম্বর বুধবার থেকে শুরু হয়ে ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে। যেসব শিক্ষার্থীর ফল পুনঃনিরীক্ষণের পর পরিবর্তিত হবে, তারা আগামী ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর রবিবার রাত ৮টা পর্যন্ত তাদের আবেদন ও পছন্দের ক্রম পরিবর্তন করার সুযোগ পাবেন।

প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় প্রকাশ করা হবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত তাদের প্রাথমিক নিশ্চায়ন সম্পন্ন করতে পারবে। এই সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন না করলে তাদের নির্বাচন বাতিল বলে গণ্য হবে।

কলেজে চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম ২০ সেপ্টেম্বর রবিবার থেকে শুরু হয়ে ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার পর্যন্ত চলবে। ভর্তি-সংক্রান্ত সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার থেকে সারাদেশে একাদশ শ্রেণির ক্লাস আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।

ভর্তির যোগ্যতা ও বিভাগ নির্বাচন বিষয়ে নীতিমালায় নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, মানবিক অথবা ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের যেকোনোটিতে আবেদন করতে পারবে। তবে অন্য কোনো বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির কোনো সুযোগ থাকবে না।

অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ২২০ টাকা ভর্তি ফি প্রদান করতে হবে। এছাড়া আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে প্রাথমিক নিশ্চায়নের জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ৩৪০ টাকা জমা দিতে হবে। এই ফি অনলাইনে পরিশোধ করতে হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভর্তি ও সেশন চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার কলেজগুলোতে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভার্সনে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা ফি নেওয়া যাবে।

একইভাবে, অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকার এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা ফি ধার্য করা হয়েছে। জেলা সদরের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি ২ হাজার টাকা এবং উপজেলা বা মফস্বল এলাকার কলেজগুলোতে ১ হাজার ৫০০ টাকা সর্বোচ্চ ফি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, নন-এমপিও ও আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য বাংলা ভার্সনে ফি কাঠামো ভিন্নভাবে নির্ধারিত হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটনে এই ধরনের প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া যাবে।

অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকায় ৫ হাজার টাকা, জেলা সদরে ৩ হাজার টাকা এবং মফস্বল এলাকায় ২ হাজার ৫০০ টাকা বাংলা ভার্সনে ফি হিসেবে নেওয়া যাবে। এই ফিগুলো সংশ্লিষ্ট এলাকার জন্য সর্বোচ্চ সীমা হিসেবে বিবেচিত হবে।

ইংরেজি ভার্সনের ক্ষেত্রে নন-এমপিও ও আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ঢাকা মেট্রোপলিটনে সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া যাবে। এটি বাংলা ভার্সনের চেয়ে কিছুটা বেশি।

অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকায় ইংরেজি ভার্সনে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা, জেলা সদরে ৪ হাজার টাকা এবং মফস্বল এলাকায় ৩ হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ফিগুলোও সংশ্লিষ্ট এলাকার জন্য সর্বোচ্চ সীমা হিসেবে প্রযোজ্য হবে।

বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন অর্থাৎ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ভর্তি ফি যথাসম্ভব মওকুফ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নীতিমালায় অনুমোদনহীন কোনো শাখা বা ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ভর্তি না করার জন্য স্পষ্ট উল্লেখ আছে।

এছাড়া নীতিমালাতে আরও বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত ফি আদায় করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি ও এমপিওভুক্তি বাতিলও অন্তর্ভুক্ত।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...