সারাদেশগাজীপুরে নারীর খণ্ডিত লাশ উদ্ধার, তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই
গাজীপুরে নারীর খণ্ডিত লাশ উদ্ধার, তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই
গাজীপুরে ব্রিফকেস ও বস্তায় এক নারীর খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। গ্রেফতারকৃতরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
গাজীপুরের জয়দেবপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে পানিতে একটি ব্রিফকেস ও বস্তা থেকে এক নারীর খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পিবিআই জানিয়েছে।
গত ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে পানিতে ব্রিফকেসে এক খণ্ড এবং অন্যত্র বস্তায় আরেক খণ্ড অর্ধগলিত অবস্থায় অজ্ঞাতনামা নারীর লাশটি উদ্ধার হয়। ঘটনাটি সেসময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছিল।
পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান আনসারীর নেতৃত্বে একটি ক্রাইমসিন টিম তদন্ত শুরু করে। তারা বিভিন্ন ডকুমেন্ট বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে।
নিহত নারীর নাম ডলি আক্তার ওরফে কালিয়া (৩০)। তিনি মুক্তাগাছা থানার পাহাড়পাবইজান গ্রামের সোহেলের ছোট বোন। ডলি আক্তার স্বামীর সাথে বিবাহবিচ্ছেদের পর গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন বানিয়ারচালা মেম্বারবাড়ী এলাকায় একাই বসবাস করতেন।
এই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই সোহেল অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গত ১২ সেপ্টেম্বর পেনাল কোডের ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি করা হয়। একই দিন পিবিআই গাজীপুর জেলা স্ব-উদ্যোগে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গত ১২ সেপ্টেম্বর ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো: মিশন ইসলাম, তার মা বানু আক্তার এবং মিশনের বন্ধু মো: মিজানুর রহমান মিল্টন।
পিবিআইয়ের তদন্ত অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ বছর আগে তামান্না গার্মেন্টসে মিশন ও ডলির পরিচয় হয়েছিল। এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিরোধ এবং আর্থিক বিষয়কে কেন্দ্র করে মিশনের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল।
মিশনের দেখানো মতে তার ঘর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লাশ খণ্ডিত করতে ব্যবহৃত বটি দা এবং লাশ প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত স্কচটেপ। এছাড়াও স্যুটকেস কেনার সিসিটিভি ফুটেজ, ভিকটিমের জাতীয় পরিচয়পত্র, বাটন মোবাইল ফোন ও জুতা উদ্ধার করা হয়।
গতকাল রবিবার তিন আসামিই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পিবিআই জানিয়েছে।
তদন্ত সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ডলি মিশনের বাসায় গিয়েছিলেন। সেখানে মিশনের মা বানু আক্তারের সাথে তার কথাকাটাকাটি হয়। পরে মিশন ও ডলি একই কক্ষে অবস্থান করেন।
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, মিশন ডলিকে ঘুমের ওষুধ সেবন করানোর পর শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। ডলি ঘুমিয়ে পড়লে রাত আনুমানিক ২টার দিকে তাকে শ্বাসরোধ করা হয়। মিশন লুঙ্গি দিয়ে ডলির গলায় প্যাঁচ দিয়ে ও পা দিয়ে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করেন। পরে বালিশ দিয়ে মুখ চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর লাশটি চৌকির নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পরদিন মিশন একটি স্যুটকেস কিনে আনেন। তিনি বটি ও ব্লেড দিয়ে লাশটি কোমর থেকে দুই খণ্ড করেন।
পরে মিশন ও তার মা বানু আক্তার মিশনের বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টনের সহযোগিতা নেন। মিশনের বাড়িতে থাকা স্যুটকেস ও বস্তা নিয়ে তারা একটি অটোতে করে রাজেন্দ্রপুর যান।
রাজেন্দ্রপুর থেকে তারা সিএনজিতে করে ভবানীপুর পৌঁছান। এরপর ভবানীপুর ব্রিজের ওপর থেকে মিশন ও মিল্টন লাশভর্তি স্যুটকেস ও বস্তা খালে ফেলে দেন। ঘটনার সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে।
মতামত (0)