সারাদেশ

বিএসএফের হাতে আটক ৫ বাংলাদেশি, পরিবারে উদ্বেগ

বিএসএফের হাতে আটক ৫ বাংলাদেশি, পরিবারে উদ্বেগ
বিএসএফের হাতে আটক ৫ বাংলাদেশি, পরিবারে উদ্বেগ
পদ্মা নদীতে পথ ভুল করে ভারতীয় সীমান্তে ঢুকে পড়ায় পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিককে বিএসএফ আটক করেছে বলে পরিবারের দাবি। আটকের পর থেকেই তাদের পরিবারে অনিশ্চয়তা ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার সীমান্ত এলাকা থেকে পাটবোঝাই নৌকাসহ পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিককে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) আটক করেছে বলে তাদের পরিবার দাবি করেছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে পদ্মা নদীতে পথ ভুল করে ভারতীয় সীমান্তে ঢুকে পড়লে এই ঘটনা ঘটে। আটকের পর থেকেই পরিবারগুলোতে উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের আলাইপুর মধ্যপাড়া গ্রামের কলেজছাত্র মোশাররফ হোসেন (২৬), সাহাবুল আলী (৪০), বাবর আলী (৪০), নৌকার মাঝি সাইফুল ইসলাম (৪৬) এবং নৌকার মাঝি আশাদুল ইসলাম (৩৮)। এদের মধ্যে তিনজন পাট ব্যবসায়ী এবং দু’জন নৌকার মাঝি। গতকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আটক ব্যক্তিদের বাড়িতে গিয়ে তাদের স্বজনদের মধ্যে হতাশা দেখা যায়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে তারা বাংলাবাজার চর এলাকা থেকে পাট কিনে আলাইপুরের দিকে ফিরছিলেন। নদীতে প্রবল স্রোতের বিপরীতে নৌকা চালানোর সময় রাতের অন্ধকারে মাঝি-মাল্লারা পথ হারিয়ে ফেলেন। একপর্যায়ে নৌকাটি ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে প্রবেশ করে।

পরে বিএসএফ পাটবোঝাই নৌকাসহ ওই পাঁচজনকে আটক করে নিয়ে যায় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। আটকের পাঁচ দিন পরও তাদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পরিবার পায়নি। আটক আশাদুল ইসলামের ভাই সাহারুল ইসলাম জানান, ভুল করে ভারতীয় সীমান্তে ঢুকে পড়ায় তাদের আটক করা হয়েছে।

ঘটনার পর স্বজনেরা আলাইপুর বিজিবি ক্যাম্পে যোগাযোগ করেন। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ সেপ্টেম্বর বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলাইপুর বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার নায়েক সুবেদার মুনছুর আলী এই বৈঠকের কথা নিশ্চিত করেছেন।

নায়েক সুবেদার মুনছুর আলী বলেন, নৌকাটি ভুল করে ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে চলে গিয়েছিল। তবে বৈঠকের পরও আটক ব্যক্তিদের ফেরত আনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান হয়নি। বিজিবির মিডিয়া সেলের সিপাহী সাকিব মুঠোফোনে জানান, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে এবং তাদের দ্রুত ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করা হচ্ছে।

আটক কলেজছাত্র মোশাররফ হোসেনের বাবা গোলাম মোস্তফা বলেন, অভাবের সংসারে তার ছেলে লেখাপড়ার পাশাপাশি পাটের ব্যবসা করত। ছেলে কোথায়, কেমন আছে, সে বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। নৌকার মাঝি আশাদুল ইসলামের মেয়ে বৈশাখী তার বাবাকে ফিরিয়ে দেওয়ার আকুতি জানান।

বৈশাখী বলেন, বাবা ছাড়া তাদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে এবং আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার করে সংসার চলছে। আটক বাবর আলীর স্ত্রী হেলেনা খাতুন তার স্বামীর অবস্থান ও অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারলেই কিছুটা শান্তি পেতেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি পরিবারের চরম দুশ্চিন্তার কথা জানান।

স্থানীয়দের দাবি, আটক পাঁচজনই এলাকায় পাট ব্যবসা ও নৌকা চালানোর সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে মাদক বা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার কোনো অভিযোগ নেই। ভুলবশত সীমান্তের ওপারে চলে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মানবিক দিক থেকে তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পাকুড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফকরুল হাসান বাবলু বলেন, এরা গরিব মানুষ। ভুল করে সীমান্তের ওপারে চলে গেছে। দ্রুত তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা উচিত। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, বিষয়টি রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদকে জানানো হয়েছে। সংসদ সদস্য বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...