ভিডিওহাজতখানায় আসামিদের ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের ভিডিও ভাইরাল, দুই পুলিশ প্রত্যাহার
হাজতখানায় আসামিদের ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের ভিডিও ভাইরাল, দুই পুলিশ প্রত্যাহার
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানার হাজতখানায় আসামিদের ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আসামিরা হাজতখানায় মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানার হাজতখানায় ১০ জন আসামির ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের পক্ষে এসব স্লোগান দেওয়ার ওই ভিডিও একটি ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয়েছিল। হাজতখানায় আসামিদের হাতে মুঠোফোন পৌঁছানো এবং তা দিয়ে ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে পোস্ট করার ঘটনায় পুলিশের দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একজন তরুণ প্রথমে কিছু বক্তব্য দেন। এরপর তিনি ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান তোলেন। সেখানে উপস্থিত অন্য তরুণরাও তার সঙ্গে একই স্লোগান দেয়।
এই ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম এবং কনস্টেবল জাহাঙ্গীর হোসেনকে তাঁদের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী আটকের বিষয়টি অভিভাবকদের ফোন করে জানানোর কথা।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানিয়েছেন, গত শনিবার রাতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের ব্যানারে মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। এর আগে গ্র্যান্ড চাঁদনী রেস্টুরেন্টের বিপরীতে ঢাকামুখী প্রধান সড়ক থেকে ১০ জনকে আটক করা হয়। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ১৮ বছর বয়সী ফেরদৌস, ১৮ বছর বয়সী আবরার আহম্মেদ, ১৮ বছর বয়সী ইয়াসিন, ২০ বছর বয়সী রাব্বি, ২০ বছর বয়সী শিমুল এবং ১৮ বছর বয়সী নয়ন রয়েছেন। এছাড়া বাকি চারজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। গ্রেপ্তারকৃত সবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়া ও ফতুল্লার পঞ্চবটি বিসিক এলাকায়।
ওসি মাহবুব আলম আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের থানার হাজতখানায় রাখা হয়েছিল। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এসআই মনিরুল ইসলাম সরল বিশ্বাসে তাঁদের মুঠোফোন ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন। এই সুযোগে তাঁরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনটির পক্ষে স্লোগান দিয়ে ভিডিও ধারণ করেন এবং তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন।
গতকাল রোববার গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে হাজির করা হলে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
মতামত (0)