ভিডিও

নেপালের বন্যায় আটকে পড়া পরিবারের ভাইরাল ভিডিও: শেষ পরিণতি অজানা

নেপালের বন্যায় আটকে পড়া পরিবারের ভাইরাল ভিডিও: শেষ পরিণতি অজানা
নেপালের বন্যায় আটকে পড়া পরিবারের ভাইরাল ভিডিও: শেষ পরিণতি অজানা
নেপালের ত্রিশূলী নদী সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যায় একটি বাড়ির বারান্দায় আটকে পড়া পরিবারের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তীব্র স্রোতের মুখে আটকা পড়া মানুষের শেষ পরিণতি ভিডিওতে দেখা যায়নি।

নেপালের ত্রিশূলী নদী সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, তুমুল বেগে কাদা পানির স্রোত ধেয়ে আসছে। তীব্র গতির সেই স্রোতে বাড়িঘর, গাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা ভেসে যাচ্ছিল।

আশপাশের অনেক বাড়িঘর ভেঙে পড়লেও হালকা সবুজ রঙের একটি বাড়ির বারান্দায় কয়েকজন মানুষকে আটকা পড়ে থাকতে দেখা যায়। ভিডিওতে অন্তত একজন পুরুষ, একজন নারী এবং একটি ছোট মেয়েসহ মোট তিনজনকে ওই বাড়ির দোতলার বারান্দায় আটকে থাকতে দেখা যায়। এ সময় বাড়িটির ছাদে থাকা একজন সাহায্যের জন্য লাল রঙের একটি কাপড় নাড়ছিলেন।

তাদের চারপাশ দিয়ে তীব্র বেগে কাদামাটির স্রোত বয়ে যাচ্ছিল। সেই স্রোতের সঙ্গে বড় বড় পাথর, ধ্বংসাবশেষ এবং বাড়িঘরের টিনের চালও ভেসে যেতে দেখা যায়। তীব্র স্রোতের সঙ্গে ভেসে আসা বিভিন্ন বস্তু একের পর এক বাড়িটিতে আঘাত হানছিল, দেখে মনে হচ্ছিল যেন সেটিও ভেসে যাবে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিওতে আটকা পড়া মানুষগুলোর শেষ পরিণতি দেখা যায়নি। তবে ভিডিওটি প্রকাশ করে জানানো হয়, পরিবারটি কোনোভাবে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছিল। বন্যার পানির স্রোত থেমে যাওয়ার পর লোকজন সাহায্যের জন্য সেখানে পৌঁছায়।

আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশ্লেষক এরিক চেন এই ভিডিও ফুটেজটি শেয়ার করে মন্তব্য করেছেন। তিনি এটিকে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের একটি বলে উল্লেখ করেন। চেন লেখেন, চারপাশের সবকিছু নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া প্রবল স্রোতের মধ্যেও একটি বাড়ি এখনো দাঁড়িয়ে আছে।

তিনি আরও লেখেন, মানুষগুলো কোনোভাবে বারান্দা ও ছাদে টিকে আছেন। কাদা, বরফ, পাথর ও পানির বিশাল ঢেউ নেপাল-তিব্বতের এই উপত্যকা চিরে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, তারা কেবল কোনো পরিসংখ্যান নয়, এটি একটি পরিবার যারা অপেক্ষা করছে পানির পরবর্তী ঢেউ এসে তাদের বেঁচে থাকার শেষ নিরাপদ জায়গাটুকুও ভাসিয়ে নিয়ে যাবে কি না। তিনি প্রার্থনা করেন যেন তারা বেঁচে থাকেন এবং উদ্ধারকারীরা পানির আরেকটি ঢেউ আসার আগেই তাদের কাছে পৌঁছাতে পারেন।

বন্যার পর থেকেই দুর্গত এলাকায় ব্যাপকভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনীর যে ক্যাম্প খোলা হয়েছে, সেখানে নিখোঁজদের স্বজনেরা নিয়মিত ভিড় করছেন। অনেকে পরিবারের সদস্যদের খুঁজে না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ত্রিশূলী গ্রামের বাসিন্দারা তাদের বাড়িঘরের জিনিসপত্রও খুঁজে বেড়াচ্ছেন।

৪৩ বছর বয়সী সরস্বৈত ঘালে সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে জানান, ঘোলা পানি প্রবল বেগে ধেয়ে আসছিল এবং যাওয়ার সময় "ভূমিকম্পের মতো মাটি কেঁপে উঠেছিল"। তিনি বলেন, তাদের আশপাশের পাহাড়ের ঢালগুলো পানিতে ডুবে গিয়েছিল এবং তিনি ভেবেছিলেন তারা এই দুর্যোগ থেকে বাঁচতে পারবেন না। ঘালে দ্রুত একটি উঁচু জায়গায় ছুটে যান এবং সেখান থেকেই তিনি দেখতে পাচ্ছিলেন যে তার চারপাশে কাদা পানির স্রোতে সবকিছু ভেসে যাচ্ছে। তিনি জানান, এই ঘটনাটি তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। ঘালে বলেন, "এখন যেন কোনো পৃথিবী নেই। আর কী বাকি আছে? মনে হচ্ছে আমি মরে গেছি।"

একই গ্রামের ১৭ বছর বয়সী কিশোরী ঋষিকা কালওয়ার জানান, তাদের পৈত্রিক বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি বলেন, "যে জায়গায় আমরা জন্মেছি এবং দীর্ঘদিন বসবাস করেছি। আমাদের বাবা-মা অনেক যুদ্ধ করে অনেক সংগ্রাম করেছেন। আমার মনে হয় আমি এই সংগ্রামগুলো কখনো ভুলতে পারব না।" এক নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তার দুই ছেলেকে পানিতে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...