আন্তর্জাতিকইরানের লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলা, তেহরানের পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি
ইরানের লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলা, তেহরানের পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গতকাল ইরানের লারাক দ্বীপে হামলা চালিয়েছে, যার প্রতিক্রিয়ায় ইরান প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এই হামলায় সামরিক ও বেসামরিক লোকজন হতাহত হয়েছে বলে ইরান জানিয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গতকাল, গত রোববার, হরমুজ প্রণালীর সন্নিকটে অবস্থিত ইরানের লারাক দ্বীপে সামরিক হামলা চালিয়েছে। এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি ইরানে মার্কিন বাহিনীর প্রথম এমন আক্রমণ। এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) প্রতিশোধমূলক জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে যে, হামলায় সামরিক ও বেসামরিক উভয় পক্ষের লোকজন হতাহত হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, এই আক্রমণে বেশ কয়েকজন যোদ্ধা এবং বেসামরিক নাগরিক আহত ও নিহত হয়েছেন। তবে আইআরজিসি হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
আইআরজিসির মুখপাত্র সরদার মোহেবি মার্কিন পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘কৌশলগত ও মারাত্মক’ ভুল করছে। এই ভুলের জন্য তাদের অর্থনৈতিক ও সামরিক উভয় দিক থেকে চড়া মূল্য দিতে হবে।
মার্কিন কর্মকর্তারা হামলার কারণ হিসেবে ইরানের একটি কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেছেন। সিএনএন-কে দেওয়া এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত জলপথে রকেটের সাহায্যে মাইন স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল ইরান। এই প্রস্তুতির জবাবে মার্কিন বাহিনী লারাক দ্বীপে অবস্থিত ইরানের দুটি লঞ্চার লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
লারাক দ্বীপটি হরমুজ প্রণালীর কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। বিশ্বজুড়ে নৌ-পরিবহনের অন্যতম প্রধান এই পথটি আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক তৎপরতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
গত সপ্তাহে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ওই জলপথের আন্তর্জাতিক নৌ-পরিবহন রুটগুলো থেকে সামুদ্রিক মাইন অপসারণের কাজ শেষ করেছে। এর আগে গত মঙ্গলবার, আগস্ট মাসের পঁচিশ তারিখে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, নতুন মাইন স্থাপনকারী যেকোনো জাহাজ বা নৌযানকে তাৎক্ষণিক এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী ধ্বংস করা হবে।
মতামত (0)