আন্তর্জাতিক

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর সূচনা: তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর সূচনা: তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর সূচনা: তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে এ অঞ্চলে নতুন একটি নিরাপত্তা ও সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গতকাল ইস্তাম্বুলে এই চুক্তির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’র মাধ্যমে এ অঞ্চলে একটি নতুন নিরাপত্তা ও সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ত্রিপক্ষীয় ওই চুক্তির আওতায় গঠিত কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।

ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী বৈঠকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলারসহ শীর্ষ সামরিক ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন। পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এবং সেনাপ্রধান অসীম মুনির। সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্ব করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান।

মূল বৈঠকের পাশাপাশি অংশীদার দেশগুলোর মধ্যে কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে যৌথ প্রতিরক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, 'মক্কা প্রতিরক্ষা জোট' সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই গঠিত হয়েছে।

তিনি জানান, এই জোট এ অঞ্চলে আরও বেশি স্থিতিশীলতা আনবে এবং অনিশ্চয়তা কমাতে ভূমিকা রাখবে। হাকান ফিদান আরও বলেন, নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক দেশগুলোর এখন জরুরি ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন।

জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার প্রক্রিয়া গতকাল থেকে শুরু হয়েছে। রিয়াদে একটি সচিবালয় স্থাপন করা হয়েছে। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পাকিস্তানের মধ্য থেকে প্রথম মহাসচিব নিযুক্ত করা হবে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে আরও ছয়-সাতটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ যোগ দিতে আগ্রহী। নতুন দেশগুলোর অন্তর্ভুক্তি সহজ করতে জোটের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশও এই জোটে যুক্ত হতে আগ্রহ দেখিয়েছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মক্কা চুক্তির বিষয়ে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগিয়ে চলছে। সরকার এই চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ঝুঁকি দেখছে না।

গত ৭ আগস্ট মক্কায় জোটের মূল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির একটি অন্যতম প্রধান শর্ত হলো সদস্যদেশগুলোর যেকোনো একটির ওপর আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, এই জোট কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়। আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় এটি কাজ করবে। জোটটি নতুন সদস্য গ্রহণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, তবে সে ক্ষেত্রে নির্ধারিত কিছু শর্ত ও মানদণ্ড বজায় রাখতে হবে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...