বিনোদন

জ্যাকির উত্থান-পতন: চাওল থেকে তারকা, সব হারিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়ানো

জ্যাকির উত্থান-পতন: চাওল থেকে তারকা, সব হারিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়ানো
জ্যাকির উত্থান-পতন: চাওল থেকে তারকা, সব হারিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়ানো
অভিনেতা জ্যাকি শ্রফ মুম্বাইয়ের চাওলের ১০ বাই ১০ ফুটের ঘর থেকে বলিউডের তারকা হয়ে উঠেছিলেন। এরপর ২০০৩ সালে 'বুম' ছবির প্রযোজনা তাঁকে আর্থিক সংকটে ফেলে, যেখানে তিনি বাড়ি-গাড়ি সব হারান, তবে পরে আবার ঘুরে দাঁড়ান।

মুম্বাইয়ের টিন বাত্তি এলাকার একটি ছোট কামরার বহুতল ভবনের মাত্র ১০ বাই ১০ ফুটের ঘরে পরিবারের সঙ্গে বড় হয়েছেন জ্যাকি শ্রফ। একসময় এই ঘরেই জায়গা ভাগ করে থাকতে হতো, পরে তিনিই বলিউডের অন্যতম পরিচিত অভিনেতা হয়ে ওঠেন। খ্যাতি, অর্থ, বড় বাড়ি এবং দামি গাড়ি সবই তাঁর জীবনে এসেছিল। তবে একসময় সেই সচ্ছলতা ভয়াবহ আর্থিক সংকটে পড়ে।

২০০৩ সালের ছবি ‘বুম’ প্রযোজনার সিদ্ধান্ত জ্যাকি শ্রফের পরিবারকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছিল। সে সময় বাড়ির আসবাবপত্র একে একে বিক্রি করতে হয়, এমনকি চার শয্যার ফ্ল্যাটও বিক্রি করে দিতে হয়েছিল। পরে স্ত্রী আয়েশা এবং দুই সন্তান টাইগার ও কৃষ্ণাকে নিয়ে একটি ছোট বাড়িতে উঠতে হয় তাঁদের।

অভিনেতা জ্যাকি শ্রফ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁর জীবনের এই আর্থিক উত্থান-পতন নিয়ে কথা বলেছেন। তাঁর জীবন শুধু চাওল থেকে বলিউড তারকা হয়ে ওঠার গল্প নয়, এটি অর্থ, সাফল্য, ভুল ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত এবং আবার ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পও।

এত বছর পরও চাওলের স্মৃতি তাঁর কাছে আলাদা। সেই ঘর এখন আর তাঁর দখলে নেই, তবে সেখানে কাটানো ৩৩ বছর তিনি ভুলতে পারেননি। জ্যাকি জানান, পুরোনো ঘরটি আবার ভাড়া নেওয়ার ইচ্ছা তাঁর আছে। বাড়ির মালিক রাজি না হলেও তিনি মাঝেমধ্যে সেখানে যান এবং বারান্দায় দাঁড়িয়ে পুরোনো দিনের কথা মনে করেন।

জ্যাকি শ্রফের বাবা ছিলেন জ্যোতিষী, তাই পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব সচ্ছল ছিল না। অভিনেতা একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, জীবনের প্রথম ৩৩ বছর কেটেছে সেই চাওলেই। অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও তিনি কিছুদিন সেখানে ছিলেন। চাওলের জীবনযাত্রা ছিল খুবই সাধারণ; শৌচাগার সবার জন্য ছিল এবং সেখানে যাওয়ার জন্যও লাইনে দাঁড়াতে হতো। জীবনের প্রথম দিকের কয়েক বছর শুটিংয়ে যাওয়ার আগে কিংবা কাজের ফাঁকে তাঁকে এই বাস্তবতার মধ্যেই থাকতে হতো বলে জ্যাকি স্মরণ করেছেন।

তখন থেকেই গাড়ির প্রতি তাঁর আলাদা আকর্ষণ ছিল। আয় করতে শুরু করার পর সঞ্চয়ের চেয়ে পরিবার, বন্ধু ও প্রয়োজনের মানুষকে সাহায্য করতেই তিনি বেশি আগ্রহী ছিলেন। তাঁর নিজের ভাষায়, টাকা এলেই তিনি তা দিয়ে দিতেন, ফলে অর্থ উপার্জন করলেও সঞ্চয় খুব একটা হতো না।

অভিনয়ে আসার আগে জ্যাকি শ্রফ মডেলিং করতেন। সেই সময় তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় দেব আনন্দের। ১৯৮২ সালে দেব আনন্দের ‘স্বামী দাদা’ দিয়ে চলচ্চিত্রে তাঁর অভিষেক হয়। এরপর ১৯৮৩ সালে সুভাষ ঘাইয়ের ‘হিরো’ তাঁকে রাতারাতি পরিচিতি এনে দেয়। ‘হিরো’র সাফল্যের পর তাঁকে আর পেছন তাকাতে হয়নি। একের পর এক ছবিতে কাজ করতে থাকেন তিনি। অ্যাকশন, রোমান্স, পারিবারিক গল্প—বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে আশি থেকে নব্বইয়ের দশকে তিনি বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা হয়ে ওঠেন। খ্যাতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তাঁর আর্থিক অবস্থাও বদলাতে থাকে।

অভিনয় থেকে আয় শুরু হলেও নিজের জন্য স্থায়ী বাড়ি কেনার ব্যাপারে জ্যাকির তেমন আগ্রহ ছিল না। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, গাড়ি কেনা, পরিবারকে সাহায্য করা কিংবা দরিদ্র মানুষকে অর্থ দেওয়াই ছিল তাঁর বেশি আগ্রহের বিষয়। তাঁর মা বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। অভিনেতা শক্তি কাপুরও তাঁকে বোঝান যে শুধু অর্থ উপার্জন করলেই হবে না, নিজের একটি বাড়িও থাকা দরকার।

পরে জ্যাকি জানান, তাঁকে বাড়ি কিনতে সাহায্য করতে স্ত্রী আয়েশা নিজের বাড়ি বিক্রি করেছিলেন। আয়েশা ছিলেন তুলনামূলক সচ্ছল পরিবারের মেয়ে; তাঁর বাবা ছিলেন বিমানবাহিনীর সাবেক এয়ার ভাইস মার্শাল। তবুও জ্যাকির সংগ্রামের সময়ে তিনি তাঁর পাশে ছিলেন এবং চাওলের জীবনযাত্রার সঙ্গেও মানিয়ে নিয়েছিলেন। একসময় সেই ছোট ঘর ছেড়ে জ্যাকি বড় বাড়ির মালিক হন; তাঁর জীবনে তখন যেন স্বপ্নপূরণের সময়।

বাবার তারকাখ্যাতির আড়ালে ‘বুম’-এর ব্যর্থতার ধাক্কা টাইগার শ্রফের শৈশবেও গভীর ছাপ ফেলেছিল। তিনি পরে বলেছেন, পরিবারের আর্থিক সংকটের সময় ছোটবেলায় অনেক কিছু বুঝতে না পারলেও ঘরের জিনিসপত্র একে একে বিক্রি হতে দেখেছেন। টাইগার একসময় এমনও জানিয়েছিলেন যে ভবিষ্যতে তিনি তাঁদের হারানো বাড়িটি আবার কিনে বাবা-মাকে ফিরিয়ে দিতে চান। তবে জ্যাকি ও আয়েশা সেই পুরোনো বাড়ি ফিরে পাওয়ার বিষয়ে খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না। জ্যাকির ভাষ্য অনুযায়ী, আয়েশার মনোভাব ছিল—যা চলে গেছে, তা চলে গেছে।

অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর জ্যাকি প্রযোজনায় নামেন। স্ত্রী আয়েশা শ্রফের প্রযোজনায় তৈরি হয় ‘বুম’। কাইজাদ গুস্তাদের পরিচালনায় ২০০৩ সালের এই ছবিতে অভিনয় করেন অমিতাভ বচ্চন, জ্যাকি শ্রফ, গুলশন গ্রোভার, জিনাত আমান, পদ্মা লক্ষ্মী ও ক্যাটরিনা কাইফ। এই ছবির মাধ্যমেই বলিউডে অভিষেক হয় ক্যাটরিনা কাইফের।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...