বিনোদন

কারওয়ান বাজারের রাস্তায় জীর্ণ শাড়িতে এক নারীর গান

কারওয়ান বাজারের রাস্তায় জীর্ণ শাড়িতে এক নারীর গান
কারওয়ান বাজারের রাস্তায় জীর্ণ শাড়িতে এক নারীর গান
ঢাকা শহরের কারওয়ান বাজারের রাস্তায় এক নারী জীর্ণ শাড়ি ও ভাঙা তানপুরা নিয়ে গান গাইছিলেন। পথচারীরা তাকে অদ্ভুত চোখে দেখছিল, কেউ কেউ পাগল বলে টিটকিরি দিচ্ছিল।

ঢাকা শহরের সকালটা অ্যাবসার্ডিটির মতো নিষ্প্রভ ও পরম্পরাহীন ছিল। ছুটে চলা ব্যস্ত মানুষের চোয়ালের নিচে ধোঁয়ার মতো অস্পৃশ্য নাগরিক ক্লান্তি ঝুলে ছিল। কারওয়ান বাজারের রাস্তার ধারে এক নারী বসে ছিলেন।

তার পরনে ছিল জীর্ণ নীল শাড়ি। চুলে ছিল ধুলো এবং হাতে ছিল একটি ভাঙা তানপুরা। সেই নারীর কণ্ঠভরা গান শোনা যাচ্ছিল।

রাস্তার লোকজন অদ্ভুত চোখে সেই নারীটির দিকে তাকাচ্ছিল। কেউ কেউ তাকে পাগল বলে টিটকিরি দিয়ে যাচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতেও নারীটি গান গেয়ে যাচ্ছিলেন।

তিনি গেয়ে চলেছিলেন, ‘যে দুটি আঁখি সদা শ্যাম হেরে নয়নে যে মাথা নুয়ে পড়ে প্রভু প্রেম বয়ানে এমনি লাগিলো বাঁধন মীরা হইলো মগন।’ তার গান চারপাশের কোলাহল ছাপিয়ে যাচ্ছিল।

নারীটি আরও গাইছিলেন, ‘মরেও সে জীব অমর এ পৃথিবীতে প্রভুর প্রেমে যে জীব জীবন পারে দিতে অলিতে গলিতে মীরা হরি-গুণ গায় প্রাসাদে পালিতা রানী যোগী হয়ে যায়।’ তার কণ্ঠের গান এক স্থিরতা বজায় রাখছিল।

চারপাশে লাল বাস, মোটরসাইকেল এবং হকারদের হাঁকডাক শোনা যাচ্ছিল। স্কুলগামী কিশোরীরা তাড়াহুড়ো করে পথ চলছিল। শহরের ব্যস্ততা তাকে ঘিরে ছিল।

পিলারগুলো পোস্টারে মোড়া ছিল এবং বিভিন্ন ব্যানার ঝুলছিল। প্রতিটি ব্যানারের ভাষাই ছিল প্রতিহিংসাত্মক। এই কোলাহলপূর্ণ ও প্রতিহিংসামূলক পরিবেশে নারীটি গান অব্যাহত রেখেছিলেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...