রাজনীতি

জনগণের আস্থা ধরে রাখাই বিএনপির প্রধান চ্যালেঞ্জ: রিজভী

জনগণের আস্থা ধরে রাখাই বিএনপির প্রধান চ্যালেঞ্জ: রিজভী
জনগণের আস্থা ধরে রাখাই বিএনপির প্রধান চ্যালেঞ্জ: রিজভী
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জনগণের আস্থা ও জনপ্রিয়তা ধরে রাখাই দল ও সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশ ও আন্দোলন-সংগ্রামের পর জনগণের ভোটে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। এখন দল ও সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জনগণের আস্থা ও জনপ্রিয়তা ধরে রাখা। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং জনগণের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত থাকতে তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী। এর আগে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী দলের শীর্ষ নেতাদের সাথে নিয়ে বাবা-মায়ের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া করেন।

রিজভী বলেন, ৪৮ বছর আগে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে কয়েকটি প্রত্যয়কে সামনে রেখে বিএনপির প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন, উৎপাদন ও আত্মনির্ভরশীলতার লক্ষ্যে তিনি বৈপ্লবিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। শিক্ষা, সংস্কৃতি, বৈদেশিক নীতি, অভ্যন্তরীণ নীতি ও আইনশৃঙ্খলা- সব ক্ষেত্রেই শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে একটি গৌরবজনক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে নাগরিক স্বাধীনতা নিশ্চিত এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চার সুযোগ সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন মত ও পথের মানুষ তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পেয়েছেন। ১৯৭৫ সালে বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর সংবাদপত্র বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। আজ যারা সংবাদপত্রে দায়িত্ব পালন করছেন এবং স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করছেন, এর পেছনে শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

বিদেশে শ্রমশক্তি রফতানি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে রিজভী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান একটি আদর্শভিত্তিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার নীতি, আদর্শ ও দর্শনের পতাকা ধারণ করে তারা এগিয়ে যাচ্ছেন।

এরশাদবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, পরবর্তীতে আবারো ষড়যন্ত্র ও নানা ধরনের নীলনকশার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সামরিক আইন জারি করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ স্তব্ধ করে দেন। সেই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বেগম খালেদা জিয়া নয় বছর আপসহীন সংগ্রাম করেছেন।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য তিনি কারো সাথে আপস করেননি এবং জনগণের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার রক্ষা করেছেন। বিএনপিকে ‘ওয়াদা রক্ষাকারী দল’ উল্লেখ করে রিজভী বলেন, নানা নিপীড়ন, নির্যাতন ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও বেগম খালেদা জিয়া দেশ ও দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে প্রতিহত করার চেষ্টা হলেও সব বাধা অতিক্রম করে তিনি জনগণের বিজয় ও গণতন্ত্রের বিজয় নিশ্চিত করেছেন।

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশনেত্রী নিজে অত্যাচার, নিপীড়ন ও নির্যাতন সহ্য করেছেন। বছরের পর বছর কারাগারে বন্দি থেকেছেন। যথাযথ চিকিৎসা ও বন্দীর প্রাপ্য মানবাধিকার থেকেও তিনি বঞ্চিত হয়েছেন। তারপরও কোনো আপস করেননি।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়াই ছিলেন মূল প্রেরণা বলে রিজভী জানান। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া যখন কারাবন্দী ছিলেন, তখন তার দায়িত্ব পালন করেছেন তার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান। তিনি তার বাবা-মায়ের আদর্শের পতাকা ধারণ করে গণতান্ত্রিক সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত গোটা জাতিকে সংগঠিত করেছেন।

তারেক রহমানের নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সাল থেকে যে গণআন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, পরবর্তীতে তা জুলাই বিপ্লবের প্রবল তরঙ্গে রূপ নেয় বলে রিজভী উল্লেখ করেন। রাজপথে জনতার শক্তির বিস্ফোরণ ঘটে এবং ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন হয়। তিনি বলেন, মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়া গোটা জাতির কাছে গণতন্ত্রের প্রতীক হয়ে ছিলেন।

তিনি সবাইকে গণতান্ত্রিক সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং ফ্যাসিবাদের পতনে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তার রেখে যাওয়া আদর্শ, সাহস, বীরত্ব এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পতাকা তার ছেলে তারেক রহমানের হাতে দিয়ে গেছেন। বর্তমান সরকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে।

ক্ষমতায় এসে জনগণের কাছে দেয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে তারেক রহমান নিরলসভাবে কাজ করছেন। সামাজিক সুরক্ষা, উন্নয়ন ও উৎপাদনের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি দিনরাত পরিশ্রম করছেন। ‘চ্যালেঞ্জ আছে’ উল্লেখ করে রিজভী বলেন, দেশে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ, ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত থাকতে পারে। তবে সেগুলো মোকাবিলা করেই তারেক রহমান সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

ফার্মার কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতাসহ জনগণের কাছে দেয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সঙ্কটের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি শুধু বিএনপি বা সরকারের সঙ্কট নয়; এটি একটি বৈশ্বিক সঙ্কট। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা এবং জ্বালানি বহনকারী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। সরকার সঙ্কট মোকাবিলায় বসে নেই জানিয়ে তিনি বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দের বাইরে আরো প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে সঙ্কট সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...