স্বাস্থ্য

কাঁধ ও বাহুর দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার উৎস হতে পারে ঘাড়ের সমস্যা

কাঁধ ও বাহুর দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার উৎস হতে পারে ঘাড়ের সমস্যা
কাঁধ ও বাহুর দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার উৎস হতে পারে ঘাড়ের সমস্যা
দীর্ঘস্থায়ী কাঁধ ও বাহুর ব্যথার কারণ সবসময় কাঁধে নাও থাকতে পারে; ঘাড়ের মেরুদণ্ডের সমস্যা এর মূল উৎস হতে পারে। সঠিক কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা জরুরি।

দীর্ঘস্থায়ী কাঁধ বা বাহুর ব্যথার কারণ সবসময় কাঁধে নাও থাকতে পারে। ঘাড়ের মেরুদণ্ডের সমস্যা থেকেও এই ধরনের ব্যথা অনুভূত হতে পারে। বিশেষ করে সি-৫ ও সি-৬ অঞ্চলের ডিস্কের পরিবর্তন বা নার্ভে চাপ (সার্ভাইক্যাল র্যাডিকুলোপ্যাথি) এর মূল কারণ হতে পারে।

ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল, ধানমন্ডি, ঢাকার চেয়ারম্যান ও চীফ কনসালটেন্ট ডা. এম ইয়াছিন আলী এ বিষয়ে জানান, কাঁধ বা বাহুর আশপাশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা, জ্বালাপোড়া, ঝিনঝিন বা টান অনুভূত হলে বারবার ম্যাসাজ বা জোরে স্ট্রেচ করার আগে ব্যথার প্রকৃত উৎস খুঁজে বের করা জরুরি। ঘাড়ের নার্ভে চাপ বা জ্বালা তৈরি হলে মস্তিষ্ক অনেক সময় সেই ব্যথাকে কাঁধ বা বাহুর ব্যথা হিসেবে অনুভব করে।

ঘাড়ের মেরুদণ্ড থেকে বের হওয়া স্নায়ুগুলো কাঁধ, বাহু ও হাতের বিভিন্ন অংশে অনুভূতি ও নড়াচড়ার সংকেত বহন করে। দীর্ঘ সময় মোবাইল বা কম্পিউটারের দিকে ঝুঁকে থাকা, ভুল ভঙ্গিতে কাজ করা এবং দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থানে বসে থাকা ঘাড়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

ঘাড়ের প্রতিটি কশেরুকার মাঝখানে ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্ক থাকে, যা মেরুদণ্ডের ওপর চাপ শোষণ করে। বয়সজনিত পরিবর্তন, দীর্ঘদিনের ভুল দেহভঙ্গি, অতিরিক্ত চাপ বা আঘাতের কারণে ডিস্কে সমস্যা হতে পারে। এর ফলে নার্ভ বের হওয়ার পথ সংকুচিত হলে সংশ্লিষ্ট নার্ভে চাপ তৈরি হয়।

এসব সমস্যার কারণে ঘাড় থেকে কাঁধ বা বাহুতে ছড়িয়ে পড়া ব্যথা, ডেলটয়েড বা বাহুতে জ্বালাপোড়া, নির্দিষ্ট অবস্থানে ব্যথা বেড়ে যাওয়া এবং কখনও কখনও হাতের শক্তি কমে যাওয়া দেখা দিতে পারে। কাঁধের পেশি বা সফট টিস্যুর সমস্যায় উপযুক্ত ম্যাসাজ বা থেরাপি উপকারী হতে পারে।

তবে ব্যথার প্রকৃত উৎস ঘাড়ের নার্ভ হলে শুধুমাত্র কাঁধে বারবার ম্যাসাজ, ম্যাসাজ গান বা জোরালো স্ট্রেচিং করে সমস্যার মূল কারণ সমাধান করা সম্ভব নয়। অতিরিক্ত চাপ বা ভুল ব্যায়ামে উপসর্গ সাময়িকভাবে বেড়ে যেতে পারে। নার্ভে জ্বালা বা চাপ থাকলে জোর করে স্ট্রেচিং করলে উপসর্গ বেড়ে যেতে পারে।

ব্যথা কমানোর জন্য নিজের মতো করে দীর্ঘ সময় আগ্রাসী স্ট্রেচিং বা ডিপ ম্যাসাজ করার পরিবর্তে সমস্যার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা গুরুত্বপূর্ণ। কাঁধের ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু কাঁধের চিকিৎসা না করে ঘাড় ও স্নায়ুর সমস্যাও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

প্রয়োজনে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক রোগীর দেহভঙ্গি, ঘাড়ের নড়াচড়া, পেশির শক্তি, অনুভূতি এবং স্নায়বিক লক্ষণ পরীক্ষা করতে পারেন। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এক্স-রে বা এমআরআই প্রয়োজন হতে পারে।

দীর্ঘ সময় মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহারের সময় মাথা অতিরিক্ত সামনে ঝুঁকিয়ে না রাখা, স্ক্রিন চোখের কাছাকাছি উচ্চতায় রাখা এবং দীর্ঘ সময় একই অবস্থায় বসে না থাকা উচিত। ঘাড় ও কাঁধের জন্য উপযুক্ত শক্তিশালীকরণ ব্যায়াম করা যেতে পারে।

নার্ভের উপসর্গ থাকলে প্রশিক্ষিত ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শে জেন্টল নিউরাল মবিলাইজেশন বা নার্ভ গ্লাইডিং, ডিপ নেক ফ্লেক্সর স্ট্রেংদেনিং এবং স্ক্যাপুলার স্ট্যাবিলাইজেশন এক্সারসাইজ করা যেতে পারে। নার্ভের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ না বাড়িয়ে ধীরে ধীরে ঘাড় ও কাঁধের কার্যক্ষমতা ও সহনশীলতা বৃদ্ধি করাই এর লক্ষ্য।

কাঁধ বা বাহুর ব্যথার সঙ্গে যদি হাতের শক্তি ক্রমাগত কমে যায়, হাত বা আঙুলে বাড়তে থাকা অবশভাব থাকে, তীব্র বা ক্রমাগত ঘাড়ের ব্যথা থাকে, হাঁটাচলা বা ভারসাম্যের সমস্যা দেখা দেয়, দুই হাত-পায়ে অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা অসাড়তা হয় অথবা মূত্র বা পায়খানা নিয়ন্ত্রণে নতুন সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের মূল্যায়ন নেওয়া জরুরি।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...