খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা, বাবার আকুতি

খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা, বাবার আকুতি
খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা, বাবার আকুতি
খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আজমল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার পর তার বাবা কুতুব উদ্দিন সন্তানের লাশ বহনের কষ্টের কথা জানান। তিনি হত্যাকারীদের বিচার চেয়েছেন।

খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আজমল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার বড়শলুয়া গ্রামে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিজ গ্রামে তাঁকে দাফন করা হয়।

সন্তানের লাশ বহন করার মর্মস্পর্শী অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন আজমলের বাবা কুতুব উদ্দিন। তিনি বলেন, বাবা হয়ে সন্তানের লাশের খাটিয়া বহন করা কতটা কঠিন, তা বলে বোঝানো যাবে না। কুতুব উদ্দিন আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, যেন কোনো বাবাকে তাঁর মতো সন্তানের লাশ বহন করতে না হয়।

গত শুক্রবার দিবাগত রাতে খুলনায় আজমলকে তাঁর মেসে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। চুরির অভিযোগ তুলে তাঁকে মারধর করা হয়েছিল। আজমল খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

আজ সকালে থেমে থেমে বৃষ্টির মধ্যেই চুয়াডাঙ্গার বড়শলুয়া গ্রামে আজমলের স্বজনদের সঙ্গে কথা হয়। জোহরের নামাজ পড়ে কুতুব উদ্দিন বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটার দূরের কবরস্থানে ছেলের কবর জিয়ারত করছিলেন। অশ্রুসজল চোখে তিনি বলেন, মৃত্যুর আগে যেন ছেলের খুনিদের বিচার ও শাস্তি দেখে যেতে পারেন, এটাই তাঁর একমাত্র চাওয়া।

সরকার ও প্রশাসনের কাছে তিনি দাবি জানান, প্রকৃত অপরাধীরা যেন কোনোভাবেই ছাড় না পায়। আজমলের বাড়িতে শোকাহত মানুষের ভিড় দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, ‘আমি কিছু জানি না।’

কুতুব উদ্দিন জানান, আজমল দুই ছেলের মধ্যে বড় ছিলেন। তাঁর ছোট ছেলে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। আজমল বরিশালের নেছারাবাদ মাদ্রাসায় শিক্ষাজীবন শুরু করেছিলেন।

খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করার পর তিনি চুয়াডাঙ্গার বড়শলুয়া নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজ থেকে গত বছর এইচএসসি পাস করেন। মাত্র ১২ দিন আগে তিনি খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। ইতিমধ্যে তিনি চার থেকে পাঁচ দিন ক্লাসও করেছেন।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার তিনি বাড়িতে এসেছিলেন এবং পরদিন শুক্রবার খুলনায় ফিরে যান। ওই রাতেই তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় চার ছাত্রসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আজমলদের বাড়িতে মাতম চলছিল, উঠানে মরদেহের গোসল করানো চৌকি ও বেশ কয়েকটি চেয়ার ছড়িয়ে–ছিটিয়ে ছিল। কয়েকজন প্রতিবেশী আজমলের মা আসমা খাতুনকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু তাঁর আহাজারি থামছিল না।

কাঁদতে কাঁদতে আসমা খাতুন জানান, খুনিরা ছেলের ফোন দিয়ে তাদের বাড়িতে ফোন করেছিল। তারা মিথ্যা চুরির অভিযোগ তুলে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ সময় ছেলের মারধরের শব্দ ও চিৎকার শোনা যাচ্ছিল।

তিনি বলেন, ছেলেকে মারতে মারতে যে মেরেই ফেলতে পারে, এই বিষয়টি তাদের কল্পনারও বাইরে ছিল। নিজের প্রথম সন্তানকে হারিয়ে দিশাহারা এই মা আরও জানান, তাঁর ছেলের ইচ্ছা ছিল বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে সরকারি কর্মকর্তা হবে। সে জন্য সে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেছিল।

আসমা খাতুন আরও বলেন, তারা ছেলের ইচ্ছা পূরণ হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। সেই স্বপ্ন যে কফিনবন্দী হয়ে বাড়িতে আসবে, এটা তারা স্বপ্নেও ভাবেননি। তিনি বলেন, তাঁর কোনো অভিযোগ নেই, তিনি আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...