আন্তর্জাতিককিয়েভে ইউক্রেনের গোয়েন্দা সদর দপ্তরে রুশ ড্রোন হামলা, আহত ১২
কিয়েভে ইউক্রেনের গোয়েন্দা সদর দপ্তরে রুশ ড্রোন হামলা, আহত ১২
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা এসবিইউর সদর দপ্তরে গতকাল শুক্রবার রাশিয়ার একটি ড্রোন আঘাত হেনেছে, যাতে ১২ জন আহত হয়েছেন। এই বিরল হামলা ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষার দুর্বলতা তুলে ধরেছে।
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউর সদর দপ্তরে গতকাল শুক্রবার রাশিয়ার একটি ড্রোন আঘাত হেনেছে। দিনের আলোতে সংঘটিত এই বিরল হামলায় গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনটিতে সরাসরি আঘাত লাগে। সাড়ে চার বছরের যুদ্ধে এই ভবনটি এর আগে কখনো এমন সরাসরি নিশানায় পরিণত হয়নি। এই ঘটনা ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মারাত্মক ঘাটতিকে স্পষ্ট করে তুলেছে।
হামলার পরপরই ভবনের ওপর থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখা যায়, যা ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা পথচারীরা প্রত্যক্ষ করেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রুশ ড্রোনের এই হামলায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার খবর পেয়ে জরুরি সেবাদানকারী কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভাতে এবং আহতদের উদ্ধারে কাজ শুরু করেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ড্রোনটি সরাসরি এসবিইউপ্রধান ওলেকসান্দ্র পোকলাদের কার্যালয় লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। তবে এসবিইউর পক্ষ থেকে পরে জানানো হয় যে, প্রধান ওলেকসান্দ্র পোকলাদ নিরাপদে আছেন এবং তিনি হামলায় কোনো আঘাত পাননি।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এসবিইউপ্রধান পোকলাদকে রুশদের এই হামলার একটি উপযুক্ত ও মোক্ষম জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সম্ভব হলে ঠিক একইভাবে পাল্টা হামলা চালানোর কথা বলেছেন এবং এই কাজে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী তাকে সহায়তা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। এই নির্দেশনার মধ্য দিয়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে কঠোর পাল্টা পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
এই হামলাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন কিয়েভে টানা আট দিন ধরে রুশ বাহিনী আকাশপথে আক্রমণ চালিয়ে আসছে। শহরের কেন্দ্রস্থলের একাধিক ভবনের পাশাপাশি শহরতলির গুদাম ও কারখানাগুলোতেও হামলা হয়েছে। এর মধ্যে শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত কোকা-কোলা তৈরির একটি কারখানাও রুশ হামলার শিকার হয়েছে। গত মাস থেকে শুরু হওয়া প্রায় বিরতিহীন এসব হামলায় কিয়েভ শহর ও এর আশপাশের অঞ্চলে কমপক্ষে ৫৩ জন নিহত এবং ১৩৪ জন আহত হয়েছেন।
এসবিইউর সদর দপ্তরের ওপর এই হামলা সংঘাতের একটি বড় ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, কিয়েভ রাশিয়ার হামলা থেকে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদগুলো রক্ষা করতে ক্রমবর্ধমানভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো তাদের কাছে হামলা ঠেকানোর জন্য প্রয়োজনীয় ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের চরম সংকট রয়েছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বেশিরভাগ রুশ হামলা জেট ইঞ্জিনচালিত ড্রোন দিয়ে চালানো হয়েছে। এই খুনে যন্ত্রগুলো ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ফাঁকি দিয়ে ঘণ্টায় ৫০০ কিলোমিটার বেগে পর্যন্ত ছুটতে পারে। এই ড্রোনগুলোর গতি এতই বেশি যে কিয়েভের ভ্রাম্যমাণ ড্রোনবিধ্বংসী ব্যবস্থা দিয়েও এগুলোকে নিশানা করা কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ড্রোন ভূপাতিত করার একমাত্র উপায় হলো ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র অথবা যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা। তবে ইউক্রেনে এই দুটি জিনিসেরই চরম সংকট রয়েছে, যা তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে তুলছে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এর ‘কঠিন জবাব দেওয়া প্রয়োজন’।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিবিহা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মস্কো ও কিয়েভ সফরের পরিকল্পনা করছেন। এই শান্তি প্রতিষ্ঠার নতুন উদ্যোগের মধ্যেই মস্কো এই হামলা চালিয়েছে। এর মাধ্যমে রাশিয়া প্রমাণ করল যে তারা আসলে কূটনীতি চায় না বলে সিবিহা মন্তব্য করেন। অতীতে রাশিয়া গুটি কয় সরকারি ভবনে আঘাত হানতে পারলেও দিনের বেলায় এত গুরুত্বপূর্ণ কোনো লক্ষ্যবস্তুতে এর আগে কখনো হামলা চালাতে পারেনি।
মতামত (0)