খেলাধুলা

কোটি ইউরোর তারকা ফুটবলাররা এখন ক্লাবহীন

কোটি ইউরোর তারকা ফুটবলাররা এখন ক্লাবহীন
কোটি ইউরোর তারকা ফুটবলাররা এখন ক্লাবহীন
একসময় দলবদলের বাজারে কাড়াকাড়ি হওয়া করিম বেনজেমা, সের্হিও রামোস, রিয়াদ মাহরেজসহ অনেক তারকা ফুটবলার এখন ফ্রি এজেন্ট। বয়স, চোট ও ফর্ম হারানোর কারণে তাঁদের অনেকেই ক্লাবহীন।

সদ্য সমাপ্ত গ্রীষ্মকালীন ইউরোপীয় দলবদল বাজারে অনেক তারকা ফুটবলার ক্লাবহীন হয়ে পড়েছেন। একসময় দলবদলের বাজারে যাঁদের নাম নিয়ে কাড়াকাড়ি চলতো, তাঁদের অনেকেই এখন ফ্রি এজেন্ট। বয়স, চোট, ফর্ম হারানো কিংবা শৃঙ্খলাজনিত সমস্যার কারণে তাঁদের কেউ নতুন ক্লাব খুঁজে পাননি। এসব খেলোয়াড়কে দলে নিতে কোনো ট্রান্সফার ফি দিতে হবে না, শুধু বেতন-ভাতা ঠিকঠাক হলেই চলবে।

এই তালিকায় অন্যতম বড় নাম ৩৮ বছর বয়সী ফরাসি ফরোয়ার্ড করিম বেনজেমা। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তিনি ৬৪৮ ম্যাচে ৩৫৪ গোল করেছেন, জিতেছেন পাঁচটি চ্যাম্পিয়নস লিগ এবং ২০২২ সালের ব্যালন ডি’অর। বিশ্বের সেরা স্ট্রাইকারদের মধ্যে তাঁর নাম আলোচনায় ছিল।

বেনজেমা সৌদি আরবের আল ইত্তিহাদে খেলার পর আল হিলালও ছেড়েছেন। গত ৩১ আগস্ট তাঁর চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়, ফলে তাঁর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। সৌদি আরবের অন্য কোনো ক্লাবে যোগ দেওয়া বা অবসরের গুঞ্জন রয়েছে।

৪০ বছর বয়সী স্প্যানিশ কিংবদন্তি সের্হিও রামোসও এখন নতুন গন্তব্য খুঁজছেন। রিয়াল মাদ্রিদ, পিএসজি, সেভিয়া হয়ে তিনি মেক্সিকোর মন্তেরেতে খেলেছেন। সর্বকালের সেরা ডিফেন্ডারদের একজন হিসেবে তাঁকে ধরা হয়।

৩৫ বছর বয়সী রিয়াদ মাহরেজও বর্তমানে ফ্রি এজেন্ট। লেস্টার সিটির হয়ে ২০১৬ সালে প্রিমিয়ার লিগ জেতার পর তিনি ম্যানচেস্টার সিটিতে আরও চারটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জেতেন। ২০২৩ সালে ৩০ মিলিয়ন পাউন্ডে সৌদি ক্লাব আল আহলিতে যোগ দিলেও চুক্তির মেয়াদ শেষে তিনিও এখন ক্লাবহীন।

৩৯ বছর বয়সী জেমি ভার্ডির গল্পটি কিছুটা ব্যতিক্রম। ইংল্যান্ডের নিচের স্তরের ফুটবল থেকে উঠে এসে তিনি লেস্টারের হয়ে ২০১৬ সালের প্রিমিয়ার লিগ জয়ী দলের অপরিহার্য সদস্য ছিলেন। লেস্টারে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে ২০২৫ সালে ইতালির ক্রেমোনেজে যোগ দেওয়ার পর তিনিও এখন নতুন ঠিকানা খুঁজছেন।

৩৪ বছর বয়সী ফিলিপে কুতিনিওর ক্যারিয়ারে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। ২০১৮ সালে লিভারপুল থেকে তাঁকে দলে নিতে বার্সেলোনা ১৬ কোটি ইউরো খরচ করেছিল। তবে এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ধারাবাহিক ইনজুরি, ফর্মের ওঠানামা এবং একের পর এক ক্লাব বদলের কারণে তাঁর সেরা সময় থেকে দূরে সরে গেছেন। ব্রাজিলে শৈশবের ক্লাব ভাস্কো দা গামায় দ্বিতীয় দফা খেলার পর তিনি এখন আবার ক্লাবহীন।

কুতিনিওর চেয়ে বয়সে অনেক ছোট জ্যাডন সানচোর ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি। ২৬ বছর বয়সী এই উইঙ্গারকে ২০২১ সালে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড থেকে প্রায় ৮৫ মিলিয়ন ইউরোতে কিনেছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। কিন্তু ওল্ড ট্রাফোর্ডে এসে তিনি নিজেকে হারিয়ে ফেলেছেন।

ফর্ম হারিয়ে তাঁকে ধারেও যেতে হয়েছে। তাঁর পুরোনো ক্লাব ডর্টমুন্ড তাঁকে ফেরানোর কথা ভাবছে বলে গুঞ্জন থাকলেও, ২৫ পেরোতেই সানচোর এখন কোনো স্থায়ী ঠিকানা নেই।

হামেস রদ্রিগেজের বিষয়টি এই তালিকার অন্যতম বিস্ময়কর ঘটনা। ২০১৪ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটজয়ী এই কলম্বিয়ান সেই আসরেই বিশ্বের অন্যতম সেরা তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। মোনাকো থেকে প্রায় ৭৫ মিলিয়ন ইউরোতে তাঁকে রিয়াল মাদ্রিদ কিনেছিল।

রিয়ালে তাঁর প্রতিভার পূর্ণ বিকাশ হয়নি। বায়ার্ন মিউনিখে ধারে খেলা, তারপর এভারটন, আল রাইয়ান, অলিম্পিয়াকোস, সাও পাওলো, রায়ো ভায়েকানো, লিওঁ—একের পর এক ক্লাবে তাঁর ক্যারিয়ার ঘুরেছে। সর্বশেষ মেজর লিগ সকারের মিনেসোটা ইউনাইটেডও তিনি ছেড়েছেন।

এই হামেসই জুন–জুলাইয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে কলম্বিয়াকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কলম্বিয়ার পক্ষে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও গড়েছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ খেলা একজন ফুটবলারও একই সময়ে ক্লাবহীন থাকতে পারেন।

তালিকায় হামেসের পাশাপাশি ডেভিড আলাবাও রয়েছেন। ৩৪ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার অস্ট্রিয়ার অধিনায়ক হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলেছেন। তিনি ১২টি লিগ শিরোপা ও চারটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন। ইনজুরি ও ফিটনেস সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের সমস্যার কারণে ক্লাবগুলো তাঁকে নিয়ে সতর্ক।

পল পগবার ক্ষেত্রে বয়সের চেয়ে ক্যারিয়ারের জটিলতা বেশি। ৩৩ বছর বয়সী এই ফরাসি মিডফিল্ডার একসময় বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলার ছিলেন। ২০১২ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছেড়ে জুভেন্টাসে যাওয়ার পর তিনি দ্রুতই বিশ্বের সেরা মিডফিল্ডারদের একজন হয়ে ওঠেন।

চার বছর পর ইউনাইটেড তাঁকে ফিরিয়ে আনতে সে সময়ের বিশ্ব রেকর্ড ১০৫ মিলিয়ন ইউরো খরচ করেছিল। কিন্তু ইনজুরি ও ফর্মের ওঠানামা তাঁর ক্যারিয়ারকে বাধাগ্রস্ত করে। পরে ডোপিংয়ের ঘটনায় চার বছরের নিষেধাজ্ঞা পান পগবা, যা আপিলে কমে ১৮ মাস হয়। নিষেধাজ্ঞা শেষে মোনাকোতে যোগ দিলেও সেখানে তাঁর অধ্যায় বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...