সদ্য সমাপ্ত গ্রীষ্মকালীন ইউরোপীয় দলবদল বাজারে অনেক তারকা ফুটবলার ক্লাবহীন হয়ে পড়েছেন। একসময় দলবদলের বাজারে যাঁদের নাম নিয়ে কাড়াকাড়ি চলতো, তাঁদের অনেকেই এখন ফ্রি এজেন্ট। বয়স, চোট, ফর্ম হারানো কিংবা শৃঙ্খলাজনিত সমস্যার কারণে তাঁদের কেউ নতুন ক্লাব খুঁজে পাননি। এসব খেলোয়াড়কে দলে নিতে কোনো ট্রান্সফার ফি দিতে হবে না, শুধু বেতন-ভাতা ঠিকঠাক হলেই চলবে।
এই তালিকায় অন্যতম বড় নাম ৩৮ বছর বয়সী ফরাসি ফরোয়ার্ড করিম বেনজেমা। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তিনি ৬৪৮ ম্যাচে ৩৫৪ গোল করেছেন, জিতেছেন পাঁচটি চ্যাম্পিয়নস লিগ এবং ২০২২ সালের ব্যালন ডি’অর। বিশ্বের সেরা স্ট্রাইকারদের মধ্যে তাঁর নাম আলোচনায় ছিল।
বেনজেমা সৌদি আরবের আল ইত্তিহাদে খেলার পর আল হিলালও ছেড়েছেন। গত ৩১ আগস্ট তাঁর চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়, ফলে তাঁর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। সৌদি আরবের অন্য কোনো ক্লাবে যোগ দেওয়া বা অবসরের গুঞ্জন রয়েছে।
৪০ বছর বয়সী স্প্যানিশ কিংবদন্তি সের্হিও রামোসও এখন নতুন গন্তব্য খুঁজছেন। রিয়াল মাদ্রিদ, পিএসজি, সেভিয়া হয়ে তিনি মেক্সিকোর মন্তেরেতে খেলেছেন। সর্বকালের সেরা ডিফেন্ডারদের একজন হিসেবে তাঁকে ধরা হয়।
৩৫ বছর বয়সী রিয়াদ মাহরেজও বর্তমানে ফ্রি এজেন্ট। লেস্টার সিটির হয়ে ২০১৬ সালে প্রিমিয়ার লিগ জেতার পর তিনি ম্যানচেস্টার সিটিতে আরও চারটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জেতেন। ২০২৩ সালে ৩০ মিলিয়ন পাউন্ডে সৌদি ক্লাব আল আহলিতে যোগ দিলেও চুক্তির মেয়াদ শেষে তিনিও এখন ক্লাবহীন।
৩৯ বছর বয়সী জেমি ভার্ডির গল্পটি কিছুটা ব্যতিক্রম। ইংল্যান্ডের নিচের স্তরের ফুটবল থেকে উঠে এসে তিনি লেস্টারের হয়ে ২০১৬ সালের প্রিমিয়ার লিগ জয়ী দলের অপরিহার্য সদস্য ছিলেন। লেস্টারে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে ২০২৫ সালে ইতালির ক্রেমোনেজে যোগ দেওয়ার পর তিনিও এখন নতুন ঠিকানা খুঁজছেন।
৩৪ বছর বয়সী ফিলিপে কুতিনিওর ক্যারিয়ারে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। ২০১৮ সালে লিভারপুল থেকে তাঁকে দলে নিতে বার্সেলোনা ১৬ কোটি ইউরো খরচ করেছিল। তবে এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ধারাবাহিক ইনজুরি, ফর্মের ওঠানামা এবং একের পর এক ক্লাব বদলের কারণে তাঁর সেরা সময় থেকে দূরে সরে গেছেন। ব্রাজিলে শৈশবের ক্লাব ভাস্কো দা গামায় দ্বিতীয় দফা খেলার পর তিনি এখন আবার ক্লাবহীন।
কুতিনিওর চেয়ে বয়সে অনেক ছোট জ্যাডন সানচোর ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি। ২৬ বছর বয়সী এই উইঙ্গারকে ২০২১ সালে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড থেকে প্রায় ৮৫ মিলিয়ন ইউরোতে কিনেছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। কিন্তু ওল্ড ট্রাফোর্ডে এসে তিনি নিজেকে হারিয়ে ফেলেছেন।



মতামত (0)