সারাদেশকুহিনূর হত্যা: আট আসামি অধরা, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
কুহিনূর হত্যা: আট আসামি অধরা, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
কুমিল্লার মেঘনায় কুহিনূর আক্তার হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আটজন আসামি এখনো গ্রেপ্তার হননি। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
কুমিল্লার মেঘনায় পৈতৃক সম্পত্তির দখল নিয়ে সংঘর্ষে কুহিনূর আক্তার হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আট আসামি এখনো অধরা রয়েছেন। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। মামলার এজাহারে মোট ৬১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল।
গত ২৬ জুলাই মেঘনা উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের চর বিননপুর গ্রামের কাবিল মিয়ার স্ত্রী কুহিনূর আক্তার (৩৮) নিহত হন। পৈতৃক সম্পত্তির দখলকে কেন্দ্র করে মেঘনা ও তিতাস উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে এই সংঘর্ষ ঘটেছিল।
ঘটনার দুই দিন পর, ২৮ জুলাই দিবাগত রাতে নিহতের স্বামী কাবিল মিয়া মেঘনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৬১ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন ২৯ জুলাই আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন তিতাস উপজেলার নতুন ভাটেরারচর গ্রামের মো. হান্নান, মাইনুদ্দিন, কাশেম বেপারী, মো. রানা এবং মেঘনা উপজেলার লুটেরচর ইউনিয়নের সাবেক সদস্য মো. সুরুজ মিয়া।
মামলার এজাহারভুক্ত ৪১ জন আসামি গত ২৫ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন পেয়েছেন। এই মামলায় বর্তমানে পাঁচজন আসামি কারাগারে রয়েছেন এবং আরও সাতজন জামিনে মুক্ত আছেন। থানা সূত্রে জানা গেছে, আটজন আসামি এখনো গ্রেপ্তার না হয়ে এলাকায় অবস্থান করছেন।
বিননপুর গ্রামের বাসিন্দা আলী আকবরসহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় অভিযোগ করেছেন যে, প্রথম পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ আর কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তারা আরও দাবি করেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এলাকায় যেতে ভয় পাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তদন্ত কর্মকর্তার গাফিলতির কারণেই অনেক আসামি হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের দাবি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা আট আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং বাদী ও তার পক্ষের লোকজনকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন।
তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাঈদ সানাউল্লাহ পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, এটি একটি হত্যা মামলা এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে তার কোনো গাফিলতি নেই। আসামিরা হাইকোর্টে চলে যাওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি, পরে তিনি জানতে পারেন আদালত তাদের ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন।
মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ওই এলাকায় যেতে হলে নদী পার হতে হয়। তিনি উল্লেখ করেন, মামলার আসামিরা দাউদকান্দির ভাটেরা, তিতাসের চর ভাটেরা এবং মেঘনার চর কাঠালিয়া ও বিননপুর এলাকার বাসিন্দা। আসামিদের গ্রেপ্তারে সংশ্লিষ্ট এলাকার থানার সহযোগিতা নিতে হয় বলে তিনি জানান।
ওসি মো. শহীদুল ইসলাম আরও বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যারা জামিনে বের হয়েছেন, তারা সাময়িক সময়ের জন্য জামিনে আছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, মামলার সব আসামিকেই আইনের আওতায় আনা হবে।
মতামত (0)