সারাদেশ

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত পাঁচ

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত পাঁচ
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত পাঁচ
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে ছাত্রদলের দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে কুমিল্লা শহরের ধর্মপুর এলাকায় অবস্থিত কলেজের ডিগ্রি ও অনার্স শাখার প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের অন্তত পাঁচজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সদ্য ঘোষিত কমিটির সভাপতি উমর ফারুকের (মানিক) অনুসারী শাকিল ও প্রতাপ রয়েছেন।

এছাড়াও কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি ওমর ফারুকের অনুসারী তালহা জোবায়ের ও রায়হান আহত হয়েছেন। সদ্য ঘোষিত কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমানও এই সংঘর্ষে আহত হন। গতকাল রোববার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

গতকাল ঘোষিত ছয় সদস্যের আংশিক কমিটিতে উমর ফারুককে সভাপতি এবং ফাতিন ইসলাম মোল্লাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। কমিটির অন্য পদগুলোতে রয়েছেন সিনিয়র সহসভাপতি ওমর ফারুক, সহসভাপতি জাকির হোসেন (নাঈম), সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক ফারহান ইকবাল সাদ। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুমোদনক্রমে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের চিঠিতে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই সংগঠনের একাংশের নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। তাঁদের অভিযোগ, সিনিয়র সহসভাপতি ওমর ফারুক সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমান সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী ছিলেন।

তবে তাঁদের প্রত্যাশিত পদ না দিয়ে তুলনামূলকভাবে নিচের পদে রাখা হয়। এ নিয়ে গতকাল রোববার রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন মন্তব্য ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেখা যায়। পদবঞ্চিতদের অনুসারীরা বিক্ষোভ মিছিল করে কমিটি বাতিলের দাবি জানান।

এই পরিস্থিতির মধ্যে আজ পদপ্রত্যাশী দুই নেতার অনুসারীরা কলেজে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। বিক্ষোভ মিছিল প্রশাসনিক ভবনের সামনে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি এবং পরে সংঘর্ষ হয়। সদ্য ঘোষিত কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি ওমর ফারুক বলেছেন, প্রশাসনিক ভবনের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ চলছিল।

তিনি অভিযোগ করেন, এ সময় পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। ওমর ফারুক আরও বলেন, তাঁরা এসে দেখেন তাঁদের ছোট ভাইদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। এগিয়ে গেলে তাঁদের ওপরও হামলা হয়। এতে তাঁদের তিনজন আহত হয়েছেন এবং হামলার সঙ্গে বহিরাগতরাও জড়িত বলে তিনি জানান।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নবগঠিত কমিটির সভাপতি উমর ফারুক ওরফে মানিক। তাঁর ভাষ্য, তাঁরা কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিলেন। এ সময় কয়েকজন বিক্ষোভ মিছিল করছিলেন। উমর ফারুক (মানিক) বলেন, তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন তাঁদের আজান হচ্ছে বলে মিছিল বন্ধ করতে বলেছিলেন।

তিনি জানান, মিছিল বন্ধ করতে বলায় তাঁরা ভুল বুঝে তাঁদের ওপর হামলা করেন। এতে তাঁর দুইজন কর্মী আহত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পদবঞ্চিত অনুসারীদের অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফাতিম ইসরাক মোল্লা সিনিয়র সহসভাপতি ওমর ফারুকের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। এ বিষয়ে ফাতিম ইসরাক মোল্লার কোনো বক্তব্য জানা যায়নি।

কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদুজ্জামান রানা বলেন, কমিটি নিয়ে অসন্তোষ থেকেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তাঁরা কলেজে গিয়ে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের নিবৃত্ত করেছেন। নাহিদুজ্জামান রানা আরও বলেন, দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় কলেজে অনেক যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, কমিটি ঘোষণার পর কিছুটা অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জানানো হয়েছে। কেন্দ্র থেকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার কথা জানানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বাশার ভূঞা বলেন, ঘটনার সময় তিনি শিক্ষা বোর্ডে একটি সভায় ছিলেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানান। অধ্যক্ষ আরও বলেন, তিনি দুই পক্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের বলেছেন, কলেজের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয় এমন কোনো কাজ করা যাবে না।

শিক্ষার্থীরা এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছে। তিনি জানান, কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। পুলিশ সদস্য ও কলেজের শিক্ষকেরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানিয়েছেন, নবগঠিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজন নেতা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারীর (আবু) অনুসারী হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে প্রত্যাশিত পদবঞ্চিতরা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লার (টিপু) অনুসারী হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন পর কমিটি গঠনের পরই এ ধরনের বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনায় সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...