সারাদেশগেন্ডারিয়ায় গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুর, আহত ৩
গেন্ডারিয়ায় গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুর, আহত ৩
রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় গত রোববার রাতে একদল সশস্ত্র হামলাকারী এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়েছে এবং দোকানপাট ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনায় নারীসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং একজন বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।
রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় গত রোববার রাতে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত পৌনে আটটার দিকে ২০ থেকে ২৫ জন লোক হঠাৎ করে মুন্সিরটেক জামে মসজিদের পাশের গলিতে আসে। তাঁদের অনেকের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।
হামলাকারীরা দোকানপাট বন্ধ করতে বলে এবং এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষজন ছোটাছুটি করতে থাকে। দোকানদারেরা দ্রুত তাঁদের দোকান বন্ধ করেন। এ সময় গুলিতে তিনজন আহত হন।
গুলিবিদ্ধরা হলেন চা-দোকানি আলমগীর (৩৩), আশা আক্তার (২০) এবং সিয়াম (১৮)। আশা আক্তার তাঁর বাসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় গুলিবিদ্ধ হন। খাবার দোকানের কর্মী সিয়াম দোকানের শাটার বন্ধ করার সময় গুলিবিদ্ধ হন।
মুদিদোকানদার মো. ইদ্রিস (৪৮) জানান, তিনি কাস্টমারকে সওদাপাতি দিচ্ছিলেন। হঠাৎ গুলির আওয়াজ শুনে দ্রুত শাটার লাগিয়ে তিনি সেখান থেকে চলে যান। তিনি আরও বলেন, হামলাকারীদের বেশির ভাগের হাতেই অস্ত্র ছিল।
ঘটনার সময় ঢাকা মহানগর বিএনপির (দক্ষিণ) সদস্য ওমর নবী বাবুকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। বিএনপির স্থানীয় কর্মী মো. মনির হোসেনের কার্যালয়েও ভাঙচুর চালানো হয়। স্বামীবাগ মুন্সিরটেক জামে মসজিদের পাশের গলিতে থাকা অন্তত চারটি সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করে হামলাকারীরা।
আজ সোমবার সকাল আটটার দিকে স্বামীবাগ, করাতিটোলা ও মুন্সিরটেক এলাকায় অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ দেখা যায়। দু-একটি দোকান খোলা থাকলেও প্রবীণ ব্যক্তিরা আগের রাতের ঘটনা নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তবে বেশির ভাগই কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।
কয়েকজন জানান, গতকাল বিকেলে গেন্ডারিয়ার রেললাইনসংলগ্ন করাতিটোলা এলাকা থেকে মো. রাকিব (২২), মো. বিল্লাল (২৫) ও মো. রিফাত (২১) নামের তিন তরুণকে ‘মাদক বিক্রির সময়’ স্থানীয় কয়েকজন আটক করেন। পরে তাঁদের বিএনপির স্থানীয় কর্মী মো. মনির হোসেনের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং মারধর করা হয়। এরপর পুলিশ ডেকে তাঁদের ধরিয়ে দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, পুলিশ তিন তরুণকে নিয়ে থানায় যাওয়ার সময় হামলার আশঙ্কা করছিল। উপস্থিত লোকজন পুলিশকে থানায় পৌঁছে দিতে যায়। এর কিছুক্ষণ পরই ২০ থেকে ২৫ জন তরুণের একটি দল এসে গুলি ছোঁড়া শুরু করে।
এ সময় মনির হোসেনের কার্যালয় এবং আশপাশের আরও পাঁচটি দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়। হামলার সময় কয়েক দফা বিদ্যুৎ–সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়, এতে এলাকা অন্ধকার হয়ে পড়লে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। মো. রাজন নামের এক তরুণ জানান, তাঁরা যখন মাদক কারবারিদের থানায় দিতে যান, তখন খবর পান কার্যালয়ে ভাঙচুর হচ্ছে ও এলাকায় গোলাগুলি হচ্ছে।
তিনি বলেন, তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে এসে হামলাকারীদের ধাওয়া দেন। হামলাকারীরা স্বামীবাগ এলাকার একটি গলিতে দাঁড়িয়ে তাঁদের দিকে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ চা দোকানদার আলমগীরের চায়ের দোকানটি আজ খোলা হয়নি, কারণ তিনি ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন।
পুলিশের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদক নিয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ৪০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মো. মনির হোসেন ও তাঁর ভাগনে রাসেল মাদক ব্যবসায়ী ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ‘অটো সজলের’ লোকজনকে মারধর করেন। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মনির হোসেন তাঁর কাছে থাকা একটি অবৈধ পিস্তল দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়েছেন।
গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান জানান, ঘটনাটিতে এখনো মামলা হয়নি। ঘটনাস্থল থেকে ২০টি কার্তুজের খোসা উদ্ধার করা হয়েছে এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি বলেন, অপরাধীদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।
আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দল আসে। তারা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। সিআইডির পরিদর্শক সাইফুর রহমান জানান, তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কিছু আলামত সংগ্রহ করেছেন। তিনি বলেন, মূল আলামত পুলিশ আগেই সংগ্রহ করে নিয়ে গেছে।
গেন্ডারিয়ার স্বামীবাগ, করাতিটোলা ও মুন্সিরটেক এলাকার বাসিন্দারা জানান, ওই এলাকায় মাদকের বিস্তার ব্যাপক। মাদক নিয়ে প্রায়ই মারামারির ঘটনা ঘটে এবং মাদকসেবীরা ছিনতাইসহ নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত। স্থানীয় ব্যবসায়ী এস এম শফিক বলেন, সকাল-সন্ধ্যা প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হয়।
মতামত (0)