সারাদেশমুন্সিগঞ্জে জিপিএ-৫ সংবর্ধনা: ৪০ কিমি পথ পাড়ি দিয়ে কৃতী শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস
মুন্সিগঞ্জে জিপিএ-৫ সংবর্ধনা: ৪০ কিমি পথ পাড়ি দিয়ে কৃতী শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস
মুন্সিগঞ্জে আজ এসএসসি ও সমমানের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসে শত শত কৃতী শিক্ষার্থী। ৪০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়ে তারা যোগ দেয় এই মিলনমেলায়।
মুন্সিগঞ্জ শহরের উত্তর ইসলামপুরের ইদ্রিস আলী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট মাঠে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রবিবার সকালে এই আয়োজনে প্রায় আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়।
ফৌজিয়া খান নাফিজা এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মুন্সিগঞ্জে আসেন। গত শনিবারের রাতটি তার কাছে যেন কাটতেই চাইছিল না। আজ সকালে সে নিজেই বাবাকে ঘুম থেকে তুলে দ্রুত প্রস্তুত হয়ে যায়।
ফৌজিয়ার বাবা ফৌজিয়া হাসান জানান, লৌহজং উপজেলার খানবাড়ি এলাকা থেকে তার মেয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে মুন্সিগঞ্জে আসে। অনুষ্ঠানে পৌঁছে ফৌজিয়া তার বন্ধুদের সঙ্গে হইচই ও সেলফি তোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তিনি আরও বলেন, মেয়ে কয়েক দিন ধরেই এই অনুষ্ঠান নিয়ে খুব আবেগাপ্লুত ছিল।
শুধু ফৌজিয়া খান নয়, আরও অনেক শিক্ষার্থী দূরদূরান্ত থেকে এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসে। সিরাজদিখান থেকে অর্ক রাজবংশী ও আনন্দ প্রায় ৪০-৪৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আসে। গজারিয়া থেকে মেঘনা ও ফুলদী নদী পাড়ি দিয়ে নাঈম ইসলামও এই সংবর্ধনায় যোগ দেয়।
শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’র পৃষ্ঠপোষকতায় এই সংবর্ধনা আয়োজন করা হয়। ‘স্বপ্ন দেখো জীবন গড়ো’ স্লোগানে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য সারা দেশে ৬৪ জেলায় এই সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মুন্সিগঞ্জে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
আয়োজনটি বিকাশ দ্বারা পাওয়ার্ড ছিল। সহযোগিতায় ছিল কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, সেভয় আইসক্রিম, কনকা-গ্রি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, জিংক বি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস এবং আম্বার আইটি লিমিটেড।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর আগেই কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট ও উপহার তুলে দেওয়া হয়। ইনস্টিটিউটের প্রাঙ্গণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে।
দীর্ঘদিন পর পুরোনো সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় শিক্ষার্থীরা গল্পে মেতে ওঠে। কেউ আলিঙ্গন করে, আবার কেউ এই মুহূর্তের স্মৃতি ছবিতে ধরে রাখতে ব্যস্ত ছিল। সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা কেউ মা-বাবার হাত ধরে, কেউ ভাইবোন বা বন্ধুদের নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে আসে।
প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শ্রীনগর থেকে আসা সমাপ্তি সরকারের গল্পও ছিল ভিন্ন। তিনি তার ভাই সীমান্ত সরকার অন্তরের সঙ্গে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সীমান্ত সরকার জানান, তিন বছর আগে তিনিও এমন একটি মঞ্চ থেকে সংবর্ধনা নিতে চেয়েছিলেন।
তিনি বলেন, সে সময় অল্পের জন্য তিনি জিপিএ-৫ পাননি এবং মন খারাপ হয়েছিল। তিনি ভেবেছিলেন, তিনি না পেলেও তার ছোট বোন পাবে। শুরু থেকেই তিনি বোনের সঙ্গে ছিলেন এবং তার বোন এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। সীমান্ত সরকার আরও উল্লেখ করেন, সেদিন মিস হওয়া আনন্দটাকে আজ বোনের সংবর্ধনায় পুষিয়ে নিতেই এতটা পথ পাড়ি দিয়ে এসেছেন।
মাশফিক সিহাবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন একজন মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি। এরপর অন্যান্য অতিথিদের মঞ্চে ডেকে নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা শিক্ষার্থীদের সামনে স্বপ্ন দেখার সাহস, অধ্যবসায় ও মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সরকারি হরগঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ শামীম আহসান বলেন, আগামীর বাংলাদেশের জন্য যে প্রজন্ম গড়ে তোলা দরকার, একটি গণমাধ্যম তাদের অবস্থান থেকে সেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মুন্সিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলজার হোসেন নানা পরামর্শমূলক বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা এমনভাবে নিজেদের তৈরি করবে, যাতে ভবিষ্যতে তাদের জ্ঞান ও মেধা পরিবার, সমাজ ও দেশের মানুষের কাজে আসে। আলোচনা অনুষ্ঠান, কুইজ ও পুরস্কার বিতরণী পর্বের মধ্যে কখনো সংগীত, কখনো নৃত্য পরিবেশিত হয়।
মতামত (0)