একটি ধাতব দণ্ড থেকে একটি ল্যাম্পপোস্টের জন্ম হয়েছিল। দণ্ডের একটি অংশ কেটে তার হাতল তৈরি করা হয়। এরপর তাকে একটি নতুন আবাসিক এলাকার রাস্তার পাশে মাটিতে বসানো হয় এবং হাতলে একটি বৈদ্যুতিক বাতি ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
শুরুতে চারপাশে ঘন জঙ্গল থাকায় ল্যাম্পপোস্টের খুব ভয় লাগত। সেখানে খরগোশ চরে বেড়াতো এবং শিয়াল তাদের ধাওয়া করত। বনের ডোবার পাশে ঝোপের আড়ালে হাঁসেরা ডিম পাড়ত।
ডিম ফুটে তুলতুলে বাচ্চা বের হলে তারা মায়ের পিছু পিছু প্যারেড করে চলত। শিশুদের মতো কোমল কণ্ঠে তাদের প্যাক প্যাক শব্দ শুনতে ল্যাম্পপোস্টের বেশ ভালো লাগত। এভাবেই দিনের বেশিরভাগ সময় কেটে যেত।
ল্যাম্পপোস্টের রুটিন মানুষের চেয়ে সম্পূর্ণ বিপরীত। সে সারা দিন দাঁড়িয়ে ঝিমাতো এবং সন্ধ্যা হলে আড়মোড়া ভেঙে জেগে উঠত। এরপর সারা রাত নিঃসঙ্গ রাস্তা পাহারা দিত।
সকাল হওয়ার সাথে সাথেই সে আবার ঘুমিয়ে পড়ত। তার দিনগুলো বিমর্ষ এবং রাতগুলো ছিল নিঃসঙ্গ। মানুষগুলো সারা দিন শুধু দৌড়াতো, তাদের একটুও অবসর ছিল না।
মানুষের এই দৌড় শুরু হয় একেবারে শিশুকাল থেকেই। শিশুরা তাদের মা-বাবার দ্বারা শিশু পরিচর্যাকেন্দ্রে রেখে আসা হয়, এরপর স্কুলে যায় এবং বড়দের মতো জীবনচক্রের ফাঁদে আটকা পড়ে।
ল্যাম্পপোস্টের দিনগুলো বিমর্ষ লাগত, কারণ সে সারাদিন ক্লান্ত থাকত। মানুষের অবিরাম দৌড়ঝাঁপ দেখে তার ক্লান্তি আরও বাড়ত। রাতগুলো ভীষণ নিঃসঙ্গ লাগত, কারণ মানুষ বিভিন্ন অজুহাতে রাতে বাড়ির বাইরে বের হতো না।
শীতের সময় বাইরে ঠান্ডা এবং গরমের সময় বাইরে গরম পড়ে, এমন শত শত অজুহাত ছিল তাদের। রাতের বেলায় বাইরে বের হওয়াকে অনেকে স্বাভাবিক ভদ্রতার বরখেলাপ মনে করত।
মা-বাবারা টিভি বা মুঠোফোন নিয়ে বসত, আর সন্তানেরা বই-খাতা নিয়ে ব্যস্ত থাকত। রাতে বাইরে বের হওয়া অনেকেই আবার নিরাপদ মনে করত না। এভাবেই তার নিস্তরঙ্গ দিনগুলো কেটে যাচ্ছিল।
মাঝেমধ্যে প্রতিবেশীদের কুকুরগুলো এসে ল্যাম্পপোস্টের পায়ের কাছে প্রস্রাব করে তাকে কিছুটা কাতুকুতু দেওয়ার চেষ্টা করত। এরপর তার পেছনের বাসায় একটি নতুন পরিবার আসার পর থেকে তার সময় কাটানো ভিন্ন হয়ে ওঠে।
এই পরিবারের পুরুষ মানুষটির মাথায় যেন ছিট ছিল। তার কোনো কিছুই স্বাভাবিক নিয়মের সঙ্গে মিলত না। তিনি খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে কাজে চলে যেতেন।



মতামত (0)