রাজনীতিলংমার্চ গণআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
লংমার্চ গণআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
জাতীয় সংসদ কার্যকর থাকাকালে লংমার্চের মতো কর্মসূচি গণআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, সংসদের বিতর্ক দ্রুত রাজপথে নেওয়া গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে বাধাগ্রস্ত করে।
জাতীয় সংসদ যখন সন্তোষজনকভাবে কার্যকর রয়েছে, ঠিক সেই সময়ে আন্দোলনের নামে রাজপথে লংমার্চের মতো কর্মসূচি সাধারণ মানুষের গণ–আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী। আজ শনিবার রাজধানীতে এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন এই মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা মনে করেন, সংসদীয় রাজনীতিতে চেক অ্যান্ড ব্যালান্সের মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহির আওতায় রাখার সুযোগ বিদ্যমান। এরপরও সংসদের বিতর্ককে দ্রুত রাজপথে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে বাধাগ্রস্ত করে।
আজ শনিবার বাংলাদেশ আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউট (বিলিয়া) মিলনায়তনে এই গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের পর্যালোচনা: সুশাসন, জবাবদিহিতা ও উন্নয়নের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এই বৈঠকের আয়োজন করে ‘সিটিজেন ফোরাম বাংলাদেশ’ ও ‘বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ইনিশিয়েটিভস’ (বিসিএআই)।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ এই সভার সভাপতিত্ব করেন। চিকিৎসক সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্তর সভা সঞ্চালনা করেন। আলোচনা সভায় সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীসহ বিশিষ্ট রাজনীতিক, শিক্ষাবিদ ও গবেষকেরা বক্তব্য দেন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রকে গতিশীল ও অর্থবহ রাখতে সরকারি দলকে জবাবদিহির মধ্যে রাখা বিরোধী দলের দায়িত্ব। কিন্তু সংসদীয় বিতর্ককে অহেতুক ও দ্রুত রাজপথে নিয়ে যাওয়া এবং লংমার্চের মতো কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়ে দেশের সচেতন মহলকে সজাগ থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো কতটা বুঝে এসব করছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে এ ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার জন্য দেশি-বিদেশি নানান অপশক্তি ওত পেতে বসে থাকে।
সংসদের ভেতরে গঠনমূলক আলোচনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, কেবল সরকারি দলকে ফাঁদে ফেলার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সংসদীয় রাজনীতি ধরে রাখা যায় না। কেবল কৃত্রিম ও ভাসা ভাসা সমালোচনা না করে যেকোনো বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত পরামর্শ নিয়ে এলে তা দেশ পরিচালনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের মূল্যায়ন তুলে ধরে এই উপদেষ্টা বলেন, বিগত দুই দশকের ফ্যাসিবাদের চর্চা, ভঙ্গুর সমাজব্যবস্থা এবং দেউলিয়া অর্থনীতির চরম অচল অবস্থা থেকে দেশকে টেনে তোলা সম্ভব হয়েছে। সরকার নতুন একটি সঠিক গতিমুখ নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে।
জহির উদ্দিন স্বপন জানান, সংকট এতই গভীর ছিল যে রাতারাতি জাদুকরি কোনো পরিবর্তন সম্ভব ছিল না। তবে দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার ইতিমধ্যে সুনির্দিষ্ট নীতি নির্ধারণী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকটের প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন বলেন, দীর্ঘমেয়াদি আমদানিনির্ভর ও ভুল নীতির কারণে অপরিহার্য এসব খাতে দেশকে আজ হিমশিম খেতে হচ্ছে। এত দিন ক্ষমতায় থেকেও প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনে স্থায়ী পদক্ষেপ না নেওয়া কেবল দুর্নীতিই ছিল না, এটি ছিল জাতির সঙ্গে এক দীর্ঘমেয়াদি প্রতারণা।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার কেবল সংকটের কথা বলে পার পাওয়ার চেষ্টা করছে না। প্রধানমন্ত্রী জনগণের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করে বিকল্প উৎস সন্ধান এবং নিজস্ব গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছেন।
সাবেক তথ্যমন্ত্রী হিসেবে পরিচিত জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সুশাসন ও অর্থনৈতিক স্বস্তি ফেরাতে সরকার বিশেষ জোর দিয়েছে। চীন ও ভারতের পাশাপাশি পণ্য আমদানির নতুন উৎস তৈরি, আমদানি ব্যয় হ্রাস এবং রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে সরকার বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে।
মতামত (0)