রাজনীতিসিলেট সিটি নির্বাচনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী ঘোষণা
সিলেট সিটি নির্বাচনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী ঘোষণা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আসন্ন সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে তাদের মেয়র প্রার্থী হিসেবে মহানগর নায়েবে আমীর ড. নূরুল ইসলাম বাবুলের নাম ঘোষণা করেছে। গতকাল শুক্রবার কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর এ.টি.এম আজহারুল ইসলাম এই ঘোষণা দেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আসন্ন সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে তাদের মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছে। গতকাল শুক্রবার দলের মহানগর নায়েবে আমীর ড. নূরুল ইসলাম বাবুলকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর এ.টি.এম আজহারুল ইসলাম এমপি এই ঘোষণা দেন।
সিলেট নগরীর মদীনা মার্কেটস্থ একটি মিলনায়তনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। সিলেট মহানগর জামায়াতের থানা মজলিসে শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্যদের দুই দিনব্যাপী শিক্ষা শিবিরের সমাপনী অনুষ্ঠানে এটি জানানো হয়। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের আলোকেই এই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
এ.টি.এম আজহারুল ইসলাম এমপি এ সময় সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ড. নূরুল ইসলাম বাবুলের পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দেন। প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর উপস্থিত দায়িত্বশীলদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। অবিলম্বে সিসিকের প্রতিটি ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগ জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ.টি.এম. আজহারুল ইসলাম এমপি বলেন, সিলেট নগরবাসীর নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং নগরীকে একটি ইনসাফভিত্তিক, আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য মডেল নগরী হিসেবে গড়ে তোলাই লক্ষ্য। এই উদ্দেশ্যেই কেন্দ্র থেকে ড. নূরুল ইসলাম বাবুলকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি কেবল উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন না। তিনি জনগণের অধিকার, নাগরিক সেবা, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার দায়িত্বও পালন করেন। তাই জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে প্রার্থীর সততা, মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা, নৈতিক চরিত্র ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
সৎ ও যোগ্য মানুষ জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে জনগণের অর্থ ও সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়। এতে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের সুযোগ কমে আসে। মেধাবী ও দক্ষ জনপ্রতিনিধি নগরের সমস্যা চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নিতে পারেন।
এ.টি.এম. আজহারুল ইসলাম ড. নূরুল ইসলাম বাবুলকে পরিচ্ছন্ন রাজনীতি, সততা ও যোগ্যতার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তার নেতৃত্বে সিলেট সিটি কর্পোরেশনকে একটি জনকল্যাণমুখী ও আধুনিক নগর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার সুযোগ রয়েছে। বাবুলের সততা, মেধা, যোগ্যতা ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বার্তা নগরীর প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
নেতাকর্মীদের শুধু নির্বাচনের সময় নয়, জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে। নগরবাসীর সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শুনে তা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জন করেই একটি শক্তিশালী ও জনবান্ধব নগর প্রশাসন গড়ে তোলা সম্ভব।
এজন্য সিসিকের প্রতিটি ওয়ার্ড, পাড়া-মহল্লা ও পরিবারের কাছে জামায়াতের প্রার্থীর পরিচয় ও তার পরিকল্পনা তুলে ধরতে হবে। এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর এ.টি.এম আজহারুল ইসলাম আরও বলেন, চারিত্রিক সৌন্দর্য ও আদর্শ নেতৃত্বের মাধ্যমে ইসলামের আদর্শ মানুষের সামনে তুলে ধরে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। নেতৃত্বের বিকাশ ও সাংগঠনিক মজবুতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। দায়িত্বশীলদের কথা ও কাজের মাধ্যমে ইসলামের আদর্শের সাক্ষ্য হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করতে হবে।
তিনি বলেন, ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে হলে চারিত্রিক সৌন্দর্যকে গুরুত্ব দিতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চরিত্র ছিল কুরআন, তাই কুরআনের আদেশ শতভাগ মেনে চলতে হবে এবং নিষেধ থেকে দূরে থাকতে হবে। তিনি বিজয়কে দুই ধরনের উল্লেখ করেন: দলের বিজয় (জনসমর্থন ও ক্ষমতা) এবং ব্যক্তিগত সফলতা (জান্নাতপ্রাপ্তি)।
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারী মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় এই শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়। এতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, জামায়াতের সিলেট অঞ্চল টিম সদস্য হাফিজ আব্দুল হাই হারুন, মহানগর নায়েবে আমীর হাফিজ মিফতাহুদ্দীন ও ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, এবং জেলা জামায়াত নেতা ও সাবেক দক্ষিণ সুরমা উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা লোকমান আহমদ বক্তব্য রাখেন।
মতামত (0)