মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ৫০ বছরের অ্যাকাডেমিক মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের জন্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের সরাসরি মতামত জানতে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন ক্লাসের ক্লাস প্রতিনিধি বা সিআরদের (সিআর) সাথে এই মতবিনিময় সভা আয়োজিত হয়।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (বিজিই) বিভাগের সেমিনার কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। অ্যাকাডেমিক মাস্টার প্ল্যান ফরমুলেশন কমিটি এই সভার আয়োজন করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি এবং অ্যাকাডেমিক মাস্টার প্ল্যান ফরমুলেশন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক মো: আনিছুর রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা কেবল অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর মূল ভিত্তি হলো মানসম্মত শিক্ষা, যুগোপযোগী কারিকুলাম, গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষ মানবসম্পদ এবং শিক্ষার্থীবান্ধব অ্যাকাডেমিক পরিবেশ। আগামী ৫০ বছরে মাভাবিপ্রবিকে একটি আন্তর্জাতিক মানের, গবেষণানির্ভর ও আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে এই অ্যাকাডেমিক মাস্টার প্ল্যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, এই পরিকল্পনায় শিক্ষার্থীদের মতামত ও প্রত্যাশাকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হবে। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের শিক্ষক, গবেষক, উদ্যোক্তা ও নেতৃত্বের অংশ হবে। শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা, প্রয়োজন ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা সম্পর্কে জানা ছাড়া একটি কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি অ্যাকাডেমিক পরিকল্পনা প্রণয়ন সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত, সময়োপযোগী ও ভবিষ্যতমুখী মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করতে কর্তৃপক্ষ আগ্রহী।
প্রো-ভিসি অধ্যাপক মো: আনিছুর রহমান বলেন, ৫০ বছরের অ্যাকাডেমিক মাস্টার প্ল্যান মাভাবিপ্রবির ভবিষ্যৎ পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপরেখা। সময়ের সাথে শিক্ষা ও প্রযুক্তির পরিবর্তন ঘটছে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে এমন একটি অ্যাকাডেমিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যেখানে আধুনিক শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে প্রতিফলিত হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের মতামত কর্তৃপক্ষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের প্রত্যাশা, সমস্যা, অ্যাকাডেমিক সুবিধা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার বিষয়গুলো মাস্টার প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করা গেলে এটি আরও কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক হবে। সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে মাভাবিপ্রবিকে আগামী দিনের একটি উৎকর্ষকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য রয়েছে।



মতামত (0)