রাজনীতিমিজানুর রহমানের গ্রেপ্তার ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন নিয়ে এমপির প্রতিবাদ
মিজানুর রহমানের গ্রেপ্তার ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন নিয়ে এমপির প্রতিবাদ
কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল গফুর ঢাকার মাটিকাটা থেকে মিজানুর রহমানের গ্রেপ্তার এবং তাকে ঘিরে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, গণমাধ্যমে তাকে ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।
ঢাকার মাটিকাটা এলাকা থেকে মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই গ্রেপ্তারের ঘটনা এবং তা নিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল গফুর। আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি এই প্রতিবাদ জানান।
সংসদ সদস্য মো. আব্দুল গফুর বলেন, প্রকাশিত এসব প্রতিবেদনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নাম জড়িয়ে এবং তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সম্পৃক্ত করে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। তিনি এই অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রকাশিত সংবাদে দাবি করা হয়েছে, মিজানুর রহমানকে তার নিজস্ব বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এই তথ্যকে তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক বলে অভিহিত করেন। সংসদ সদস্য জানান, ঢাকায় মাটিকাটায় তার নিজস্ব কোনো ব্যক্তিগত বাসা নেই। তিনি সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ‘ন্যাম ভবন’-এ অবস্থান করেন। তিনি মনে করেন, প্রকৃত তথ্য যাচাই না করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে তাকে বিতর্কিত ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
আব্দুল গফুর স্পষ্টভাবে বলেন, মিজানুর রহমানের সঙ্গে সংঘটিত বিষয়টি তার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক। এই ঘটনার সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। একইভাবে, মিজানুর রহমানের এই ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক বিরোধের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো সম্পর্ক নেই।
সংসদ সদস্য জানান, প্রকৃত ঘটনা সম্পূর্ণরূপে একটি ব্যবসায়িক লেনদেনকে কেন্দ্র করে। মিজানুর রহমানের ‘নিউ গ্রিন প্রোপার্টিজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল। ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে মিজানুর রহমানের পাওনা টাকা দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া ছিল।
তিনি আরও বলেন, মিজানুর রহমান আইনানুগভাবে পাওনা পরিশোধের দাবি জানাচ্ছিলেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের মালিক সাইফুল ইসলাম পাওনা টাকা পরিশোধ না করার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করেন। একপর্যায়ে পাওনা আদায়ের জন্য মিজানুর রহমান আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে থানায় মামলা দায়ের করেন।
উক্ত মামলার প্রেক্ষিতে ‘নিউ গ্রিন প্রোপার্টিজ’-এর মালিক সাইফুল ইসলাম মিজানুর রহমানকে পাওনা টাকার একটি অংশ পরিশোধ করতে বাধ্য হন। তবে অবশিষ্ট পাওনা পরিশোধ না করার উদ্দেশ্যে সাইফুল ইসলাম পরবর্তীতে পাল্টা একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলাটি পরবর্তীতে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় খারিজ হয়ে যায় বলে জানান আব্দুল গফুর।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি সংঘটিত ভাঙচুর বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সঙ্গে তার জানা মতে মিজানুর রহমানের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা ছিল না। আব্দুল গফুর মনে করেন, বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে ‘নিউ গ্রিন প্রোপার্টিজ’-এর মালিক সাইফুল ইসলাম পরিকল্পিতভাবে একটি সাজানো ঘটনা ও ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নিয়েছেন।
সংসদ সদস্য আরও উল্লেখ করেন, মিজানুর রহমানের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক বিরোধের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত একটি ঘটনাকে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করা মূলত রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের একটি অপকৌশল ছাড়া আর কিছু নয়। তিনি মনে করেন, একটি ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক বিরোধকে রাজনৈতিক রং দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা এবং একই সঙ্গে তাকে এ ঘটনায় জড়িয়ে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।
আব্দুল গফুর বলেন, এ ধরনের অপপ্রচার শুধু বিভ্রান্তিই সৃষ্টি করে না, বরং জনগণের কাছে প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করার সুযোগ তৈরি করে। তিনি মনে করেন, জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, রাজনৈতিকভাবে তাকে ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং প্রকৃত বিষয়কে আড়াল করার উদ্দেশ্যে একটি স্বার্থান্বেষী মহল গণমাধ্যমকে ব্যবহার করছে।
তিনি সংশ্লিষ্ট সকল গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান, কোনো পক্ষের দেওয়া একতরফা, অসম্পূর্ণ বা যাচাই-বাছাইহীন তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ না করে ঘটনার প্রকৃত সত্য অনুসন্ধান করতে হবে। সকল পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনেরও দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে যেসব গণমাধ্যমে এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, সেসব সংবাদ দ্রুত সংশোধন করে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে তুলে ধরার জন্য তিনি জোর দাবি জানিয়েছেন।
মতামত (0)