বিনোদন

মিঠুন চক্রবর্তীর অনন্য ক্যারিয়ার: ১৮০ ফ্লপ সত্ত্বেও ব্লকবাস্টার হিট

মিঠুন চক্রবর্তীর অনন্য ক্যারিয়ার: ১৮০ ফ্লপ সত্ত্বেও ব্লকবাস্টার হিট
মিঠুন চক্রবর্তীর অনন্য ক্যারিয়ার: ১৮০ ফ্লপ সত্ত্বেও ব্লকবাস্টার হিট
বলিউড অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী তার পাঁচ দশকের ক্যারিয়ারে ১৮০টি ফ্লপ ছবি থাকা সত্ত্বেও ৭২ বছর বয়সে ৩৫০ কোটির ব্লকবাস্টার হিট দিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন।

একজন অভিনেতার সাফল্য সাধারণত তার হিট ছবির সংখ্যা দিয়ে পরিমাপ করা হয়। টানা ব্যর্থ ছবি একজন তারকার ক্যারিয়ার শেষ করে দিতে পারে। তবে বলিউডের একজন অভিনেতার ক্যারিয়ারের গল্প প্রচলিত এই হিসাবকে পুরোপুরি উল্টে দেয়। প্রায় পাঁচ দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তার ঝুলিতে আছে প্রায় ১৮০টি ব্যর্থ ছবি।

এই অভিনেতা একসময় ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয় করা ছবির নায়ক ছিলেন। ৭২ বছর বয়সে তিনি তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক সাফল্য অর্জন করেন। এই অভিনেতা আর কেউ নন, তিনি মিঠুন চক্রবর্তী।

১৯৭৬ সালে নির্মাতা মৃণাল সেনের ‘মৃগয়া’ ছবি দিয়ে মিঠুন চক্রবর্তীর চলচ্চিত্র জগতে অভিষেক ঘটে। তার প্রথম ছবিতেই তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতে নেন। ভারতীয় সিনেমায় খুব কম অভিনেতার ভাগ্যেই এমন বিরল ঘটনা ঘটে থাকে।

আশির দশকের শুরুতে ‘শওকিন’ ও ‘আশান্তি’র মতো ছবিতে তিনি কাজ করেন। তবে ১৯৮২ সালের ‘ডিসকো ড্যান্সার’ তাকে সত্যিকার অর্থে তারকাখ্যাতি এনে দেয়। এই ছবিটি তাকে শুধু ভারতেই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ব্যাপক জনপ্রিয় করে তোলে।

বিশেষ করে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও রাশিয়ায় ‘ডিসকো ড্যান্সার’ ছবিটির ব্যাপক সাফল্য মিঠুন চক্রবর্তীকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। ছবিটি তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছবিগুলোর মধ্যে অন্যতম।

১৯৮৫ সালে রাশিয়ায় মুক্তির পর ‘ডিসকো ড্যান্সার’ বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০০ কোটি রুপি আয় করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সে সময় এটি ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয় করা ছবির মর্যাদাও পায়। এর আগে এ অবস্থানে ছিল ‘শোলে’ ছবিটি।

পরে ১৯৯৪ সালে ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’ ছবিটি সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। সেই সময়টি ছিল মিঠুন চক্রবর্তীর ক্যারিয়ারের সোনালি অধ্যায়। তবে সাফল্যের পাশাপাশি মিঠুন চক্রবর্তীর ক্যারিয়ারে অন্য এক প্রবণতাও শুরু হয়।

আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে তিনি ছবির সংখ্যা বাড়াতে থাকেন। এক বছরে তিনি কখনো ৮ থেকে ১২টি ছবিতেও অভিনয় করতেন। ছবির সংখ্যা বাড়লেও সব ছবির মান বা বাণিজ্যিক সাফল্য সমান ছিল না।

এর ফলস্বরূপ তার ক্যারিয়ারে ব্যর্থ ছবির সংখ্যা দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকে। নব্বইয়ের দশকে নতুন প্রজন্মের তারকাদের উত্থান ঘটে। এরপর মিঠুন চক্রবর্তী বেশি করে অভিনয় করেন কম বাজেটের অ্যাকশন ছবিতে।

এমন অনেক ছবি ছিল, যেগুলোর নির্মাণ কাজ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যেত। একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু নব্বইয়ের দশকেই তিনি প্রায় ১০০ ছবিতে অভিনয় করেন। এর বড় অংশই বক্স অফিসে সফল হয়নি।

মিঠুন চক্রবর্তীর সর্বশেষ একক নায়ক হিসেবে বাণিজ্যিক হিট ছবি ছিল ১৯৯৫ সালের ‘রাবণ রাজ’। অর্থাৎ, তিন দশকের বেশি সময় ধরে একক নায়ক হিসেবে তার কোনো বড় হিট ছবি নেই।

পাঁচ দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে মিঠুন চক্রবর্তী ২৭০টির বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন। সঠিক সংখ্যা নিয়ে ভিন্নতা থাকলেও, প্রতিবেদনের হিসাবে এর মধ্যে প্রায় ১৮০টি ছবি বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি অন্তত ৪৫টি ছবিকে বক্স অফিস ‘ডিজাস্টার’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

সংখ্যার হিসাবে এটি ভারতীয় কোনো প্রধান অভিনেতার জন্য বিরল এক রেকর্ড। তবে মিঠুন চক্রবর্তীর গল্পের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক সম্ভবত এখানেই। এত ব্যর্থতার পরও তার তারকাখ্যাতি ও দর্শকপ্রিয়তা পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি।

২০০০ সালের পর মিঠুন চক্রবর্তী ধীরে ধীরে চরিত্রাভিনেতা ও পার্শ্বচরিত্রে বেশি কাজ করতে শুরু করেন। টেলিভিশনের রিয়েলিটি শোতেও তাকে নিয়মিত দেখা গেছে। কিন্তু তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক সাফল্য আসে অনেক পরে।

২০২২ সালে বিবেক অগ্নিহোত্রীর ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ ছবিতে মিঠুন চক্রবর্তী অভিনয় করেন। সে সময় তার বয়স ছিল ৭২ বছর। কম প্রত্যাশা নিয়ে মুক্তি পাওয়া ছবিটি পরে বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করে।

ছবিটি বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৫০ কোটি রুপি আয় করে। এটিই মিঠুন চক্রবর্তীর ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ আয় করা ছবি। ১৮০টি ফ্লপের হিসাব নিঃসন্দেহে মিঠুন চক্রবর্তীর ক্যারিয়ারের এক বিস্ময়কর পরিসংখ্যান।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...