খেলাধুলা

মরিনহোর প্রত্যাবর্তনে এমবাপের হ্যাটট্রিকে রিয়ালের দাপুটে জয়

মরিনহোর প্রত্যাবর্তনে এমবাপের হ্যাটট্রিকে রিয়ালের দাপুটে জয়
মরিনহোর প্রত্যাবর্তনে এমবাপের হ্যাটট্রিকে রিয়ালের দাপুটে জয়
হোসে মরিনহোর প্রত্যাবর্তনের রাতে কিলিয়ান এমবাপের হ্যাটট্রিকে রিয়াল মাদ্রিদ ৪-১ গোলে রিয়াল সোসিয়েদাদকে হারিয়েছে। এটি ছিল লা লিগায় মরিনহোর অধীনে দলের টানা দ্বিতীয় জয়।

রিয়াল মাদ্রিদ ৪-১ গোলে রিয়াল সোসিয়েদাদকে পরাজিত করেছে। এই জয়ের রাতে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে দীর্ঘ ১৩ বছর পর হোসে মরিনহোর প্রত্যাবর্তন ঘটে। পর্তুগিজ কোচের অধীনে লা লিগায় এটি দলের টানা দ্বিতীয় জয়। কিলিয়ান এমবাপে হ্যাটট্রিক দিয়ে নতুন মৌসুমের গোলের খাতা খুলেছেন।

ফরাসি ফরোয়ার্ড এমবাপের হ্যাটট্রিকটি ছিল তার দুর্দান্ত ফর্মের প্রতিফলন। এই তিন গোল নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে এমবাপের মোট গোলসংখ্যা ১০৫ ম্যাচে ৮৯-এ পৌঁছেছে। ম্যাচের শুরু থেকেই তিনি আক্রমণভাগে নিজের প্রভাব বিস্তার করেন।

রিয়ালের পক্ষে এমবাপের তিনটি গোলের সাথে ভিনিসিউস জুনিয়র একটি গোল করেন। অন্যদিকে, রিয়াল সোসিয়েদাদের একমাত্র গোলটি আসে লুকা সুচিকের পা থেকে। আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের মধ্য দিয়ে ম্যাচটি জমে ওঠে।

ম্যাচ শুরুর আগে হোসে মরিনহোকে স্টেডিয়ামের দর্শকরা উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। তার নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে পুরো গ্যালারি গর্জে ওঠে। রিয়ালে তার প্রথম মেয়াদ শেষ হওয়ার দীর্ঘ ১৩ বছর পর তিনি আবারও বার্নাব্যুর দর্শকদের সামনে দাঁড়ালেন।

বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দলের সদস্য রিয়ালের ফুল-ব্যাক মার্ক কুকুরেয়াকে ম্যাচের আগে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। বিশ্বকাপ ট্রফির আদলে তৈরি একটি স্মারক নিয়ে তিনি মাঠে প্রবেশ করেন। তার সঙ্গে ছিলেন সোসিয়েদাদের মিকেল ওইয়ারজাবাল, যিনিও স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন।

ম্যাচের শুরুতে অবশ্য রিয়াল সোসিয়েদাদ গোলের সুযোগ তৈরি করে। ওইয়ারজাবালের একটি জোরালো শট রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া দক্ষতার সঙ্গে ঠেকিয়ে দেন। এরপর ধীরে ধীরে রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে শুরু করে।

মাঝমাঠে রিয়ালের আক্রমণ তৈরিতে আরদা গুলের ও জুড বেলিংহ্যাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ভিনিসিউসের একটি শট সোসিয়েদাদ গোলরক্ষক অ্যালেক্স রেমিরো রুখে দেন। এমবাপের একটি প্রচেষ্টাও তিনি দক্ষতার সঙ্গে ব্যর্থ করে দেন।

অবশেষে ৪০তম মিনিটে রিয়াল ডেডলক ভেঙে এগিয়ে যায়। ফেদেরিকো ভালভার্দের একটি চমৎকার পাস পেয়ে কিলিয়ান এমবাপে প্রথম স্পর্শেই নিজেকে শট নেওয়ার অবস্থানে নিয়ে যান। এরপর বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

মাত্র দুই মিনিট পর এমবাপে আবারও ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে রেমিরোর দৃঢ়তার কারণে সে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। বিরতির ঠিক আগে সোসিয়েদাদ সমতায় ফেরে।

সার্জিও গোমেজের পাস থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে জব ওচিয়েংয়ের শট ডিফ্লেক্ট হয়ে লুকা সুচিকের সামনে আসে। সুযোগ পেয়ে সুচিক জোরালো শটে কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন। ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ সমতায়।

দ্বিতীয়ার্ধে রিয়াল মাদ্রিদ আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে। সোসিয়েদাদের গোলরক্ষক রেমিরো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে ম্যাচে ধরে রাখেন। এ সময় সাইডলাইনে কোচ মরিনহোকে বেশ উত্তেজিত দেখা যায় এবং রেফারির কিছু সিদ্ধান্তে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

ম্যাচের ৬০তম মিনিটে এমবাপে আবারও রিয়ালকে এগিয়ে দেন। বাম প্রান্ত দিয়ে কুকুরেয়া ও ভালভার্দের সমন্বয়ে আক্রমণ তৈরি হয়। এরপর বেলিংহ্যামের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে সোসিয়েদাদের রক্ষণ ভেঙে বক্সে ঢুকে পড়েন এমবাপে। ঠান্ডা মাথায় রেমিরোর পাশ দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে তিনি স্কোরলাইন ২-১ করেন।

এর আট মিনিট পর রিয়াল ব্যবধান আরও বাড়ায়। বেলিংহ্যামের প্রচেষ্টার পর বল পেয়ে ভিনিসিউসের সামনে সুযোগ তৈরি করে দেন তিনি। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড সহজ ট্যাপ-ইনে গোল করে রিয়ালের লিড ৩-১ করেন।

ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে এমবাপে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। ভিনিসিউসের নিখুঁত থ্রু বল পেয়ে গোলরক্ষকের মুখোমুখি হয়ে তিনি চমৎকার চিপে বল জালে পাঠান। রিয়ালের জার্সিতে এটি এমবাপের ৮৯তম গোল যা মাত্র ১০৫ ম্যাচেই অর্জিত হয়েছে।

শেষদিকে ব্রাহিম দিয়াজের একটি গোল ভিএআরের পর্যালোচনার পর বাতিল হয়। তবে তাতে রিয়ালের বিশাল জয় আটকায়নি। শেষ পর্যন্ত ৪-১ ব্যবধানের জয় নিয়েই স্বাগতিকরা মাঠ ছাড়ে।

রিয়ালের দায়িত্বে ফিরেই মরিনহোর শুরুটা হলো টানা দুই লিগ জয় দিয়ে। মৌসুমের প্রথম ম্যাচে এস্পানিওলের বিপক্ষে অ্যাওয়ে জয়ের পর এবার নিজেদের মাঠে সোসিয়েদাদের বিপক্ষেও জয় পেল দলটি। দ্বিতীয় ম্যাচে জয়টি এসেছে আরও দাপুটে পারফরম্যান্সে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...