কুমিল্লার মুরাদনগরে মাদকবিরোধী সমাবেশ ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কর্মসূচি থেকে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে মাদক নির্মূলে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
‘মাদককে না বলুন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ুন’ এই প্রত্যয়ে বুধবার বিকেলে উপজেলার গুঞ্জর সমিতির খেলার মাঠে এই আয়োজন করা হয়। মুরাদনগর থানা ও নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের উদ্যোগে এটি পরিচালিত হয়। ‘শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও প্রগতি’ ছিল এই সমাবেশের প্রতিপাদ্য।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুধীসমাজের প্রতিনিধি এবং তরুণ-যুবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নবীপুর পূর্ব ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রুহুল আমিন তুহিন।
কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের ছয়বারের সংসদ সদস্য ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ এমপির প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি।
সমাবেশে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, মাদক সেবনকারী বা বিক্রেতা কারও সঙ্গে পুলিশের কোনো আপস নেই। কোনো মাদক কারবারি ও সেবনকারীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
ওসি চৌধুরী আরও জানান, যতদিন মুরাদনগরে মাদক থাকবে, ততদিন মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের যুদ্ধ চলবে। মাদকবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। মুরাদনগরের প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে মাদকবিরোধী র্যালি ও সমাবেশ আয়োজন করা হবে।
তিনি মাদক নির্মূলে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। বক্তারা বলেন, মুরাদনগরের ছয়বারের সংসদ সদস্য ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের নির্দেশনা অনুযায়ী যেকোনো মূল্যে মুরাদনগরকে মাদকমুক্ত করতে হবে।
তারা আরও উল্লেখ করেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও পুরো সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। তাই মাদক নির্মূলে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।



মতামত (0)