নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ, শোডাউন ও হামলার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এসব ঘটনা ঘটে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সর্বশেষ গত ২৪ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলামকে নোয়াখালী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাফরাতুল ইসলাম নাবিলসহ কয়েকজন বহিরাগতকে নিয়ে ক্যাম্পাসে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে তারা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেন। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়।
এর আগে গত ১৮ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেনের বিরুদ্ধে বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকপন্থী নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। এক সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে বহিরাগতদের সম্পৃক্ততায় হামলা ও শোডাউনের পৃথক অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ছাত্রদলের বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে চলমান ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিবেশকে ব্যাহত করছে। তিনি অভিযোগ করেন, এসব ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ক্যাম্পাস সাংবাদিকেরাও হামলার শিকার হয়েছেন, তবে এখনো কোনো বিচার হয়নি। সংঘর্ষের জেরে প্রশাসন পকেট গেট বন্ধ করে দেওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন বলেও জানান তিনি।
মেহেদী হাসান আরও বলেন, ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে আনা হচ্ছে, যা অ্যাকাডেমিক পরিবেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ক্লাস-পরীক্ষা চলাকালে বহিরাগতদের নিয়ে মোটরসাইকেল শোডাউন দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার পরও এ ধরনের কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করছে।



মতামত (0)