জাতীয়

ওবায়দুল করিমের বিদেশ যাত্রার অনুমতির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাচ্ছে দুদক

ওবায়দুল করিমের বিদেশ যাত্রার অনুমতির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাচ্ছে দুদক
ওবায়দুল করিমের বিদেশ যাত্রার অনুমতির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাচ্ছে দুদক
নিম্ন আদালতের আদেশে ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওবায়দুল করিম ও তার পরিবারের সদস্যদের বিদেশ গমনের অনুমতি দেওয়ার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওবায়দুল করিম এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিদেশ গমনের অনুমতি দেওয়ার নিম্ন আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত রবিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত ওবায়দুল করিম, তার স্ত্রী আরজুদা করিম ও ছেলে সালমান ওবায়দুল করিমকে তিন মাসের জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে গতকাল সোমবার কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে দুদক রিভিশন দায়েরের সিদ্ধান্ত নেয়। দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের নির্দেশ অনুযায়ী মোহাম্মদ ওবায়দুল করিম ও তার পরিবারের সদস্যদের সব পাসপোর্ট নিম্ন আদালতে জমা থাকার কথা ছিল। তবে এই আদেশের বিষয়টি গোপন করে তারা বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। গত রবিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির শুনানি শেষে তাদের তিন মাসের জন্য বিদেশযাত্রার অনুমতি দেন।

শুনানিতে ওবায়দুল করিমের পক্ষে অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান বক্তব্য উপস্থাপন করেন। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট দেলোয়ার জাহান রুমি। অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের আদেশের বিষয়টি শুনানিতে উপস্থাপন করা হলেও আদালত দুদকের বক্তব্য আমলে না নিয়ে ওবায়দুল করিমের আবেদন মঞ্জুর করেন।

ঋণ জালিয়াতি, অর্থ পাচার, অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগে ওবায়দুল করিম, তার স্ত্রী আরজুদা করিম ও ছেলে সালমান ওবায়দুল করিমের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। এসব প্রেক্ষাপটে গত ৫ মার্চ হাইকোর্ট তাদের সব পাসপোর্ট নিম্ন আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে তারা আপিল বিভাগে আবেদন করেছিলেন।

গত ২০ মে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ শুনানি শেষে ওই আবেদনটি খারিজ করে দেন এবং সব পাসপোর্ট জমা দেওয়ার আদেশ বহাল রাখেন। এরপরও ওবায়দুল করিম তার বিদেশ গমন নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত দুদকের পিটিশনটি ঢাকা মহানগর সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও গত রবিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। তারা এক বছরের জন্য বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি চেয়েছিলেন।

নানাবিধ দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান থাকায় দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ওবায়দুল করিমসহ পরিবারের সদস্যদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন আদালত। আবেদনে বলা হয়েছিল, ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে এবং প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবেদনটির শুনানি শেষে আদালত ওবায়দুল করিম ও তার পরিবারের সদস্যদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

পরে ওবায়দুল করিম অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে বিদেশ যেতে চাইলে ওই বছরের ১৭ মার্চ আদালত তা মঞ্জুর করেন। তিনি মামলায় এবং তার আবেদনসহ সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নম্বর ব্যবহার করলেও আদালতের আদেশ পাওয়ার পর ডমিনিকান পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশে যান। এরপর তারা দেশে ফিরলে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওবায়দুল করিম ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিদেশযাত্রা বন্ধ হয়।

তারা পুনরায় বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে গত মার্চ মাসে হাইকোর্টে আবেদন করেন। শুনানি শেষে গত ৫ মার্চ হাইকোর্ট আবেদনটি নামঞ্জুর করে তাদের সব ধরনের পাসপোর্ট নিম্ন আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে তারা আপিল বিভাগে ক্রিমিনাল পিটিশন নম্বর-১০৮৯/২০২৬ দায়ের করেন।

এই আবেদনটি শুনানি চলমান থাকা অবস্থায় গত ১৪ মে ওবায়দুল করিম ও তার স্ত্রী ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। সেদিন শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ আবেদনটি খারিজ করে দেন। এদিকে আপিল বিভাগের আবেদনটি (ক্রিমিনাল পিটিশন নম্বর-১০৮৯/২০২৬) গত ২০ মে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ শুনানি শেষে খারিজ করেন।

ঋণের নামে জালিয়াতির মাধ্যমে মার্কেন্টাইল ব্যাংক থেকে প্রায় ৫০৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত ৮ জানুয়ারি ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওবায়দুল করিম, তার স্ত্রী আরজুদা করিম ও ছেলে সালমান ওবায়দুর করিমসহ মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। দুদকের উপপরিচালক মো. রাশেদুল ইসলাম মামলাটি দায়ের করেন এবং এর তদন্ত চলমান রয়েছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...