জাতীয়অভিনয়ের জন্য মুখের অভিব্যক্তি ধরে রাখতে চান জেনিফার লরেন্স
অভিনয়ের জন্য মুখের অভিব্যক্তি ধরে রাখতে চান জেনিফার লরেন্স
অস্কারজয়ী অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্স বোটক্সসহ কসমেটিক প্রক্রিয়া নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, অভিনয়ের জন্য মুখের স্বাভাবিক নড়াচড়া বজায় রাখা তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
অস্কারজয়ী অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্স সম্প্রতি তাঁর সৌন্দর্যচর্চা ও কসমেটিক–প্রক্রিয়া নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মুখের অভিব্যক্তি তাঁর অভিনয়ের জন্য অপরিহার্য, তাই অতিরিক্ত বোটক্স নেওয়ার ঝুঁকি নিতে চান না। হলিউডে বয়স ধরে রাখার যে চাপ রয়েছে, বিশেষ করে অভিনেত্রীদের ক্ষেত্রে, সেই বাস্তবতার মধ্যেই তিনি এই মন্তব্য করেন।
ভোগ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেনিফার লরেন্স বলেন, তিনি মুখের স্বাভাবিক নড়াচড়া বজায় রাখতে চান। এ কারণে খুব বেশি কসমেটিক–প্রক্রিয়া করান না। তিনি ‘বেবি বোটক্স’ ব্যবহার করেন, কিন্তু বেশি মাত্রা এড়িয়ে চলেন।
জেনিফার লরেন্সের ভাষ্য অনুযায়ী, "আমি আসলে খুব বেশি কিছু করাতে পারি না। আমার মুখে নড়াচড়া থাকা দরকার। আমি বেবি বোটক্স নিই, কিন্তু বেশি নিতে পারি না। আমার ত্বক হয়তো আমার পছন্দের চেয়ে একটু বেশি ঝুলে পড়বে, কিন্তু অন্তত দেখতে উজ্জ্বল ও সুন্দর লাগবে।" মুখের স্বাভাবিকতা ধরে রাখা বয়সের ছাপ পুরোপুরি মুছে ফেলার চেয়ে তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মুখে অতিরিক্ত কসমেটিক–প্রক্রিয়ার কারণে স্বাভাবিক অভিব্যক্তি হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে যখন হলিউডে আলোচনা চলছে, তখনই জেনিফার লরেন্সের এই মন্তব্য আসে। অভিনেত্রী ও পরিচালক অলিভিয়া ওয়াইল্ডও পূর্বে একই প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, পরিচালক হিসেবে এমন অভিনেত্রী খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে, যাঁরা এখনো মুখের স্বাভাবিক অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে পারেন।
ওয়াইল্ডের মতে, বিনোদনজগতের বয়স ও সৌন্দর্য নিয়ে চাপের শিকার তিনি নিজেও। একদিকে বয়সের ছাপ দেখা দিলে সমালোচনা হয়, অন্যদিকে সেই ছাপ মুছে ফেলতে কসমেটিক–প্রক্রিয়ার সাহায্য নিলেও প্রশ্ন ওঠে। তিনি মনে করেন, এই পরিস্থিতিতে জেতার কোনো সহজ উপায় নেই।
তবে জেনিফার লরেন্স সব ধরনের কসমেটিক–প্রক্রিয়ার বিরোধী নন। তিনি জানান, কিছু প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁর দ্বিধা রয়েছে, বিশেষ করে ‘ফ্যাট ট্রান্সফার’ করাতে তিনি বেশ নার্ভাস। তিনি অন্যদের ক্ষেত্রে এর ফলাফল দেখতে চান, তবে নিজের জন্য এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি।
জেনিফার লরেন্স ‘বাকাল ফ্যাট রিমুভাল’ করাতে আগ্রহী বলেও মজা করে জানান। তবে তাঁর ধারণা, তিনি এটি করালে মানুষের চোখে বিষয়টি খুব সহজেই ধরা পড়ে যাবে। গালের গঠন বড় হওয়ায় তিনি রেডিওফ্রিকোয়েন্সি ধরনের কিছু চিকিৎসা পছন্দ করেন।
কসমেটিক–প্রক্রিয়া নিয়ে এই খোলামেলা মন্তব্যের পাশাপাশি জেনিফার লরেন্সের ক্যারিয়ারও বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছে। গত বছরের পুরস্কার মৌসুমে তিনি আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন। ‘ডাই মাই লাভ’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি ব্যাপক প্রশংসা পান।
ছবিটির প্রিমিয়ার কান চলচ্চিত্র উৎসবে হয় এবং জেনিফার সেরা নাট্যধর্মী চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী বিভাগে গোল্ডেন গ্লোবের মনোনয়নও পান। জনপ্রিয় ‘হাঙ্গার গেমস’ সিরিজের চরিত্র ক্যাটনিস এভারডিন হিসেবেও জেনিফারকে আবার দেখা যাওয়ার কথা রয়েছে। আগামী নভেম্বরে মুক্তি প্রতীক্ষিত প্রিকুয়েল ছবি ‘সানরাইজ অন দ্য রিপিং’-এ ছোট একটি চরিত্রে তাঁর উপস্থিতির সম্ভাবনা আছে।
এরপর জেনিফার লরেন্সের সামনে আরও একটি বড় প্রকল্প রয়েছে। কিংবদন্তি পরিচালক মার্টিন স্করসেজির ‘হোয়াট হ্যাপেন্স অ্যাট নাইট’ ছবিতে লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর বিপরীতে অভিনয় করবেন তিনি। ছবিটি আগামী বছর মুক্তি পাওয়ার কথা। জেনিফার লরেন্সের অভিনয়ের বড় শক্তিগুলোর একটি হলো তাঁর মুখের অভিব্যক্তি, যা দিয়ে তিনি চরিত্রের বিস্ময়, কান্না বা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাই বয়সকে পুরোপুরি অস্বীকার করার চেয়ে অভিনেত্রী হিসেবে নিজের সেই শক্তি ধরে রাখাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
মতামত (0)