জাতীয়

ফেনীতে ডেঙ্গু ও হামের প্রকোপ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক

ফেনীতে ডেঙ্গু ও হামের প্রকোপ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক
ফেনীতে ডেঙ্গু ও হামের প্রকোপ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক
ফেনীতে ডেঙ্গু ও হামের প্রকোপ বেড়েছে। চলতি বছর ৩০৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন, যা গত বছরের মোট সংখ্যাকে ছাড়িয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৯১ জন।

ফেনী জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপের পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত চলতি বছর জেলায় ১ হাজার ৫৯১ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে ৫৯ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

চলতি বছর জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩০৫ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৬ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। গতকাল রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৯ জন হাম উপসর্গের রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে এ ধরনের রোগীর সংখ্যা মোট ১১১ জনে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসা শেষে ছয়জন রোগী বাড়ি ফিরে গেছেন।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ১ হাজার ৫৪৩ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৪৮৪ জন রোগী চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন। ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ১ হাজার ৩৩০ জন সন্দেহজনক হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে ১ হাজার ২৭১ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং বর্তমানে ৫৯ জন চিকিৎসাধীন আছেন।

অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মধ্যে দাগনভূঞায় ৫৬ জন, ছাগলনাইয়ায় ১৮ জন, ফুলগাজী ও পরশুরামে দুজন করে এবং সোনাগাজীতে ১৩২ জন সন্দেহজনক হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন। জেলা পর্যায়ের হিসাবে, ফেনী পৌর এলাকায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যা ১ হাজার ৩৩০ জন। তাদের মধ্যে ২২ জনের পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে।

সোনাগাজীতে ১৪৫ জন সন্দেহজনক রোগীর মধ্যে আটজন, দাগনভূঞায় ৫৬ জনের মধ্যে চারজন এবং ফেনী সদর উপজেলায় ১৭ জনের মধ্যে দুজন হাম আক্রান্ত হয়েছেন। ফুলগাজীতে সাতজনের মধ্যে দুজন এবং ছাগলনাইয়ায় ২৯ জনের মধ্যে একজন রোগীর হাম শনাক্ত হয়েছে। পরশুরামে সাতজন সন্দেহজনক রোগী পাওয়া গেলেও তাদের কারও পরীক্ষায় হাম ধরা পড়েনি।

অন্যদিকে, ফেনীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতিও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। গতকাল রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৪১টি ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ২৫ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে একজনসহ মোট ২৬ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

চলতি সেপ্টেম্বর মাসে নতুন করে ৫৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে ২০২৬ সালে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৩০৫ জনে পৌঁছেছে। চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের দিক থেকে ফেনী সদর উপজেলা এগিয়ে, যেখানে মোট ১৯৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

দাগনভূঞায় ৩৬ জন, সোনাগাজীতে ৩০ জন, ছাগলনাইয়ায় ২০ জন, ফুলগাজীতে ১১ জন এবং পরশুরামে ১০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত ২৬ জনের মধ্যে ফেনী সদরে ১৮ জন, সোনাগাজীতে পাঁচজন, ছাগলনাইয়ায় দুজন এবং ফুলগাজীতে একজন রয়েছেন। সেপ্টেম্বরের প্রথম কয়েক দিনে ফেনী সদরে ৪৫ জন, সোনাগাজীতে সাতজন, ছাগলনাইয়ায় চারজন, ফুলগাজীতে দুজন এবং দাগনভূঞায় একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর ফেনীতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা গত বছরের মোট আক্রান্তের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৫ সালে জেলায় মোট ২০১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন। চলতি বছরের ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৩০৫ জন, যা গত বছরের তুলনায় ১০৪ জন বেশি।

এদিকে, শহরে পর্যাপ্ত মশক নিধন কার্যক্রম না থাকার অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বাড়ছে। মশার উপদ্রব বাড়লেও অনেক এলাকায় নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম চোখে পড়ছে না বলে তারা অভিযোগ করছেন। এতে ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও বাড়ছে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে ফেনী পৌরসভার মেডিকেল অফিসার কৃষ্ণপদ সাহা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পৌর এলাকার ১৮টি ওয়ার্ডে নিয়মিত ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। ড্রেন পরিষ্কার করার পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহের শনিবার ও মঙ্গলবার ওষুধ ছিটানো হয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...